রংপুরে কৃষকরা শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত

রংপুরের কৃষকরা এখন শীতের আগাম সবজি চাষে উঠে-পড়ে লেগেছে। আগাম ফসলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় এ আশায় কৃষকরা ফসলের মাঠে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তাই শীতের আগাম সবজি চাষের ধুম পড়েছে কৃষকের মাঝ। কেউ কেউ আরো আগেই সবজি চাষে নেমেছেন। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজি।অন্যান্য ফসল আবাদের চেয়ে কম সময়ে আগাম সবজি আবাদের লাভ বেশি পাওয়ায় কৃষকরা এখন শাকসবজি আবাদের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষি বিভাগের সুষ্ঠু মনিটরিংয়ের ফলে বিগত কয়েক বছরে শীতকালীন আগাম শাকসবজির আবাদ ভালো হয়েছে। সবজিচাষে গত বছর বিপ্লব ঘটেছে। এ বছরও বাম্পার ফলন হবে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর সূত্রে জানা যায় জেলায়  প্রায় ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাউনিয়ার উপজেলার চর গনাইয়ের আতাউর রহমান এবার এক বিঘা জমিতে লালশাক, বেগুন ও ফুলকপি আবাদ করেছেন। তিনি কিছু কিছু সবজি তুলে বিক্রি করছেন। 

একই গ্রামের রফিকুল ২০ শতক জমিতে ধনে পাতা আবাদ করেন।বদরগঞ্জের আনিছুর রহমান ৪০ শতক জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুঁইশাক ও সরিষা শাক আবাদ করেছেন। গঙ্গাচড়ার জামাল উদিানন বলেন, কম সময়ে ভালো দাম পাওয়া যায় একমাত্র শাকসবজি আবাদেই। তাই প্রতি বছর আগাম এআবাদ করি। এর পর ওই টাকা দিয়ে আলু আবাদ করা যায়। মুলা শীতের সবজি হলেও গঙ্গাচড়ার বাজারে পাওয়া যাচেছ মুলা।

কৃষকরা এখন অনেক সচেতন হওয়ার কারণে আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাছাড়া ধান, পাট, আলুর দাম না পাওয়ার কারণে সবজি এখন মূল ফসল হিসেবে কৃষকের পরিচিত হচেছ। সারা বছর ধরে তারা সবজি চাষ করছে। সরেজমিনে পশ্চিম মান্দ্রাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমির এক পাশে পাটি করে চারা তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি থেকে রক্ষার্থে পলিথিনের চাউনি দিয়ে চারাগুলোকে ঢেকে রাখা হয়েছে। কৃষকরা সবজি খেতে নিড়ানি দিচেছ। মাঠে মাঠে শোভা পাচেছ বেগুন, মুলা, লাউ খেত। দিনে দিনে বেড়ে উঠছে সবজি চারা গাছগুলো। বেগুনে ফুল এসেছে। হয়তো ১৫/২০ দিন পরে বেগুন বিক্রি শুরু করবেন কৃষকরা। কেউবা সবজি খেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।

 ঐ গ্রামের ভূপতি এ বছর ৬০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ৫ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন। মিলন ২২ শতক, যুগল ২৫ শতক, বিমল মাস্টার ৫০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। মতিয়ার রহমান ৫৫ শতক জমিতে বেগুন, জগদিস ৫০ শতক বেগুন ও ৪০ শতক জমিতে মুলা ও মানিক ৬০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। কৃষকরা জানান, গত বছর তারা বেগুনের দাম ভালোই পেয়েছে। 

এছাড়া তোতা মিয়া হরিদাস, ছিলমন, শ্যামল, নন্দ, বিমল, মিঠুন, নির্মলসহ অনেকে আগাম সবজি চাষ করেছেন। পশ্চিম মান্দ্রাইন ছাড়াও দক্ষিণ চেংমারী, নবনীদাস, হাবু এলাকাতেও আগাম সবজি চাষ হয়েছে। তবে অনেকেই বালাইনাশক ছাড়াই সেক্স ফেরোমন পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছে। গঙ্গাচড়ার উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ করা হয়েছে। দিন দিন এর পরিমাণ বাড়বে। পশ্চিম নবসীদাস ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, কৃষকদের এখন আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বেশি। অনেকে এর মধ্যে ফুলকপি কিংবা বাঁধা কপিও লাগাবে। 

গঙ্গাচড়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, এগুলো খরিপ-২ মৌসুমে আগাম সবজি। চেংমারী মাদ্রাইন এলাকার মাটি বেলে-দোআঁশ। খুব বেশি বৃষ্টি না হলে ক্ষতি তেমন একটা হয় না। 

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। আগাম ফসল চাষে কৃষকরা অধিক মুনাফা পায়। তাই তো কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডক্টর সরওয়ারুল হক জানান, আগাম শীতকালীন নানা ধরনের সবজি আবাদের জন্য আমরা কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। আগাম ফসলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় এ আশায় কৃষকরা ফসলের মাঠে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন । আমাদের পরামর্শে সবজি আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন কৃষকরা ।


নকলার জাম্বুরার কদর রাজধানীসহ সারাদেশে
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানকার জাম্বুরা
বিস্তারিত
দেড় হাজার টাকায় খামার শুরু,
গল্পের শুরুটা ২০০২ সালের। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা প্রাণীসম্পদ অফিসারের সহযোগিতায় মাত্র
বিস্তারিত
বাণিজ্যিক ভাবে বারোমাসি সজিনা চাষের
শেরপুরের নকলা উপজেলায় বারোমাসি সজিনা ডাটা চাষের গভীর সম্ভবনা দেখা
বিস্তারিত
কৃষি সংস্থার সবাই যেন একেকজন
মেধা, ইচ্ছা শক্তি আর অভিজ্ঞতা থাকলে কোন বাধাই কাউকে থামিয়ে
বিস্তারিত
পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন কেন্দ্র
বিস্তারিত
ড্রাগনে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন নকলার
ড্রাগন ফল চাষে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক
বিস্তারিত