জন অ্যাসবেরির ‘দ্য পেইন্টার’

 

দরিয়া ও দরদালানের মাঝে বসে
সে দরিয়ার প্রতিকৃতি অংকনে ছিল মশগুল।
ঠিক শিশুর কল্পনায় যেরূপ একটি  প্রার্থনা
কেবল নীরবতা, সে আশা করেছিল তার বিষয়বস্তু
বালুর পরে ধাবিত হবে বেগে, এবং তুলি হাতে নিয়ে
ক্যানভাসের পর দরিয়ার ছবি গড়ে তুলবে।

সুতরাং  ক্যানভাসের পর ছিল না কোনো আস্তরণ
দালানের জীবিত বাসিন্দারা যতোক্ষণ না তাকে
কাজে নিযুক্ত করল : তুলির ব্যবহারে চেষ্টা করো
শেষ অভিপ্রায়ের উপায় হিসেবে। নির্ধারণ করো, একটি প্রতিকৃতির  জন্য, যা হবে এমন একটি অল্প ক্রোধ প্রকাশক ও বিশাল,
যেখানে ফুটে উঠবে চিত্রকরের মনোভাব অথবা সম্ভবতঃ একটি  প্রার্থনা।

কেমনে সে করবে ব্যাখ্যা তাদের  নিকট তার প্রার্থনা
সেই প্রকৃতি, যা কোনো শিল্প নয়, ক্যানভাসকে অধিকার করে থাকবে?
সে পছন্দ করল তার নতুন বিষয়বস্তু যা তার স্ত্রী
বিশাল ভগ্ন দালানগুলোর মতো তার রূপ দিলো,
প্রতিকৃতি সে নিজেকে ভুলে যেয়ে
তুলির আঁচড় ছাড়াই নিজেকে প্রকাশ করে দিলো।

একটু উৎসাহিত হয়ে চিত্রকর ডুবাল তার তুলি
সাগরে, গুনগুনিয়ে একটি আন্তরিক প্রার্থনা :
‘আমার আত্মা, যখন আমি এ পরবর্তী প্রতিকৃতি আঁকি
তখন এটা তুমিই হও যা ক্যানভাসকে ধ্বংস করে দেয়।’
দুরন্ত বহ্নিশিখার মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়ল দরদালানে
সে পুনরায় বিষয়বস্তুর জন্য ফিরে গেল সাগরের কাছে।

কল্পনা করো, একজন চিত্রকর তার বিষয়বস্তুর দ্বারা ক্রুশবিদ্ধ!
এতো ক্লান্ত যে তার তুলিটি পর্যন্ত উঁচু করতে অপারগ,
দালান হতে ঝুঁকে পড়া কিছু শিল্পীকে কে করলো উত্তেজিত                                 
ঈর্ষামিশ্রিত আনন্দে : আমাদের এখন কোনো প্রার্থনা নেই,
ক্যানভাসের ওপর আমাদেরকে তুলে ধরার
অথবা একটি প্রতিকৃতি অংকনের জন্য সাগরকে কাছে নেয়ার।

অন্যেরা এটাকে ঘোষণা দিলো একটি আত্মপ্রতিকৃতি।
অবশেষে বিষয়বস্তুর সকল নিদর্শন মলিন হতে  
শুরু করল, ক্যানভাসটি পরিণত হলো
খাঁটি শুভ্রতায়। সে তুলিটি নামিয়ে রাখল।
তাৎক্ষণিক একটি চিৎকার, সেটাও ছিল একটি প্রার্থনা,
যা জনাকীর্ণ দালানগুলো হতে উত্থিত হলো।

দালানগুলোর সুউচ্চ স্থান হতে তারা ছুড়ে দিল তাকে ও প্রতিকৃতিটি
সাগর গিলে ফেললো ক্যানভাস ও তুলি
যেনো তার বিষয়বস্তুটি একটি প্রার্থনাই হয়ে থাকলো।

হজন অ্যাসবেরি আমেরিকার একজন বিখ্যাত আধুনিক কবি। তিনি  নিউইয়র্কে ১৯২৭  সালে  জন্ম  গ্রহণ করেন।  কাব্য  নির্মাণ  কৌশল  ও  প্রকাশভঙ্গিতে দ্রুত পরিবর্তন আনয়ন  তার কাব্য সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


নৈসর্গ, পাহাড় ও নদীর কবি
কবি ও কথাসাহিত্যিক আফিফ জাহাঙ্গীর আলির জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি। ১৯৭৮
বিস্তারিত
এলোমেলো
মনে করো কেউ তোমাকে ডাকেনি,  অথচ তুমি শুনতে পাচ্ছো অতল
বিস্তারিত
বুড়ি চাঁদ
সুগন্ধি রোমাল হাতে         তুমি মেপে গেলে ষাঁড়ের
বিস্তারিত
প্রেমিক হতে পারি না আজকাল
প্রেমিকার উষ্ণ চুম্বনে কৃষ্ণগৌড় ঠোঁটে  ভেসে ওঠে শোষিত মানুষের রক্তের দাগ! 
বিস্তারিত
এ মাটি
এ মাটি আমাকে দিয়েছে জীবনের যতো গান, বাতাসে রৌদ্রের ঝিলিমিলি প্রজাপতি
বিস্তারিত
নোনাজলের ঢেউ
যাবতীয় আয়োজন শেষে কত ভেঙেছি  এ নদীতে নোনাজলের মিছিলের ঢেউ  শব্দবাণে
বিস্তারিত