রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

রাগ হচ্ছে শয়তানের কাজ, যা দিয়ে সে খুব সহজেই মানুষের অনিষ্ট করে। রাগ শয়তানের এমন একটি অস্ত্র, এটা দিয়ে সে মানুষের সব ভালো অর্জন মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে। মানুষের মনে কোনো কারণে সামান্য পরিমাণ বিরক্তি এলেই শয়তান তখন তার মনে রাগ সঞ্চারের চেষ্টা করে। রাগ সঞ্চারিত হলে ধীরে ধীরে তখন রাগ ত্বরান্বিত করতে থাকে। একজন মানুষ যখন পুরোপুরি রাগান্বিত হয়ে যায়, তখন শয়তান তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সে সময় সেই মানুষটি শয়তানের নির্দেশ মতো কার্যকলাপ করতে থাকে। তখন তার দ্বারা শয়তান সব ধরনের অনিষ্ট করতে সক্ষম হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও শয়তানের কবল থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা গুণ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন। উত্তরে নবী করিম (সা.) বললেন, ‘তুমি রাগান্বিত হয়ো না।’ সে ব্যক্তি আরও কিছু অসিয়ত করতে কয়েকবার বললেন। তিনি প্রত্যেকবারই উত্তরে একই জবাব দিলেন, ‘তুমি রাগান্বিত হয়ো না।’ (বোখারি : ৫৬৮৬)। প্রতিটি মানুষের মাঝেই কমবেশি রাগ থাকে। মানুষের মনে রাগ আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। রাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং রাগ অনুভূত হওয়া মাত্রই সেটা প্রশমিত করা প্রকৃত মোমিন-মুসলমানের কাজ। রাগ যখন নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন একজন মানুষ আর সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে না। রাগের বশবর্তী হয়ে তখন সে বিভিন্ন রকম অস্বাভাবিক আচরণ করে। এমনকি অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা পর্যন্ত ঘটিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত রাগের কারণে একজন মানুষ অন্যের অনিষ্টের চেয়ে নিজের ক্ষতিটাই সবচেয়ে বেশি করে। 

কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। রাগের মাথায় আমরা যা কিছুই করি না কেন, সেটা নিশ্চিতভাবেই ভুল হবে। তাই রাগের মাথায় কোনো কথা বলতে নেই, কোনো কাজ করতে নেই এবং কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে রাগান্বিত অবস্থায় কারও কোনো বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হয় না। জ্ঞানীরা বলেন, রাগ হলো বারুদের গুদামের মতো। আগুনের স্ফুলিঙ্গের ছোঁয়ায় সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে এ রাগ। এ কারণে রাগ নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো কোনো মানুষ দ্রুত রেগে যায় এবং তাদের রাগও প্রচ-। মানুষ রেগে গিয়ে গালাগাল ও মারধর শুরু করতে পারে। এমনকি রাগের মাথায় খুন পর্যন্ত করতে পারে। মানুষের সঙ্গে মেলামেশাও বাদ দিতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিরা রাগের কারণে নানা দৈহিক রোগেও আক্রান্ত হতে পারে। এখানে আমরা রাগের কুফল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই রাগান্বিত হওয়া যাবে না। ইসলামের দৃষ্টিতে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা একটা মহৎ গুণ। এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেনÑ ‘সে প্রকৃত বীর নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।’ (বোখারি : ৫৬৮৪)। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেনÑ ‘যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৪)।
ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম মনে করে, রাগ মানুষকে জ্ঞান, বিবেক ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। রাগের কারণে মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তায় খারাপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলুম ও বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধী ও জুলুমবাজদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে রাগ বৈধ। জাতীয়, ধর্মীয় ও মানবিক আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে রাগকে কাজে লাগাতে হবে। তবে অন্যায় দমন করতে গিয়ে অন্যায়কে যাতে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাগ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার; তাই যখনই মনে রাগ আসবে, তখনই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। নিজের উপলব্ধি করতে হবে, আমাকে শয়তান রাগান্বিত করার জন্য প্ররোচিত করছে। শয়তান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে পড়তে হবে, ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’। এতেও যদি রাগ প্রশমিত না হয়, তাহলে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। যেমনÑ দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়তে হবে কিংবা অন্যত্র চলে যেতে হবে। এতেও রাগ প্রশমিত না হলে অজু করার পরামর্শ দেওয়া আছে। আমরা যেন শয়তানের ধোঁকায় না পড়ে নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।


মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইসলাম
গত ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য
বিস্তারিত
জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি
বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।
বিস্তারিত
কোরআনের আলোকে পরস্পরের প্রতি শিষ্টাচার
আমরা মানুষ, পৃথিবীতে আমাদের বসবাস। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা,
বিস্তারিত
পোশাকের শালীনতা
পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। পোশাকে মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য,
বিস্তারিত
কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত