মহিলা সাহাবি হামনা বিনতে জাহাশ (রা.)

যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম

হামনা বিনতে জাহাশ বিন রিয়াব আল-আসাদিয়্যাহ। বংশীয় সূত্রে বনি আসাদ বিন খুজাইমার অন্তর্ভুক্ত। বিখ্যাত সাহাবি উম্মুল মুমেনিন জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) এর বোন। মুসআব বিন ওমায়ের (রা.) এর জীবনসঙ্গী। ওহুদ যুদ্ধে মুসআব (রা.) মারা যান। ফলে তিনি তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) এর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার ঔরসে তালহার দুই পুত্র জন্মলাভ করেন। মুহাম্মদ ও ইমরান। তিনি ছিলেন নবীজি (সা.) এর বাইয়াত গ্রহণকারীদের একজন। ওহুদ যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি পিপাসার্তদের পানি পান করাতেন। আহতদের সেবা-শুশ্রƒষা করতেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন।

ইবাদতে তার কোরবানি
ইমাম আহমদ (রহ.) তার মুসনাদ গ্রন্থে সাবেত (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুর রহমান বিন আবু লায়লা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার মসজিদে দুই খুঁটির মাঝখানে একটি রশি বাঁধা দেখলেন। তিনি বললেন, এটা কার? সাহাবিরা বললেন, এটা হামনা বিনতে জাহাশ (রা.) এর। যখন তিনি এবাদত করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়েন তাতে নিজেকে বেঁধে রাখেন। রাসুল (সা.) বললেন, তার সক্ষমতা অনুযায়ী সে যেন এবাদত করে। যখন অক্ষম হয়ে পড়বে তখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে।

রাসুলের সান্নিধ্যে কিছুক্ষণ
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাহাশ (রা.) বর্ণনা করেন, ওহুদ যুদ্ধ থেকে রাসুল (সা.) সবেমাত্র ফিরে এসেছেন। তখন মহিলারা সংবাদ জানতে এলেন। তারা লোকদের কাছে তাদের পরিবারের লোকদের খবরাখবর জানতে চাইলেন। কেউই সংবাদ দিতে পারলেন না। তখন তারা নবী (সা.) এর দরবারে এলেন। কোনো মহিলা সংবাদ জানতে চাইলে নবী (সা.) উত্তর দিতেন। একপর্যায়ে হামনা বিনতে জাহাশ (রা.) এলেন। রাসুল (সা.) বললেন, হে হামনা! তোমার ভাই আবদুল্লাহ বিন জাহাশের প্রতিদান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করো। তিনি বললেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (আমরা তো আল্লাহর জন্যই এবং তারই কাছে ফিরে যেতে হবে)। আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাকে ক্ষমা করুন। 
অতঃপর নবী (সা.) বললেন, হে হামনা! তোমার মামা হামজা বিন আবদুল মুত্তালিবের প্রতিদান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করো। তিনি বললেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (আমরা তো আল্লাহর জন্যই এবং তারই কাছে ফিরে যেতে হবে)। আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাকে ক্ষমা করুন। তখন নবী (সা.) বললেন, হে হামনা! তোমার স্বামী মুসআব বিন ওমায়েরের প্রতিদান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করো। তখন তিনি বললেন, হায় যুদ্ধ! ... 
মুহাম্মদ বিন ওমর তার বর্ণিত হাদিসে বলেন, নবী (সা.) তাকে বললেন, তুমি অন্যদের ব্যাপারে যা বলোনি তা মুসআবের ব্যাপারে কীভাবে বললে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তার এতিম সন্তানদের কথা মনে করে এমনটি বলেছি। 
যখন হামজার ঔরসে মুহাম্মদ বিন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ জন্ম গ্রহণ করল, তখন তিনি নবী (সা.) এর দরবারে গেলেন তাকে নিয়ে। তখন নবী (সা.) তার নাম রাখেন মুহাম্মদ। ডাক নাম রাখেন আবু সুলাইমান। ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন তালহা তার চাচা ইমরান বিন তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বর্ণনা করেছেন সরাসরি তার মায়ের কাছ থেকে। তিনি হলেন হামনা বিনতে জাহাশ। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) এর কাছে এলাম। বললাম, আমি মারাত্মক ধরনের ইস্তেহাযাগ্রস্ত। তিনি বললেন, তুমি কুরসুপ (কাপড়ের টুকরা) ব্যবহার করবে। আমি বললাম, এটা তাতে আটকাবে না। তার চেয়েও বেশি। সেটা স্ববেগে নির্গত হয়। তিনি বললেন, তাহলে বেঁধে রাখবে। আর প্রতি মাসে ৬ দিন বা ৭ দিন হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। অতঃপর ভালো করে গোসল করবে। রোজা রাখবে। ২৩ বা ২৪ দিন নামাজ পড়বে। ফজরের নামাজের জন্য একবার গোসল করবে। আরেকবার জোহরের জন্য। আসর তাড়াতাড়ি সেরে নেবে। তার জন্য একবার গোসল করবে। অতঃপর আরেকবার করবে মাগরিবের জন্য। আর এশা তাড়াতাড়ি পড়বে। তার জন্যও গোসল করে নেবে। এটা আমার কাছে দুটি বিষয়ের পছন্দনীয় দিক।...

হামনা বিনতে জাহাশ বর্ণিত হাদিস 
হামনা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘সাবধান! নিশ্চয় দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট, সজীব। দুনিয়ার মোহে লিপ্ত অনেক ব্যক্তি আখেরাতে জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই পাবে না।’ 
আরবি অবলম্বনে


আজানের মহিমা
সর্বোপরি আজান হচ্ছে নামাজের আহ্বান। আর নামাজের গুরুত্ব যে সর্বাধিক,
বিস্তারিত
আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ মক্কা মোকাররমা
  আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ। পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত আরব উপদ্বীপের প্রাচীনতম দ্বীনি
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
ধৈর্য ও সহনশীলতা : নবীজির (সা.) বাড়িতে শুধু শান্তি আর
বিস্তারিত
ফুটপাতে ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে
  প্রশ্ন : আমি ফুটপাতের দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করি।
বিস্তারিত
২৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন
আসছে ২৯ নভেম্বর শুক্রবার বাদ আসর বাংলাদেশ কারি সমিতির উদ্যোগে
বিস্তারিত
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা
ইসলাম অতীত ক্ষমা করে দিয়েছে। কারণ ইসলাম পূর্বকৃত সব গোনাহ
বিস্তারিত