ন্যায়পরায়ণ শাসক আলী (রা.)

একজন খ্রিষ্টান একবার বিচারপতি শুরাইহের দরবারে মামলা দায়ের করলেন। খ্রিষ্টান লোকটি আলী (রা.) এর বর্ম চুরি করেছিল। দুজনই বিচার প্রার্থনা করলেন কাজীর দরবারে। আলী (রা.) তৎকালে ছিলেন মুসলিম জাহানের খলিফা। কাজী শুরাইহ অমুসলিম লোকটি থেকে জানতে চাইলেন। লোকটি বলল,

আলী (রা.) মসজিদ, বাউফারিক, আলজেরিয়া

ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.)। আলী বিন আবু তালেব বিন আবদে মনাফ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মনাফ। তার মা ছিলেন বাবা আবু তালেবের চাচাতো বোন। ফাতেমা বিন আসাদ বিনতে আসাদ বিন হাশেম। তিনি ছিলেন নবী (সা.) এর চাচাতো ভাই। প্রথম দিকে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশকারী মুসলমান। বাল্য বয়সেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (সা.) এর সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সঙ্গ দান করেন। তিনি অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে অন্যতম বদর যুদ্ধ।
তাকে আবুল হুসাইন বলে ডাকা হতো। নবী (সা.) ‘আবু তোরাব’ বলে উপাধি দেন। তার পেছনে রয়েছে একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা। আলী (রা.) একবার মসজিদে ঘুমন্ত ছিলেন। তখন নবী (সা.) আলী (রা.) এর ঘরে তাশরিফ আনলেন। এসে তাকে পাননি। তখন মেয়ে ফাতেমা (রা.) কে স্বামীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি জানালেন, তার ও স্বামীর মাঝে কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছে। তখন রাসুল (সা.) তাকে খুঁজতে বের হয়ে যান। তিনি এসে দেখেন আলী (রা.) মসজিদে শুয়ে আছেন। তার চাদর একপাশে পড়ে আছে। তার গায়ে লেগে আছে কিছু ধূলিকণা। রাসুল (সা.) তা ঝেড়ে ফেলে দেন এবং বলেন, হে আবু তোরাব (মাটিবিশিষ্ট) ওঠ। এ উপাধিটি আলী (রা.) এর কাছে অত্যাধিক প্রিয় ছিল। এ ব্যাপারে সাহল বিন সাদ সাঈদি (রা.) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আলী (রা.) এর কাছে ‘আবু তোরাব’ এর চেয়ে প্রিয় কোনো নাম ছিল না। এ নামে তাকে ডাকা হলে তিনি খুব আনন্দিত হতেন। (বোখারি : ৬২৮০)। 
তিনি যতগুলো গুণে গুণান্বিত ছিলেন তার অন্যতম ইনসাফ তথা ন্যায়পরায়ণতা। ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা হলো, প্রত্যেকটি বস্তুকে আপন জায়গায় ব্যবহার করা। যথাসময়ে ব্যবহার করা। সঠিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা। নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যবহার করা। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ব্যতীত। অগ্রগামিতা ও বিলম্ব ব্যতিরেকে। 
ইনসাফ তথা ন্যায়পরায়ণতা একটি মহান চারিত্রিক গুণ। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এ গুণে গুণান্বিত। এটি তার সৌন্দর্যম-িত নামগুলোর একটি। তিনি বান্দাদের এ গুণে গুণান্বিত হতে আদেশ করেছেন। সে রংধারণ করতে বলেছেন। কোরআন মজিদে এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ আমানতগুলো তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আদেশ করেছেন। তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবে ইনসাফের সঙ্গে করো।’ (সূরা নিসা : ৫৮)। 
উৎকৃষ্ট চারিত্রিক এ গুণে সাহাবিরা গুণান্বিত ছিলেন। তারা এগুলোকে বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে হেদায়েতপ্রাপ্ত চার খলিফা। তাদের অন্যতম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। তার জীবনে ঘটেছে বহু ঘটনা। বহু স্মৃতি ছড়ানো তার জিন্দেগিতে। সবগুলোই জীবন্ত সাক্ষী তার ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার। একদিনকার ঘটনা। তিনি তার মজলিসে বসা ছিলেন। একদল লোক সেখানে আগমন করল। তারা তাকে জানাল, তিনি যেন কতক সম্মানিত লোকদের কিছু মাল দান করেন। এতে তিনি তাদের ভালোবাসা লাভ করবেন। তারা তার উত্তম সঙ্গ দেবে। এর দ্বারা সব পথ তার জন্য সুগম হয়ে যাবে। মজবুত হয়ে যাবে। পরে তিনি মানুষের মাঝে সমতা ও ইনসাফের ব্যবস্থা প্রয়োগ করবেন। আলী (রা.) তাদের এ প্রস্তাব কবুল করেননি। বরং তা এ বলে প্রত্যাখ্যান করে দেন, তোমরা কি আমাকে আদেশ দাও আমি যাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি তাদের সঙ্গে জুলুম করি। আর তার মাধ্যমে সাহায্য কামনা করি? আল্লাহর শপথ! আমি তা করব না। যদি এগুলো আমার মাল হতো তাহলে আমি এটা তাদের সামনে বিছিয়ে দিতাম। অথচ এটা জনগণের মাল, আমি এটা দিই কীভাবে?’
আলী (রা.) এর প্রসিদ্ধ আরেকটি ঘটনা, তিনি ও একজন খ্রিষ্টান একবার বিচারপতি শুরাইহের দরবারে মামলা দায়ের করলেন। খ্রিষ্টান লোকটি আলী (রা.) এর বর্ম চুরি করেছিল। দুজনই বিচার প্রার্থনা করলেন কাজীর দরবারে। আলী (রা.) তৎকালে ছিলেন মুসলিম জাহানের খলিফা। কাজী শুরাইহ অমুসলিম লোকটি থেকে জানতে চাইলেন। লোকটি বলল, বর্মটি তার এবং সেটি তার হাতেই রয়েছে। তখন কাজী শুরাইহ আলী (রা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, বর্মটি আপনার এমন কোনো প্রমাণ আছে? তখন আলী (রা.) হেসে দিলেন। ফলে বিচারপতি শুরাইহ বর্মটি অমুসলিম লোকটির বলে ফয়সালা দিয়ে দিলেন। লোকটি দেখল বিচারপতি মুসলিম জাহানের খলিফা ও তাদের নেতার বিরুদ্ধে ফয়সালা দিয়েছেন। তখন সে বলে উঠল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এগুলো হলো নবীদের কাজ। মুসলমানদের নেতা আমাকে তারই অধীন বিচারকের কাছে নিয়ে এলেন। আর তিনি তার বিরুদ্ধেই ফয়সালা দিলেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহর শপথ! হে আমিরুল মোমেনিন, বর্মটি আপনারই। (তাফসিরে ইবনে কাসির)। 
সুবহানআল্লাহ। এমনই ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। এমনই ছিল মুসলিম উম্মাহর আখলাক ও আচরণ। ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা, যা দেখে অমুসলিমরা ঈমান আনত মুগ্ধ নয়নে। প্রশান্ত চিত্তে। আর আজ আমরা কোথায়? কোথায় আমাদের নববি আখলাক? কোথায় সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ? 


শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত
পাথেয়
  ‘যেখানে থাকো, যে অবস্থায় থাকো, আল্লাহর ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন করবে।
বিস্তারিত
শ্রেষ্ঠ নবীর শ্রেষ্ঠ স্বভাব
গত শুক্রবার মসজিদে নববিতে শীতার্ত এক বয়োবৃদ্ধ ওমরায় আগমনকারী গভীর
বিস্তারিত
মহিলাদের কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে
কবর জিয়ারত পুরুষদের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা কবর
বিস্তারিত
পরিবেশ ও প্রকৃতি : ইসলামি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা ও দূষণ প্রতিরোধে সবার যথোচিত দায়িত্ব পালন
বিস্তারিত
লজ্জা অনৈতিক কাজের প্রতিবন্ধক
আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালো আর মন্দ, পাপ আর নেক উভয়
বিস্তারিত