ওদের প্রতিভা বিকাশের দায়িত্ব আমাদেরই

ওরা সবাই আমাকে ভালোবাসে। দূর থেকে আমাকে দেখতে পেলেই ভাইয়া বলে সবাই দৌঁড় দেয় কে কার আগে আসতে পারে সেই প্রতিযোগীতা চলে ওদের মধ্যে। ওদের সঙ্গে আমার পরিচয় বেশী দিনের না। আমার বাসার পাশেই একটি ঘনবসতি এলাকায় ওরা থাকে। প্রায়ই দিনই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়ার পথে ওদের সঙ্গে গল্প হয়। কে কি করে? কার বাসা কোথায়? কে কোন স্কুলে পড়ে? ইত্যাদি ইত্যাদি। হাতে সময় থাকলে ওদের নিয়ে গল্প ও মজার তালে তালে ওদের প্রতিভাগুলো বোঝার চেষ্টা করি। এই অল্প কয়েকদিনে ওরা আমাকে চিনে ফেলেছে এখন ব্যস্ততা থাকলে ওদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাস্তা পার হতে হয় আমাকে। 

ওরা শিশু আর শিশু মানেই অবুঝ। পারিবারিক অসচেতনার কারণে ওদের অনেকের জীবন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠছে। স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেও ওরা এখনো অনেকেই স্কুলে ভর্তি হয়নি। এমন দুই শিশুকে এই অল্প সময়ে আমার উদ্যোগে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি চিন্তা করেছি সপ্তাহে একদিন সবাইকে নিয়ে ছড়া ও পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে ওদের পড়াবো। এ জন্য আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রয়োজন হবে। যারা স্বেচ্ছায় ওদের জন্য শ্রম দিবে। 

প্রতিটি শিশুর মাঝেই আছে সুপ্ত প্রতিভা। সবার প্রতিভার ধরণ এক নয়। বৈশিষ্ট অনুযায়ী এদের প্রতিভার ধরণেও আছে ভিন্নতা। তবে এটাই দুঃখজনক যে, তাদের এই গুণগুলো সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে না। আর এটি না হওয়ার পিছনে আমার মতে (১) সচেতনতার অভাব (২) প্রতিভার বিষয়টি চিহ্নিত করতে না পারা (৩) ওদের গুরুত্ব না দেওয়া‌ (৪) এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকা (৫) আর্থিক অবস্থার সংকট ইত্যাদি। 

মনে রাখতে হবে একটি শিশু মানে আগামী বাংলাদেশ। একটি শিশু যত বিপর্যয়ে বড় হবে ততই একটি দেশের ঝুঁকি বাড়বে। একটি শিশুকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে গড়ে উঠবে একটি সোনার বাংলা। জানি, আমাদের হয়তো পর্যাপ্ত সব সুযোগ সুবিধা নেই, সংকট আছে খেলার মাঠের, সংকট জলাশয়ের, সংকট মুক্ত বায়ুর, সংকট উদ্যোগের, সংকট পৃষ্ঠপোষকতার। তবু তো আমরা স্বপ্ন দেখতে জানি।

আমাদের অনেক কিছুই দরকার শিশুদের প্রতিভা বিকশিত করার জন্য। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের সচেতনতার এবং দায়িত্ব নেওয়ার।

আমাদের দায়িত্বশীল আচরণের জন্য একটি শিশুর জীবন সাফল্যের আলোকে উদ্ভাসিত হতে পারে। আবার আমাদের দায়িত্বহীন আচরণ বা অজ্ঞতার কারণে একটি শিশুর সারাটা জীবন গহীন অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিম্মজ্জিত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী। মনে রাখতে হবে সমাজের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিটি শিশুই সম্ভাবনাময়।

এ জন্য এমন কিছু সচেতন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থী চাই যাদের দায়িত্ব থাকবে এসব শিশুর ভেতর লুকানো প্রতিভা বের করে আনা। প্রতিটি শিশুই নিষ্পাপ, ফুলের মতো। আজ আমাদের সমাজে যে শিশুরা বিপথগামী; চোর, ছিনতাইকারী, মস্তান, প্রতারক বলে পরিচিত, তাদের প্রত্যেকেরই জীবনে এক একটি কাহিনী আছে। কাহিনীর অন্তরালে গেলে দেখা যাবে তাদের ভেতরেও ছিল শিশুসুলভ সরলতা, তারাও ছিল নিষ্পাপ। তাদের মধ্যেও ছিল অফুরন্ত সম্ভাবনা। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে জীবনের জয়গানে আজ তারা পরাজিত। আজ তারা সমাজে ধিকৃত হচ্ছে পদে পদে। 

আবার অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, পরকীয়া, বিয়ে-বিচ্ছেদ, সন্তানের প্রতি বাবা-মা’র অতিরিক্ত শাসন, অবহেলা, দারিদ্র্য, কুশিক্ষা ইত্যাদি নানা কারণে শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়; শিশু হয় শঙ্কিত- এ বিষয়েও আমদের সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। 

আজকের এই লেখাটি ‘সেলিব্রেটি’ কিংবা প্রশংসা কুড়ানোর জন্য অথবা নিচে বিকাশ নাম্বার দেওয়ার জন্য নয়। লেখাটি লিখেছি নিজের মানবিক দায়িত্ব থেকে। এইসব শিশুদের লেখা-পড়ার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু শিশু এবং শিশুদের অভিভাবদের সচেতন করা। সুন্দর ভাবে তাদের বুঝিয়ে বলা। অভিভাবকরা যাতে শিশুদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে স্কুলে নিয়ে যায়, সেই দায়িত্বটা নেয়া। আসুননা আমরা সবাই যে যার অবস্থান থেকে একটি সুন্দর আগামী বাংলাদেশ গড়ার জন্য এসব শিশুদের পিছনে একটু দায়িত্ব নেই। সচেতন হই নিজে, সচেতন হোক আমার দেশের প্রতিটি মানুষ।

এম. সোলায়মান, সাংবাদিক ও লেখক। 


গীতিকার ইলা মজিদের সাথে কিছুক্ষণ
লেখালেখির জগতে বেশ হাত পাকিয়েছেন ইলা মজিদ। ইতোমধ্যে কাশবনের দীর্ঘশ্বাস,
বিস্তারিত
পায়ে লিখেই জীবন গড়ার স্বপ্ন
মানুষ যেকোনও লেখালেখির কাজ সাধারণত হাত দিয়েই করে থাকে। হতে
বিস্তারিত
বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় থাকে
বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন লোক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্ট
বিস্তারিত
ফের প্রকৃতির বুকে বিলুপ্ত হয়ে
প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন
বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি হাসে যে দেশের
‘কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে?’ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে
বিস্তারিত
ভালোবেসে পালিয়ে বেড়ানো যুগলেরা
ভারতে বেশিরভাগ পরিবারই নিজেদের ধর্ম ও জাত বা বর্ণের মধ্যেই
বিস্তারিত