মফস্বল সাংবাদিকতা

অপসাংবাদিকতা রোধে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

পর্ব-২

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। একজন সাংবাদিককে সকল পেশার মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। এ পেশার লোকজনকে অনেকেই জাতির বিবেক বলে থাকেন। প্রকৃত সাংবাদিকের কোন দেশ কাল পাত্র নেই। তারা জগৎ সভার এক একজন পরীক্ষক ও নিরীক্ষক।

ঢাকায় কর্মরত একজন সাংবাদিকের থেকে মফস্বলের একজন সাংবাদিকের অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়। ঢাকার সাংবাদিকদের বিট ভাগ করা থাকলেও মফস্বল সাংবাদিকের কোন বিট ভাগ করা নেই, সব বিষয়েই তাদের সাংবাদ লিখতে হয়। জেলা-উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলতে হয় প্রতিনিয়ত। বহু কষ্টের পরেও মফস্বলের এসব সাংবাদিকদের আর্থিক সংকটের মধ্যেই দিন কাটাতে হয়। কিন্তু সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে সবার তলানিতে থাকতে হয় মফস্বল সাংবাদিকদের।

তবে এর মধ্যেও ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া যায়। আর এই ভিন্নতা হলো, মূলধারার সাংবাদিক ও অপসাংবাদিকতা। উপরে উল্লেখ করাদের যদি মূলধারার সাংবাদিক বলা হয় তাহলে প্রশ্ন ওঠে অপসাংবাদিকতা তাহলে কি?

মিডিয়ায় আজকাল দেখা যায় বিভিন্ন এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে উঠেছে। বলতে কষ্টে হলেও দেখা যায় সাংবাদিকতা পেশায়ও আজকাল এক শ্রেণির গ্যাং তৈরি হয়েছে, তাহলো মুর্খ ও অশিক্ষিত একদল মানুষ এখন সাংবাদিক পেশায়। এরাও ‘কিশোর গ্যাংয়ে’র মত, দল বেঁধে প্রতিদিন ধান্দাবাজিতে মেতে ওঠেন। কথায় আছে ‘বাপে মরছে আন্ধারে, ছেলের নাম বিদ্যুৎ’। তেমনি মিডিয়া প্রকাশ ও প্রচারের খবর নাই তিনি বড় মাপের সাংবাদিক।

এক সময় মফস্বলের সাংবাদকর্মী ছিলাম বলে দাবি নিয়ে বলতে পারি আমার জেলায় আজকাল কিশোর গ্যাংয়ের মত এমন অপসাংবাদিকতার গ্যাং চোখে পরে।

কুলি থেকে শুরু করে দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ মূর্খ আর অশিক্ষিত এক শ্রেণির মানুষ আজকাল সাংবাদিক পরিচয় দেন। গাড়ির সামনে প্রেস লেখা স্টিকার লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়ান পুরো জেলা-উপজেলায়। অখ্যাত সব পত্রিকা-টিভির আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বীরদর্পে ধান্দাবাজিতে মেতে উঠেছে তারা। এর পেছনে আমি মনে করি সিনিয়র ও শিক্ষিত সাংবাদিকদেরও দায় রয়েছে।

আমার জেলায় সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু অসাংবাদিকের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখলে লজ্জায় মাথা নিঁচু হয়ে যায়। এক লাইন স্ট্যাটাসের ৮০ ভাগই বানান ভুল থাকে। লিখতে গেলে আমারও ভুল হয়, তাই বলে ১০টি শব্দ লিখলে যদি ৮টা শব্দের বানান ভুল হয় সে কি করে সাংবাদিক হয়!

এসব অসাংবাদিক রোধে আমার মনে হয় এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রতিটি জেলা-উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিকদেরই। প্রেসক্লাস, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটি, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামসহ সাংবাদিকদের সকল সংগঠন থেকে সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে ‘সাংবাদিক বাছাই কমিটি’ করেও এই অপসাংবাদিকতা রোধ করতে হবে।

সাংবাদিকদের এ বাছাই কমিটি যা করতে পারেন:

  • # জেলা-উপজেলার সকল সাংবাদিকদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
  • # জানতে হবে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু।
  • # নির্ধারণ করতে হবে একজন সাংবাদিকের সর্বনিম্ন কতটুকু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
  • # প্রয়োজনে এ কমিটি জুনিয়র সেইসব সাংবাদিকদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে (যেমনটা বার কাউন্সিল নিয়ে থাকে)।
  • # বছরে অন্তত দুইবার জুনিয়রদের সাংবাদিকতা বিষয়ক বেসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • # দেখা যায় অনেক অপ্রাপ্ত বয়সে সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে লেখা-পড়া লাটে তুলে ঘুরে বেড়ায়। পেশার স্বার্থে এদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে লেখা-পড়ায় ফিরিয়ে দেওয়াও সিনিয়র সাংবাদিকদের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।
  • # সাংবাদিকতা পেশায় আসতে সর্বনিম্ন যোগ্যতা যাদের থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু করে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে।
  • # বাছাই করা অযোগ্যদের প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হলে অপসাংবাদিকতা অনেকটাই রোধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতা একটা পেশা, শখ পূরণের জায়গা এটা নয়। যে বা যারা ধান্দাবাজি ও শখের বসে সাংবাদিকতা করতে আসেন, আমি মনে করি তাদের কারণেই এই মহান পেশাকে একদিন মানুষ ঘৃণা করবে। মফস্বলে অপসাংবাদিকতা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হয়তো এমন এক সময় আসবে এ পেশার মান মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। আর এজন্য পেশাদার সংবাদকর্মীদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে নিজ উদ্যাগে।

লেখক- এম সুজন আকন, সহ-সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ।


নৌকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে
নৌকা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘকাল ধরে এদেশের মানুষের
বিস্তারিত
মাদকমুক্ত বরগুনা গড়তে প্রয়োজন সম্মিলিত
বরগুনা আমাদের আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। এখানে বেড়ে ওঠা প্রতিটি
বিস্তারিত
৩৮ লাখ বছর আগের মাথার
আবিষ্কার হওয়া মাথার খুলি তৈরি করেছেন এক শিল্পী। আনামেনসিস দেখতে
বিস্তারিত
কেমন হবে মশার কার্যকর ও
বর্তমানে মশা বা মশাবাহিত রোগ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশসহ দক্ষিনপূর্ব
বিস্তারিত
আগস্ট শুধু শোকই নয়
পরাধীন বাংলার গণমানুষের এক সময় প্রাণের দাবী ছিল স্বাধীনতা। মানুষ
বিস্তারিত
শিশু কথা বলে না! কান
আপনার সন্তান যদি ২/৩ বছর বয়সেও কথা বলতে না শেখে,
বিস্তারিত