আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না

আজ সমাজে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটিপতি সর্বশ্রেণি হতাশার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত। দিনশেষে একজন ভিক্ষুক হতাশ তার আশানুরূপ ভিক্ষা না পাওয়ায়। একজন লাখোপতি হতাশ, কারণ তিনি কোটিপতি নন। আরেকজন কোটিপতি হতাশ, কারণ তিনি শতকোটি টাকার মালিক নন। ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে নিষেধ করেছে।
এক কথায় হতাশার কোনো স্থান নেই ইসলামে। আল্লাহ বলেন ‘আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সূরা জুমার : ৫৩)।
বিখ্যাত প-িত ইমাম গাজ্জালি (রহ.)] বলেছেন প্রতিটি বেদনা বস্তুত একেকটি সম্ভাবনা। বিপদে-আপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্যধারণ কর এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিপদের মোকাবিলা কর।
বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি বলেছেন মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। 
জীবনের কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। কিন্তু একটা কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যায় যে, জীবনে দুঃখও কিন্তু চিরস্থায়ী নয়।
ইসলামি জীবনদর্শনের মূলকথা হচ্ছে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। আখেরাতের তুলনায় আমাদের পৃথিবীর জীবনটা হচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এক হাদিসে এসেছে মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম! পরকালের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হলো যেমন তোমাদের কেউ সাগরের মধ্যে নিজের একটি আঙুল ডুবানোর পর লক্ষ করে দেখুক আঙুল কী পরিমাণ পানি নিয়ে এলো। (মুসলিম, মেশকাত : ৫১৫৬)। এ হাদিসে বোঝানো হয়েছেÑ আঙুলের পানি এবং সাগরের পানি কম-বেশ হওয়ার ব্যাপারে তুলনা যেমন, ইহকাল ও জান্নাতের তুলনা তেমন।
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন ‘দুনিয়াটা মহান আল্লাহর কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। তার প্রমাণ হলো, ঈমানদার মানুষ আল্লাহ কাছে অত্যন্ত প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে অভুক্ত রাখেন। আর কুকুর ইতর প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও তৃপ্তি সহকারে তার খাবারের ব্যবস্থা করেন।’
এ দুনিয়ায় কাফের লোক খাবার খায়, পানীয় পান করে, সুন্দর পোশাক পরে, ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়। আর ঈমানদার লোক খাবারের অভাবে, কাপড়ের অভাবে জীবনযাপন করে।
একবার এক লোক ইমাম আহমাদ (রহ.) এর সাক্ষাতে এসে বলল, ‘আমাকে কিছু নসিহত (ওয়াজ) করুন।’ তিনি বললেনÑ ১. যদি তুমি বিশ্বাস করো যে, আল্লাহই তোমার রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাহলে রিজিকের জন্য এত দুশ্চিন্তা কীসের?
২. যদি দুনিয়া নশ্বরই হয়ে থাকে, তাহলে এখানে আত্মতৃপ্ত কেন?
৩. যদি হিসাব-নিকাশ সত্যই হয়ে থাকে, তাহলে সম্পদ সঞ্চয়ের এত প্রবণতা কেন?
৪. যদি সবকিছু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে এত ভয় আর শঙ্কা কেন?
৫. যদি মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন-উত্তর সত্যই হয়, তাহলে এত ভাব আর অন্য প্রতি টান কেন?’
তারপর লোকটি ইমাম আহমাদের কাছ থেকে বের হয়ে গেল এবং মনে মনে শপথ করল, সে সবসময় আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। (আল-মাদখাল : ৩/৩৫৭)।
সুখে থাকার জন্য এর চেয়ে উত্তম কথা আর কী হতে পারে? এ ছয়টি কথা যদি আমরা সবসময় স্মরণে রাখতে পারি, তাহলে ভেবে দেখুন তো আপনার জীবন কতটা ঝুটঝামেলা মুক্ত হবে! কতটা প্রশান্তি বিরাজ করবে মনে!
পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহের মধ্যে আমাদের জীবনের হতাশারোধে অনেকগুলো আমল বর্ণিত হয়ে হয়েছে। যথা 
১. নামাজ আদায় : নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য লাভের সর্বপ্রথম ও প্রধান সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। আল্লাহ বলেন ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্র্যশীলদের সঙ্গেই রয়েছেন।’ (সূরা বাকারা : ৪৫)।
রাসুল (সা.) যখন কোনো সমস্যায় পড়তেন বা চিন্তাগ্রস্ত হতেন তখনই তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৫/৩৮৮)।
আল্লামা শানকিতি বলেন, ধৈর্যের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা সুস্পষ্ট বিষয়। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে এক সময় তার ওপর আল্লাহ?র রহমত নেমে আসবে এবং সে সফলকাম হবে।
২. আল্লাহকে ভয় করা : দুনিয়া ও আখেরাতের সাফল্যের লাভের জন্য আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের জীবনের যাবতীয় সংকট নিরসন করে দেবেন। আল্লাহ বলেন ‘আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে দান করবেন রিজিক।’ (সূরা তালাক : ২-৩)।
৩. তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি : তাকদিরের প্রতি আমাদের বিশ্বাস যত বাড়বে। আমাদের জীবন তত বিশুদ্ধ হবে। হতাশা তত কমবে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে নবী (সা.) বলেছেন ‘জেনে রেখো! সব মানুষও যদি তোমাকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়; তবে তারা ততটুকু করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য পূর্বেই লিখে রেখেছেন।’ (তিরমিজি)।
৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করা : ওমর (রা.) এর রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন ‘যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে; তবে আল্লাহ? তায়ালা পাখির মতো রিজিক দান করতেন। পাখি সকালবেলায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় উদরপূর্তি করে ফিরে আসে।’ (তিরমিজি : ২৩৪৪; ইবনে মাজা : ৪১৬৪)। 
৫. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা : আমরা যদি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তেগফার করি আমাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে দেবেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে লোক সবসময় গোনাহ মাফ চাইতে থাকে (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে) আল্লাহ তাকে সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (আবু দাউদ)।


বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতের সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম
বিস্তারিত
জুমাতুল বিদা আজ
আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২৮ তারিখ। আজ জুমাবার। এটাই এ
বিস্তারিত
চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে
চলছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম-সাধনার এ মাস জুড়েই রয়েছে রহমত,
বিস্তারিত
কাল পবিত্র লাইলাতুল কদর
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র 'লাইলাতুল কদর'। মহিমান্বিত এ
বিস্তারিত
১০ বার কোরআন খতমের সওয়াব
একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দিনগুলো।
বিস্তারিত
মাগফিরাতের ১০দিন শুরু এবং আমাদের
আজ থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের ১০ দিন। দুনিয়ার সকল গোনাহগার
বিস্তারিত