নৌকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাদুঘর প্রয়োজন

নৌকা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘকাল ধরে এদেশের মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য আহরণ, বিনোদন সহ অন্যান্য নানাবিধ কাজে এদেশে নৌকা ব্যবহারের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। বলা যায় নৌকা এবং বাঙালি প্রায় দুটিই সমার্থক শব্দ।

বাংলার ভূমিরুপ এ অঞ্চলকে যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার সঙ্গে নদীপথ ও নৌকার সম্পর্ক সংস্কৃতির একেবারে উন্মেষ পর্ব থেকে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নৌকার উৎপাদন, বিপনন ও ব্যবহারে এই বাংলা অতীতে সোনালী যুগে অবতীর্ণ হয়েছিল। যা ১২০০ সাল থেকে শুরু করে ১৮০০ সালের পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৪০০ সালের দিকে নদী ও সমুদ্র পথে যাতায়াত, ব্যবসা বাণিজ্যের কাজে যে সকল বড় বড় কাঠের নৌকা ব্যবহার করা হত তা তৈরীর কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাংলার ভূখন্ড। তুরস্ক, জার্মানি কিংবা মোঘল সম্রাটদের জন্য প্রকান্ড কাঠের যুদ্ধজাহাজ তৈরীর ইতিহাসও আমাদের রয়েছে।

ইতিহাসে বিখ্যাত অনেক পর্যটক বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভ্রমণ শেষে বেশকিছু নৌকার নাম ও তার গাঠনিক বিবরণ দিয়ে গেছেন বিভিন্ন বই বা জার্নালে। রণতরী থেকে শুরু করে বানিজ্যতরী সবই ছিল সে তালিকায়। ডিঙ্গি, সাম্পান, বালামী, টেডি, বাজরা, ছই, জালি, ঘাসি, জংগ, গাচারী, দোরাখা, কাঠামী, মাল্লার, পালোয়ানি, পাতাম, পাংসি, কোসা ইত্যাদি নামের নৌকায় সমৃদ্ধ ছিল আমাদের এই দেশ। নৌকার সাথে এদেশের মানুষের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। বাংলায় নদীপথ ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না। নদী ও নৌকা নিয়ে অসংখ্য গানচর্চাও হয়েছে এদেশে। নৌকা এই বাংলাদেশের মানুষের মননে গেথে রয়েছে।

১৯৫৭ সালে জন্ম হয় আওয়ামী লীগের। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেনে বুঝেই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে নৌকাকে এদেশের মানুষের তথা আওয়ামী লীগের প্রতীক হিসেবে বেছে নেন। কাঙ্খিত ফলাফল পেতেও বেশি দেরি হয়নি। ১৯৭০ সালে সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে ১৬০ আসন পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তখন থেকে নৌকার মাঝি হয়ে নির্বাচন করে আসছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই নৌকায় ভর করেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা শেখ হাসিনা আজও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এদেশের ষোল কোটি মানুষের ভাগ্য নির্মাতা।

ষোল কোটি মানুষ, বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাত শতাধিক নদী ও আট হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা আজ সফল। কিন্তু কি হবে এদেশের নৌকার ভবিষ্যৎ? ছোট বড় নৌকা কিংবা যুদ্ধ জাহাজ তৈরীর ইতিহাস, আমাদের সেই সোনালী ঐতিহ্য সভ্যতার ক্রমবিকাশে আজ বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তপ্রায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য কি শুধু প্রতীকেই সীমাবদ্ধ থাকবে? পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হয়তো অজানাই থেকে যাবে আমাদের নৌকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আগামী প্রজন্মের সংস্কৃতি চর্চা, গবেষণা ও এর গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য আমাদেরকে নৌকার যথাযথ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে। আমি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ধান, নদী ও খাল সমৃদ্ধ অবহেলিত উপকূলীয় জেলা বরগুনায় একটি পুর্নাঙ্গ নৌকা জাদুঘর স্থাপন করার জন্য। যেখানে বিলুপ্ত, বিলুপ্তপ্রায় ও বিদ্যমান সকল ধরনের নৌকার রেপ্লিকা অথবা প্রমাণ সাইজের নৌকা, নৌকার ছবি, নৌকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত বইপত্র, ডকুমেন্টারি ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকবে।

লেখক: মোঃ হুমায়ুন কবির, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী।


অপসাংবাদিকতা রোধে চাই কার্যকর পদক্ষেপ
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। একজন সাংবাদিককে সকল পেশার মানুষ অত্যন্ত
বিস্তারিত
মাদকমুক্ত বরগুনা গড়তে প্রয়োজন সম্মিলিত
বরগুনা আমাদের আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। এখানে বেড়ে ওঠা প্রতিটি
বিস্তারিত
৩৮ লাখ বছর আগের মাথার
আবিষ্কার হওয়া মাথার খুলি তৈরি করেছেন এক শিল্পী। আনামেনসিস দেখতে
বিস্তারিত
কেমন হবে মশার কার্যকর ও
বর্তমানে মশা বা মশাবাহিত রোগ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশসহ দক্ষিনপূর্ব
বিস্তারিত
আগস্ট শুধু শোকই নয়
পরাধীন বাংলার গণমানুষের এক সময় প্রাণের দাবী ছিল স্বাধীনতা। মানুষ
বিস্তারিত
শিশু কথা বলে না! কান
আপনার সন্তান যদি ২/৩ বছর বয়সেও কথা বলতে না শেখে,
বিস্তারিত