মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা

মদিনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট। মদিনা মদিনার আলোকেই মর্যাদাময়। মদিনায় সর্বপ্রথম আজানের প্রবর্তন হয়। মদিনা থেকে ঐতিহাসিক বদর, ওহুদসহ অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালনা করেন নবী করিম (সা.)। মদিনাই ইসলামী শক্তি নিকেতন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। এতে হিজরত করার জন্য নবীজি (সা.) আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত হন। মদিনার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুবিশাল এলাকাজুড়ে মসজিদে নববি। এতে রয়েছে সাহাবাদের পাঠদান কেন্দ্র ঐতিহাসিক সুফফা মাদ্রাসা।  মদিনার অসীম মর্যাদার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। এর বৈশিষ্ট্যের বর্ণনার অন্ত নেই। মদিনাই একমাত্র মুসলিম উম্মাহর মোহনীয় পুণ্যভূমি। 
মদিনা মানুষকে বিশুদ্ধ করে : মদিনা একটি পবিত্র স্থান। এটি অপবিত্রকে কোনোভাবেই গ্রহণ করে না। মদিনার তেজোদীপ্ত পরিবেশে কেউ অন্যায় কাজে জড়িত হতে পারে না। কোনো অসভ্য লোক এর ভূখ-ে বিচরণ করতে পারে না। মদিনা মন্দ লোকের আবাসভূমি নয়, বরং নবীপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্র। কারণ, মদিনা মানুষকে বিশুদ্ধ করে এবং আলোকিত জীবনের সবক প্রদান করে। মদিনার ছোঁয়ায় মোমিনের অন্তর থেকে অন্ধকার দূরীভূত হয় আর ঈমানি প্রদীপ হয় দীপ্তিময়। এটাই মদিনার ঐতিহাসিক মর্যাদাময় বৈশিষ্ট্য। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, আমি এমন এক লোকালয়ে হিজরতের জন্য আদিষ্ট হলাম, যে লোকালয় অন্য বস্তিগুলোকে গ্রাস করবে। লোকে বলে তাকে ইয়াসরিব আর তা হলো মদিনা। মদিনা মানুষকে বিশুদ্ধ করে যেভাবে হাঁপর খাদ ঝরিয়ে লোহাকে বিশুদ্ধ করে। (বোখারি : ১৯০৪)।
আরও বলেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মদিনা তার মন্দ লোকদের দূর করে দেবে না; যেভাবে দূর করে দেয় হাপর লোহার খাদকে। (মুসলিম : ৩৪১৮)
দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না : কেয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব একটি ভয়ঙ্কর আলামত। দাজ্জাল সব জায়গায় আধিপত্য বিস্তার করবে। কিন্তু পৃথিবীর দুটি পবিত্র ভূমিতে দাজ্জালের আধিপত্য চলবে না; আর তা হলো মক্কা এবং মদিনা। মদিনার দ্বারগুলোয় ফেরেশতারা পাহারায় থাকবে। এ ফেরেশতারা দাজ্জালের মদিনায় প্রবেশ রুখে দেবে। দাজ্জাল কোনোভাবেই মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। পবিত্র মদিনা অপবিত্র কাফের দাজ্জালের প্রবেশকে কখনও সহ্য করবে না। এটি মদিনার গৌরবময় মর্যাদাগুলোর মধ্যে অনন্য। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, মদিনার দ্বারগুলোয় ফেরেশতারা পাহারায় রয়েছে। সুতরাং তাতে মহামারি ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি : ১৯১৩)। 
রাসুল আরও বলেন, মদিনায় কানা দাজ্জালের প্রভাব পৌঁছবে না। তৎকালে মদিনার সাতটি দরজা হবে এবং প্রত্যেক দরজায় দুইজন করে ফেরেশতা মোতায়েন থাকবে। (বোখারি : ১৯১২)। 
নবীজির রওজার জিয়ারতকারী সুপারিশপ্রাপ্ত হবে : কবর জেয়ারত সাধারণত সুন্নত। এতে কবরবাসীর গোনাহ ক্ষমা হয় এবং নাজাত লাভ হয়। তবে নবীজি (সা.) এর রওজা মোবারক জেয়ারত করার মধ্যে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যারা নবী করিম (সা.) এর কবর জিয়ারতের উদ্দেশে মদিনা পাড়ি জমাবে কেয়ামত দিবসে তারা নবীজির পাশে থাকবে। এ নৈকট্য লাভের জন্য প্রতিদিন নবীজির উম্মতরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বুক ভরা ভালোবাসা নিয়ে মদিনার পানে ছুটে যান। এছাড়াও যারা হজ করতে গিয়ে নবীজির রওজার জেয়ারত করে, তাদের নবী করিম (সা.) এর সরাসরি সাক্ষাৎ লাভের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যে শুধু আমার জেয়ারতের উদ্দেশে এসে আমার জেয়ারত করবে, কেয়ামতের দিন সে আমার পাশে থাকবে। (মেশকাত : ২৬৩৫)। 
রাসুল আরও বলেন, যে হজ করেছে, অতঃপর আমার জেয়ারত করেছে আমার ইন্তেকালের পরে, সে হবে ওই ব্যক্তির মতো যে আমার জীবনে আমার সঙ্গে সাক্ষাত করেছে। (বাইহাকি)  
মদিনায় মৃত্যুবরণের ফজিলত : মদিনার মাটিতে শুয়ে আছেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ মাটি কতই না ধন্য। রাসুল (সা.) এর শহর মদিনায় মৃত্যু নসিবের জন্য হজরত ওমর (রা.) সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করলেন এবং নবীজির পাশেই ওমর (রা.) কে কবরস্থ করা হয়। তাই প্রত্যেক মোমিনকে স্বীয় মৃত্যু মদিনায় হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা উচিত। মদিনায় মৃত্যু হওয়ার আকাক্সক্ষা নিয়ে জীবন গড়াও সওয়াবের কাজ। কারণ হাদিসে আছে, মদিনায় মৃত্যুবরণকারী মোমিন কেয়ামতের দিন নবীজির সুপারিশপ্রাপ্ত হবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যে মদিনায় মরতে পারে সে যেন তাতে মরে। কেননা, যে মদিনায় মরবে আমি তার জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করব। (তিরমিজি : ৩২৩১)। 
বেহেশতের টুকরা রিয়াজুল জান্নাত : মদিনা মুনাওয়ারায় বেহেশতের একখ- জমি আছে, তা মসজিদে নববিতে। এই জমির নাম বেহেশতের বাগান, রিয়াজুল জান্নাত। নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মাঝখানের জায়গাটুকু বেহেশতের অন্যতম বাগান।’ (বোখারি : ১১৯৬; মুসলিম : ১৩৯১) 
তুর্কি সুলতান আবদুল মজিদের আমলে মসজিদে নববি নির্মাণের সময় ‘রিয়াজুল জান্নাত’ অংশটি সাদা স্তম্ভের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বর্তমানে রওজা শরিফ সংলগ্ন এই অংশটিতে সবসময় সাদা কার্পেট বিছানো থাকে। এখানে ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত ৭টি স্তম্ভের গায়ে আরবিতে নাম লেখা আছে।

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত