ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ও জুয়া

ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ও জুয়ার প্রশ্ন : শরিয়াভিত্তিক ইসলামি ইন্স্যুরেন্স প্রক্রিয়া-পদ্ধতি যারা অবলম্বন করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে জুয়া ও লটারি ইত্যাদির তো প্রশ্নই আসে না এবং তার কোনো প্রয়োজনও পড়ে না। এমনটি প্রশ্ন আসতে পারে, হয়তো সুদি কার্যক্রম দ্বারা পরিচালিত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে। ইসলামি ইন্স্যুরেন্সগুলোতে বিমার দাবি পরিশোধে দুটি প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়ে থাকে বা হতে পারে। যার একটির কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, অর্থাৎ সাধারণত এমন প্রয়োজনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্যোক্তারা একটা তহবিল ‘তাবাররু’ নামে পৃথক গঠন করে রাখেন এবং মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মোতাবেক পূর্ব-সম্মতি ও শর্ত মোতাবেক প্রত্যেক সদস্য এবং শেয়ারহোল্ডার নিজ নিজ প্রিমিয়াম বা কিস্তি হিসেবে যে টাকার অঙ্ক জমা করেন, তার উদাহরণত ৫ শতাংশ ওই ‘তাবাররু’ ফান্ডে চলে যায়। অবশিষ্ট মূল টাকা এবং এ ছোট অঙ্ক সবই ব্যবসায়-বিনিয়োগে লেগে থাকে। উভয় ফান্ডের বিনিয়োগ থেকেই মুনাফা আসে। তবে এরই মধ্যে যদি কোনো সদস্য মারা যান বা দুর্ঘটনায় পড়েন, তাহলে সেক্ষেত্রে এ ‘তাবাররু’ ফান্ড থেকে সংশ্লিষ্ট বিপদগ্রস্তের বিমার দাবি সহজেই পরিশোধ করে দেওয়া যায়। এখানে লটারিরও কোনো সুযোগ ও প্রয়োজন নেই এবং জুয়াবাজিরও প্রশ্নই উঠে না। আমাদের সমস্যা হলো, আমরা পুরোপুরি না বুঝে ও না জেনে অথবা অবাস্তব শোনা কথায় বিশ্বাস করে প্রশ্ন করে থাকি কিংবা অপপ্রচারে জড়িয়ে পড়ি। অথচ পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা হলোÑ ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; কর্ণ, চক্ষু, হৃদয়Ñ তার প্রত্যেকটির সম্পর্কেই কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৬)।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, ‘সহজেই বিমার দাবি শোধ’ করা যায় কীভাবে? এক সঙ্গে ৫ লাখ, ২০ লাখ বা আরও বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব? ছোট একটা অঙ্কের প্রিমিয়াম জমা করে, অল্প কিছুদিন পর মৃত্যুতে একটা বিরাট অঙ্ক প্রাপ্তিতে লটারি বা জুয়ার সাদৃশ্যÑ এর প্রশ্ন উঠছে না? তার জবাব হলো, প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মাসিক/ত্রৈমাসিক/সান্মাষিক/বার্ষিক প্রদেয় কিস্তি যা-ই হোক, গড়ে প্রতি মাসে হাজার হাজার সদস্যের যে প্রিমিয়ামগুলো জমা পড়ে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই একটা বড় অঙ্ক জমা হয়ে থাকে। যার ৫ শতাংশ হারে বিপদগ্রস্ত সদস্যের সাহায্যার্থে পূর্ব-সম্মতি ও শর্ত মোতাবেক ‘তাবাররু’ ফান্ডে জমা হলো; সেখানেও একটা বড় অঙ্ক হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রতি মাসে হাজার হাজার সদস্য বিপদগ্রস্ত বা মারা যাচ্ছেন না। মাসে বা ছয় মাসে একজন সদস্য মারা গেলে তার বিমার দাবির বড় একটা অঙ্ক শোধ করা মোটেও কঠিন হয় না। কেননা সংশ্লিষ্ট জড়িত অভিজ্ঞজনদের ভাষ্য মতে, এক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি বা বিমার দাবি পরিশোধ করতে গিয়ে মূল প্রিমিয়ামে হাত দেওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না; শুধু ‘তাবাররু’ তহবিল থেকে শোধ করে, তাতেও বড় মাপের তহবিল অবশিষ্ট থেকে যায়। সুতরাং যেখানে ‘জুয়া’র অস্তিত্বই নেই সেখানে জুয়া বা জুয়ার সাদৃশ্য খোঁজা বা তেমন কাল্পনিক চিন্তা বা যোগ-বিয়োগ সাজিয়ে ইসলামি ইন্স্যুরেন্সগুলোকেও সুদি বিমার কাতারে ফেলে, চোখ বন্ধ করে ফতোয়াদানের অধিকার ইসলামি শরিয়ত কাউকে প্রদান করেনি।
আমাদের ওস্তাদ ও প্রবীণ আলেমদের, বিশেষ করে যেখানে ইসলামি ব্যাংক ও ইসলামি বিমা শুরুর প্রারম্ভিককালে জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব ওস্তাদুল-আসাতেজা মাওলানা উবায়দুল হক প্রমুখের মতো হক্কানি ও মুত্তাকি মনীষীরা ওই ব্যাংক ও বিমাকে ইসলামীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন; সুদি প্রক্রিয়া-পদ্ধতি ও জুয়ামুক্তির ব্যবস্থাপনা হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, এমনকি নিজেরা শরিয়াবোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, প্রচলিত সুদি ও ইসলামি ব্যাংকিং ও বিমাকে পৃথক করে দিয়ে গেছেন। সেখানে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস রাখা চাই। তারপরও কোথাও যদি সন্দেহ-সংশয় দেখা দেয়, তা অনুসন্ধানের তো আমাদের সুযোগ আছেই। সুতরাং ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ হিসেবে বা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক মতলবে এসব ইসলামি ব্যাংকিং ও বিমা ব্যবস্থাকে বিতর্কের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং সাধারণ মুসলিম জনতাকে সন্দেহের দিকে ঠেলে দেওয়া নিজের পায়ে নিজেদের কুঠারাঘাত করার নামান্তর। 
উল্লেখ্য, আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যুর পূর্বে (সম্ভবত) ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ইসলামীকরণে স্বাক্ষর করে এসেছেন! যা পরে (যাদের মাধ্যমেই হোক) ১৯৮০’র পরে বাংলাদেশে ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার সেই একই বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম দুটি ‘ইসলামি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’ স্থাপনের অনুমোদন দেয়। যার প্রমাণ পাওয়া যায় বিদগ্ধ ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাবেক মহাপরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন, এজেডএম শামসুল আলমের লেখা ‘ইসলামী তাকাফুল’ পুস্তকটিতে। যেমনÑ
 ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এরই মধ্যে দুটি ইসলামি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং একটি ইসলামি জীবনবীমা কোম্পানি স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে এক বিরাট এবং বিরল অবদান রেখেছেন। উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদসহ অনেকে। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ (পৃ. ৮)।

লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন


আজানের মহিমা
সর্বোপরি আজান হচ্ছে নামাজের আহ্বান। আর নামাজের গুরুত্ব যে সর্বাধিক,
বিস্তারিত
আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ মক্কা মোকাররমা
  আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ। পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত আরব উপদ্বীপের প্রাচীনতম দ্বীনি
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
ধৈর্য ও সহনশীলতা : নবীজির (সা.) বাড়িতে শুধু শান্তি আর
বিস্তারিত
ফুটপাতে ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে
  প্রশ্ন : আমি ফুটপাতের দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করি।
বিস্তারিত
২৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন
আসছে ২৯ নভেম্বর শুক্রবার বাদ আসর বাংলাদেশ কারি সমিতির উদ্যোগে
বিস্তারিত
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা
ইসলাম অতীত ক্ষমা করে দিয়েছে। কারণ ইসলাম পূর্বকৃত সব গোনাহ
বিস্তারিত