বগুড়ায় ২ টাকা কেজি পিয়াজ

পদ্মা সেতুর পাথর বোঝাই ট্রাকের ভিড়ে হাজার হাজার পিয়াজবাহী ট্রাক সীমান্ত এলাকায় আটকে পড়ার কারণে দেশের মোকাম পর্যন্ত আসতে সময় লাগছে চারদিন। তাতে ট্রাকেই পচন ধরছে হাজার হাজার টন পিয়াজে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আমদানিকারক মহাজনদের। উত্তরাঞ্চলের সব চেয়ে বড় কাঁচাবাজার বগুড়ার রাজাবাজারে গিয়ে দেখা যায় পচা পিয়াজ নিয়ে মহাজনদের আহাজারির দৃশ্য। কেজিতে ৯ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। বগুড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মালিকদের ভাষ্যমতে, ভোমড়া, সোনামসজিদ, বেনাপোল এবং হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন পদ্মা সেতুর কাজের জন্য শ’ শ’ পাথর বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করছে। সে কারণে ভারতের সীমান্ত এলাকাতে পিয়াজবাহী ট্রাকগুলোকে থামিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো পার করছে। এতে পিয়াজ নিয়ে ভারতের রাস্তাতেই তিন দিন দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ছেড়ে দেয়ার পর নির্দিষ্ট মোকাম পর্যন্ত আসতে আরো একদিন সময় লাগছে। সে কারণে রাস্তাতেই পচে যাচ্ছে বেশির ভাগ পিয়াজ। আন লোড করার পর এইসব পচা পিয়াজ নির্ধারিত দামে কেউ কিনছে না। ফলে কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় মহাজনরা। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে বগুড়ার বাজারে পিয়াজের এই মূল্য ধস। বগুড়ার এই বাজারে প্রতিদিন বিশ থেকে ত্রিশ ট্রাক পিয়াজ ভারত থেকে আসে। প্রতিটি ট্রাকে ২০ থেকে ২৫ টন পিয়াজ থাকে। উত্তরাঞ্চলের লোকাল বাজারগুলোর চাহিদা পূরণ করে বগুড়ার এই রাজাবাজারের পিয়াজ। প্রতিদিন আশেপাশের জেলার খুচরা বিক্রেতারা এই বাজার থেকে পিয়াজসহ অন্য কাঁচামাল নিয়ে থাকে। রাজাবাজারের খুচরা বিক্রেতা নূরুল ইসলাম নূরু এবং ফটু মিয়া জানান, চাহিদার তুলনায় বাজারে ভারতীয় পিয়াজ বেশি আমদানি হয়েছে ফলে মহাজনদের গুদামে পিয়াজে পঁচন ধরেছে। তাই তারা কম দামে ছেড়ে দিচ্ছে। তারা আরো জানান, ৫০ কেজি বস্তা পিয়াজ তারা পাইকারি কিনছেন মাত্র ৬০-৭০ টাকায়। খুচরা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি কোয়লিটি ভেদে ৪-৫ টাকায়। এদিকে ভারতীয় পিয়াজের মূল্য ধসের প্রভাব পরেছে দেশি পিয়াজেও। মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই দেশি পিজ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। বর্তমানে সেই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। গতকাল সোমবার শহরের রাজাবাজার, ফতেহআলী বাজারে খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পিয়াজের খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও ভারতীয় পিয়াজ ৪ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এই মূল্য আরো কম। রাজাবাজারের মরিয়ম ট্রেডার্সের মালিক রাজু হাজী জানান, ভারত থেকে আমদানি করা পিয়াজ কিনতে হয়েছে ১১টাকা কেজিতে। পচে যাওয়ায় এই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২ টাকায়। কেজিতে লোকসান হচ্ছে ৯ টাকা। এবারে এই চালানে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে তাদের। সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন রমজান উপলক্ষে বেশি মুনাফার আশায় বগুড়ার স্থানীয় ২০-২৫ জন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান একবারে বেশি পিয়াজ আমদানি করেছে। তাদের আড়তে বৃষ্টি পানি পড়ায় পচন ধরেছে। সে কারণেই তারা কমদামে পিয়াজ বিক্রি করছেন। এদিকে কাকতালীয় ভাবে আমদানি করা পিয়াজের দাম কমে যাওয়ায় খুচরা গ্রহকদের ভিড় জমেছে। তারা আসছে রমজানের জন্য আধাপচা পিয়াজ বেশি করে কিনে রাখছেন। তাদের ধারণা মহাজনদের এই লোকসান রামজানের মধ্যে পিয়াজে চড়া দাম বসিয়ে তুলে নেবে।  পিয়াজ কিনতে আসা আবদুল হক বলেন, আমি বিশ কেজি পিয়াজ কিনলাম ৪টাকা জেকি দরে। এই সময় এতো সস্তায় পাওয়া যাবে আমি কল্পনা করিনি। সীমান্ত এলাকায় গাড়ি থেমে রাখা, অতিরিক্ত আমদানি অথবা বৃষ্টির কারণে যে যাই বলুক রামজানের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পিয়াজের চরম দরপতনে বগুড়ার সাধারণ মানুষ সুযোগটিকে লুফে নিয়েছে। তারা সবাই পিয়াজের বাজারে ভিড় করছে। এদিকে দুই টাকায় পিয়াজের কেজি হওয়ায় বগুড়ার সাধারণ মানুষ বিস্ময়ের সাথে দাম শোনার জন্য হলেও একবার করে পিয়াজের বাজারে যাচ্ছে। 


বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও জাপানি বিনিয়োগ
দেশে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আরও
বিস্তারিত
১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া দম্পতি
তিন মামলায় বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া
বিস্তারিত
সীমান্তে চোরাচালান রোধে সজাগ থাকুন:
সব ধরনের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সীমান্তে চোরাচালান রোধে সর্বদা সজাগ
বিস্তারিত
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবনা অনুযায়ী সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ
বিস্তারিত
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৫ ও ৩১ ধারা কেন অবৈধ
বিস্তারিত
আবারও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া
দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া
বিস্তারিত