পোশাকের শালীনতা

পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। পোশাকে মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সৌর্ন্দয, আদব ও তাকওয়ার প্রকাশ পায়। সুন্নতি পোশাক পরিধানের মাধ্যমে পরিবার ও বংশমর্যাদা ফুটে ওঠে। পোশাক মানুষের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এছাড়া পোশাক-পরিচ্ছদ আল্লাহ তায়ালার দান। আল্লাহর ভয় থেকেই মূলত পোশাক পরিধান করতে হয়। পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করার ক্ষেত্রে বেশভূষার পাশাপাশি তাকওয়ার বিষয়টি মাথায় থাকতে হবে। কারণ যে কাজে আল্লাহর ভয় থাকবে না, সেখানে শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তাকওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে পোশাক পরিধান করতে হবে। এরশাদ হয়েছে ‘হে বনি আদম! তোমাদের লজ্জা ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদের পোশাক দিয়েছি এবং তাকওয়ার পোশাকই সর্বোৎকৃষ্ট।’ (সূরা আরাফ : ২৬)। 
ঘরে-বাইরে সুন্নতি পোশাক পরিধানের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয় নিরাপদ। সমাজের বখাটেরা সুন্নতি পোশাক পরিধানকারী নারীকে উত্ত্যক্ত করতে পারে না। সুন্নতি পোশাকে নারীর পর্দা ও সতীত্ব উভয় বজায় থাকে। এছাড়া যে বা যারা শালীনতার সঙ্গে পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করবে, সমাজে তারা অন্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ থাকবে। কাটছাঁট, ছেঁড়াফাটা, টাইটফিট, কুরুচিপূর্ণ পোশাক ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ এসব কুরুচিপূর্ণ পোশাক পরিধান করার ফলে সমাজে বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনা ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। জেনা, ব্যভিচার, অশ্লীলতা, ধর্ষণ ও পরকীয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরশাদ হয়েছে ‘হে নবী! আপনি আপনার পতœী, কন্যা ও মোমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।’ (সূরা আহজাব : ৫৯)। 
নারী-পুরুষ উভয়কে সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে হবে। কারণ বেহায়াপনার পোশাক পরিধানের জন্য নারী-পুরুষ উভয়কে গোনাহগার হতে হবে। এরশাদ হয়েছে ‘হে নবী! আপনি মোমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম পন্থা।’ (সূরা আহজাব : ৩০)। একইভাবে ‘আপনি মোমিন নারীদেরও বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, তারা যেন তাদের সৌর্ন্দয প্রদর্শন করে না বেড়ায়।’ (সূরা আহজাব : ৩১)। 
সুন্দর, মার্জিত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করার জন্য ইসলাম অনুমতি দিয়েছে। আবার গোনাহের কাজ হয়, অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে, এ জাতীয় পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। যেমনটি নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করার জন্য কোরআনে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেকে সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করবে।’ (সূরা আরাফ : ৩১)। 
সুতরাং আমরা সুন্দর পোশাক অবশ্যই পরিধান করব। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, এক্ষেত্রে পোশাকের আদব ও তাকওয়া যেন নষ্ট না হয়।


তওবার স্তর সর্বোচ্চ মর্যাদা
তওবা ছিল নবী-রাসুলদের রীতি ও অভ্যাস, যা তাদের কাছে নিজেদের
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
(পর্ব-১১) নবীজির বিনয় নবীজি (সা.) সবচেয়ে চরিত্রবান ব্যক্তি। তিনি কোরআন মতে
বিস্তারিত
মানবতার হারানো শান্তি ইসলামে
গোটা বিশ্বে মানবতা আজ পদদলিত, নিগৃহীত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। মানবতার
বিস্তারিত
শুক্রবার আসরের পর পূর্বসূরিদের আমল
১. তাউস ইবনে কায়সান (রহ.) জুমার দিন আসর নামাজের পর
বিস্তারিত
অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ভয়াবহতা
রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ অপরাধী হওয়ার জন্য কোনো মুসলমান ভাইকে
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
ফজরের পর  আগের পর্বে আমরা নবীজি (সা.) এর রাতের ইবাদত
বিস্তারিত