অর্থহীন কথাবার্তা

একবার ভেবে দেখেছেন কি অহেতুক কথাবার্তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? কথার দাম এক টাকা আর চুপ করে থাকার দাম দুই টাকা। যে কোনো কথা, ভালো হোক মন্দ হোক, প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয়, হাসি-কান্না যে কোনো কথাই বলা হোক না কেন তার কর্তা হচ্ছে জিহ্বা। কথা প্রকাশ করে মুখ কিন্তু তা ফুটে ওঠে মানুষের চেহারায়, চোখে-মুখে।
কথার মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে। নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা যায় না, যদি কেউ বলে, তাহলে বুঝতে হবে সে স্বাভাবিক নয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মানুষ যখন সকাল করে তখন তার শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার কাছে অত্যন্ত মিনতি সহকারে বলে যে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর। কেননা আমাদের ব্যবহার তোমারই সঙ্গে (জড়িত রয়েছে)। তুমি সোজা থাকলে আমরাও সোজা থাকব। আর যদি তুমি বাঁকা হয়ে যাও তবে আমরাও বাঁকা হয়ে যাব।’ (অতঃপর তার শাস্তি ভোগ করতে হবে)। (তিরমিজি) 
কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘এ কথাটি কেন বলেছিলে?’ হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, যে কোনো কথাই আমরা বলে থাকি, তার সব কি আমাদের আমলনামায় লেখা হয়? (এবং তার ব্যাপারেও কি ধড়পাকড় হবে?) রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, তোমার মা তোমার জন্য ক্রন্দন করুক। (ভালোভাবে জেনে রাখো) জিহ্বার মন্দ কথাগুলোই লোকদের উল্টোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপকারী হবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি চুপ থাকবে (জিহ্বার আপদ থেকে), বেঁচে থাকবে। যখন কোনো কথা বলবে তখন তোমার জন্য সওয়াব অথবা গোনাহ লেখা হবে। (তাবরানি, মাজমাউয যাওয়ায়েদ)। 
মিথ্যা বলা মহাপাপ! আমার মা আমাদের ছোটবেলায় বলতেন, ‘মিথ্যা কথা কখনও বলবে না। কারণ যদি তুমি একটি মিথ্যা বল তবে সেটাকে ঢাকার জন্য তোমাকে আরও দশটি মিথ্যা বলতে হবে; এরই মধ্যে তুমি ধরা পড়ে যাবে। তার চেয়ে ভালো, দোষ করলেও সত্য কথাটাই বল, তাতে তোমার ক্ষতি হবে না। বরং সত্য বলার অভ্যাস গড়ে উঠবে।’ 
অনেক সময় দেখা যায় মানুষকে হাসানোর জন্য অনেকে মিথ্যা কথা বলে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস রয়েছে, যে লোকদের হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে। তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।’ (তিরমিজি) 
রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, মোমেন ব্যক্তি কাপুরুষ হতে পারে কি? তিনি বললেন, হতে পারে। ফের জিজ্ঞেস করা হলো, কৃপণ হতে পারে কি? তিনি বললেন, হতে পারে। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, মিথ্যাবাদী হতে পারে কি? তিনি বললেন, মিথ্যাবাদী হতে পারে না।’ (মোয়াত্তা)। 
বিখ্যাত তাবেঈ, আতা ইবনে রাবাহ ইলমের এমন শীর্ষ চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন, যেখানে সমকালীন দু-একজন ছাড়া আর কেউই পৌঁছতে পারেননি। তিনি সময়ের ব্যাপারে ছিলেন এমন কঠিন সচেতন যে, অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজে তাঁর সামান্যও ধ্বংস হতে দেননি। তিনি বলতেন, আমাদের মহান পূর্বসূরিরা শুধু প্রয়োজনীয় কথাই বলতেন এবং শুনতেন। অপ্রয়োজনীয় কথা তারা মোটেও পছন্দ করতেন না। আতা ইবনে রাবাহ বলেন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কথা হলোÑ
(ক) রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিস রেওয়ায়াত ও তার আলোচনা;
(খ) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ; 
(গ) খোদায়ি ইলমের আলোচনা এবং
(ঘ) জীবন ও জীবিকা সম্পর্কে অত্যাবশ্যকীয় কথা।
এগুলো ছাড়া আর সব কথাই তাদের কাছে ছিল অপ্রয়োজনীয়, অহেতুক। তিনি কালামুল্লাহর আয়াত উল্লেখ করেন : ‘অবশ্যই তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত রয়েছেন। সম্মানিত লেখকবৃন্দ।’ (সূরা ইনফিতার : ১০-১১)।
আরও উল্লেখ করেন : ‘এবং তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছেন দুজন ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে আমল গ্রহণ করেন। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত রয়েছেন।’ (সূরা কাফ : ১৭-১৮)। 
এরপর তিনি বলেন, আমাদের কারও সামনে যদি প্রতিদিনের আমল প্রকাশ করা হয়, তবে কি সে নিজের অধিকাংশ বেহুদা আমল বেহুদা কথা দেখে লজ্জিত হবে না? সে কি আফসোস করে বলবে না হায়রে! অধিকাংশ আমল ও কথাই তো দ্বীন-দুনিয়ার সঙ্গে সংশ্রবহীন। (আলোর মিছিল সমগ্র, ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা রহ., মাকতাবাতুল আশরাফ, ২০০৬ ঈসায়ি, পৃষ্ঠা ২০- ২১)। বেশি কথা যারা বলে তারা অনুমান করেও অনেক কথা বলে। আর অনুমান করে কথা বলা হলো বড় মিথ্যা। 
বাঁচার উপায় কী? : জীবনে সমস্যা আছে, তার সমাধানও আছে। তাই আমাদের জানতে হবে, জানার কোনো বিকল্প নেই, ইলম ছাড়া আমল হয় না। স্বভাবগতভাবেই মেয়েরা পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলে। আবার অনেক পুরুষও কম যায় না! সব কিছুরই বিশ্রাম আছে, বিশ্রামের পর শরীর চাঙা হয়ে ওঠে, চোখ বন্ধ করলে চোখের বিশ্রাম হয়। আর মুখ বন্ধ করলে বাকযন্ত্রগুলোর বিশ্রাম হয়। তাতে করে দুটো লাভ। এক, চুপ করে থেকে কথার আপদ থেকে রেহাই, আর দুই একটু চিন্তাভাবনা করে কথা বলার সুযোগ হয়।


মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইসলাম
গত ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য
বিস্তারিত
জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি
বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।
বিস্তারিত
কোরআনের আলোকে পরস্পরের প্রতি শিষ্টাচার
আমরা মানুষ, পৃথিবীতে আমাদের বসবাস। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা,
বিস্তারিত
পোশাকের শালীনতা
পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। পোশাকে মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য,
বিস্তারিত
কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত