মার্কিন জোটের হামলার বলি আফগান নারী-শিশুরা

 

‘নানকারহার’ প্রদেশের ‘কোত’ জেলার বাসিন্দা ছাওয়াব খান তাওয়াব। ষাটোর্ধ্ব বয়স। ১৪ জুন রাতে মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠান উদযাপন করছিলেন। হঠাৎ আফগান ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ অভিযান। বাড়ির দরজায় বোমা বিস্ফোরণ। তিনি কাঁধে মারাত্মক জখমের শিকার হন। এতে নিহত হয় তার আদরের পুত্র ও আপন ভাতিজা। 
‘নিউ অ্যারাব’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাওয়াব বলেন, তার দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বাহিনী। জালালাবাদ শহরের কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটিতে তাদের নিয়ে যায়। তালেবান নেতাদের সহযোগিতার অভিযোগ আনে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু কয়েকদিন পরে তাদের আবার ছেড়ে দেয়। এটাই প্রমাণ বহন করে, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, তার বাড়িতে তালেবান নেতাদের জমায়েত হওয়ার সংবাদটি ছিল ভুল ও ষড়যন্ত্রমূলক।
তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, তাওয়াবের ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুর পর ১৪ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত আফগান বাহিনীর গোলাবর্ষণে দক্ষিণ আফগানিস্তানের ‘ওরুজগান’ প্রদেশে কমপক্ষে ৩৫ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। অপরদিকে মধ্য আফগানিস্তানের ‘লোগার’ প্রদেশের ‘কামালখাইল’ এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বোমার আঘাতে কমপক্ষে ২৫ বেসামরিক লোক নিহত হয়। আফগান বাহিনীর রাতের হামলা ও গোলাবর্ষণে মধ্য আফগানিস্তানের ‘ওয়ার্দাক’ প্রদেশের ‘চুগতো’ জেলার দশজন নাগরিক নিহত হয়। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় উত্তর আফগানের ‘বাগলান’ প্রদেশের সাতজন নাগরিক নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়। রাস্তার মাঝে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে কান্দাহার প্রদেশের ‘খাকরিজ’ জেলায় গাড়িতে চলন্ত অবস্থায় ১০ জন প্রাণ হারায়। এছাড়াও ১৯ সেপ্টেম্বর ‘নানকারাহার’ প্রদেশের ‘ওজিরতাঙ্গি’ এলাকায় কৃষক ও শ্রমিকরা পাইন গাছের ফল কাঁটা থেকে ফেরার পথে ড্রোন হামলার নির্মম শিকার হয়। এতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়। 
‘নিউ অ্যারাব’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা টিম’ (এটি একটি সামাজিক সহযোগিতামূলক সংস্থা, যার কাজ নিহত নাগরিকদের খবরাখবর রাখা ও তাদের স্বজনদের সহযোগিতা করা) এর প্রধান ‘আজিজ আহমদ তাসাল’ ২০ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সহিংস কর্মকা-ে ৬০০ বেসামরিক লোক নিহত ও আহত হওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।

অব্যাহত অধিকার লঙ্ঘন
এপ্রিল ২০১৯ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন আক্রমণে ৪৯৮ বেসামরিক লোক নিহত হয়, এছাড়া আহত হয় ৭৮৭। ২০১৮ সালে মহিলা ও শিশু মিলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৬১৫ জন ও আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ২৭ জন।
নিহতের বিষয়টি শুধু ‘অনিচ্ছায় বোমাবর্ষণ ও সশস্ত্র অপারেশনের শিকার’ এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯ জুলাই কাবুল ইউনিভার্সিটির কাছে আত্মঘাতী হামলায় আটজন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়। তার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি শিশু শিহাবও রয়েছে। সে ছিল পূর্ব-উত্তর আফগানিস্তানের ‘তাখার’ প্রদেশ থেকে আগত তার মা হালিমার সঙ্গে। তিনি ‘নিউ অ্যারাবে’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর আমার সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, ছেলেকে চিকিৎসার জন্য সরকারি ইন্দ্রিরা গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা টিমে’র তথ্যমতে এপ্রিল, মে, জুন (২০১৯) এ ক’মাসে ১৫৪ শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। অপরদিকে এ সময়ে নিহত ও আহত মহিলার সংখ্যা ৬০। 

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সরকারি মানবাধিকার সংস্থার সাবেক সদস্য মুসা মাহমুদি অভিযোগ করেন, তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মাঝে চলমান যুদ্ধে বেসামরিক লোক মারা যাওয়ার কারণ তালেবান। অপরদিকে তালেবানের মুখপাত্র জবীহুল্লাহ মুজাহিদ জুন ২০১৯ এ প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তালেবান এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা সাধারণ জনগণের ক্ষতির কারণ হয়। 
‘সালাম ইউনিভার্সিটির’ গবেষক ও শিক্ষাবিদ ‘শুকরুল্লাহ মুখলিস’ নিউ অ্যারাবকে বলেন, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনী দাবি করেছেন, তার হাত রক্তে রঞ্জিত নয়। সুতরাং যদি এলোপাতাড়ি বোমা বর্ষণ ও রাতের বেলা অপারেশন পরিচালনা প্রেসিডেন্টের ইচ্ছামাফিক না হয়, তাহলে তার ডকুমেন্ট দেখাতে হবে। অন্যথায় বিপরীত দিকটাই প্রমাণিত হয় এবং বোঝা যায় বিষয়গুলো পরামর্শ সাপেক্ষে সংঘটিত, তাহলে ধরে নিতে হবে, প্রেসিডেন্টও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও জনগণের রক্তে তার দুই হাত রঞ্জিত। 

অবস্থা পরিবর্তনের আশ্বাস
আঞ্চলিক নেতা হাসান ‘নিউ অ্যারাব’কে বলেন, বেসামরিক লোক হত্যার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ‘হামদুল্লাহ মুহিবে’র সঙ্গে আঞ্চলিক কিছু নেতার বৈঠক হয়েছে। তিনি গত মাসের ২০ তারিখে বিষয়টি নিয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছু দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। 
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ‘ড. হামদুল্লাহ মুহিব’ যুদ্ধ ও বেসামরিক লোক হত্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখাশোনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করার ঘোষণা দেন জুলাই মাসের ১৬ তারিখ। কিন্তু নিরাপত্তা বিশ্লেষক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত, ‘ইসমাঈল ওজীরি’ মনে করেন, এ রকম সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরগত কোনো কার্যকারিতা নেই। এগুলো নিহতদের অধিকার আরও খর্ব করবে। বিশেষ করে এ রকম চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অপরাধ তদন্ত করা খুবই কঠিন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বর্ণান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে আনুগত্যশীল রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অনেক সময়ই বহু ক্ষীণ হয়ে থাকে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মুখপাত্র ‘কবীর হামকল’ এ বিষয়ে নিউ অ্যারাবকে বলেন, বেসামরিক লোক হত্যার ব্যাপারে পুনর্দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টিকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

হ নিউ অ্যারাব (আরবি) থেকে ভাষান্তরিত


গিবত ও পরনিন্দার ভয়াবহতা
মোমিনের জন্য তার কাছে কেউ গিবত করুক এমন অনুমতি দেওয়াও
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
নবীজির এক স্ত্রীর কাহিনী যখন ভাবছিলাম তখন পেয়ে গেলাম নবীজির
বিস্তারিত
নবীজীবনে জালেমদের জন্য শিক্ষা
উসাইদ বিন হুজাইর (রা.)। রাসুলের সাহাবি। ছিলেন রসিক ও লাবণ্যময়।
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী মোহাম্মদ তোমাদের কোনো ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর
বিস্তারিত
পাথেয়
ইমাম হাতিম আল আসাম রহিমাহুল্লাহ বলেন পাঁচটি বিষয় ব্যতীত কোনো
বিস্তারিত
বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয় : সচেতনতা
পরিবেশ রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম জোরালো ও একাডেমিক নির্দেশনা ইসলামই দিয়েছে।
বিস্তারিত