প্রয়োজন সিরাতে রাসুলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ

আবদুর রহমান বিন আবু বকর (রা.) বলেন, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) একটিমাত্র কামিজ (কাপড়) পরিধান করে আমাদের ইমামতি করেন। তার গায়ে কোনো চাদর ছিল না। সালাত শেষে তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসুল (সা.) একটিমাত্র জামা পরিধান করে সালাত আদায় করছেন। (আবু দাউদ : ৬৩৩)। জ

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি প্রেরিত হয়েছেন মানবজাতির জন্য রহমত ও হেদায়েতস্বরূপ। তার কথা-কাজ, আচার-আচরণ সবকিছ্ইু অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর জীবনাদর্শকে ধারণ করা প্রত্যেক মোমিনের অবশ্য কর্তব্য। অনেকে রাসুল (সা.) এর জীবনী সম্পর্কে অনেক কিছু জানে। শরিয়তের বিধানে যথেষ্ট প্রাজ্ঞ। কিন্তু মানার ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে তা থেকে পিছু হটতে চায়। অথচ রাসুলের অনুসরণ হওয়া আবশ্যক বিনা বাক্য ব্যয়ে। এটাই প্রকৃত আনুগত্যের দাবি। উবাইদ বিন খালেদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, একদা আমি মদিনার পথে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আমার পশ্চাতে একজন লোক বলে উঠলেন, তোমার লুঙ্গি উঁচু কর, কারণ এটা তাকওয়ার অধিক নিকটতম বা অধিক তাকওয়ার পরিচায়ক (অর্থাৎ, এতে অন্তর অহংকার থেকে পরিষ্কার থাকে) এবং কাপড় নষ্ট হওয়া ও ময়লাযুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। তখন আমি পেছনে ফিরে দেখি, তিনি রাসুল (সা.)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এটা তো মামুলি একটা চাদর (এটি নিচু করে পরলে আর কী অহংকার হবে? এরও কি হেফাজতের প্রয়োজন আছে?)। তিনি বলেন, আমার মধ্যে কি তোমার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ নেই? (অর্থাৎ, যদি কোনো উপকারিতা বুঝে না আসে, তবে কমপক্ষে আমার অনুসরণ তো করবে?) তখন আমি তাকিয়ে দেখলাম, লুঙ্গি তাঁর উভয় নালার মধ্যভাগ পর্যন্ত ঝুলন্ত। (শামায়েলে তিরমিজি : ১২০)। 
এ হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে, শুধু জ্ঞানার্জন যথেষ্ট নয়। মানতেও হবে নিঃর্শতভাবে। কোনো যুক্তি দেখানো যাবে না সুন্নতে রাসুলের অনুসরণে। ইসলাম ও ঈমানের দাবিদার প্রত্যেকের জন্যই তা জরুরি। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, তোমাদের থেকে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আহজাব : ২১)। তাই মোমিনমাত্রই তার আদর্শ পুরুষ হওয়া উচিত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুলুল্লাহ (সা.)।
তাকে মডেল বা আদর্শ পুরুষ মানতে প্রয়োজন তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আস্থা। ভালোবাসা ও মহব্বতের সম্পর্ক পৌঁছে দেবে অনুসরণের পর্যায়ে। তাই তো রাসুল (সা.) নির্দেশ করেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ মোমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার পিতা, তার সন্তান এমনকি সব মানুষ থেকে আমাকে বেশি মহব্বত করবে। (বোখারি : ১৫)। 
সাহাবায়ে কেরাম তাঁর সীমাহীন অনুসরণ করতে পেরেছিলেন ভালোবাসার খাতিরেই। তারা শুধু ইবাদত পালনে তাঁর অনুসরণ করেছেন তাই নয়, বরং তাঁর স্বভাবজাত ও মানবীয় বিষয়গুলো অনুসরণের চেষ্টাও তারা করেছেন। হাদিসের কিতাবাদি এসব ঘটনায় ভরপুর। খাওয়া-দাওয়া, হাঁটাচলা, বিশ্রামসহ সব ক্ষেত্রেই তারা তাকে বানিয়েছিলেন অনুসরণীয়। কয়েকটি ঘটনা পড়লেই আমরা বুঝতে পারব তাদের ভালোবাসা ও অনুসরণের অপূর্ব উদাহরণ। 
আবদুর রহমান বিন আবু বকর (রা.) বলেন, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) একটি মাত্র কামিজ (কাপড়) পরিধান করে আমাদের ইমামতি করেন। তার গায়ে কোনো চাদর ছিল না। সালাত শেষে তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসুল (সা.) একটিমাত্র জামা পরিধান করে সালাত আদায় করছেন। (আবু দাউদ : ৬৩৩)। জায়েদ বিন আসলাম (রহ.) বলেন, আমি ইবনে ওমর (রা.) কে দেখলাম জামার বোতাম খুলে সালাত আদায় করছেন। আমি এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি নবীজি (সা.) কে এভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (সহিহ ইবনে খুযায়মা : ৭৭৯)। উবাইদ বিন জুরাইজ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে ওমর (রা.) কে জিজ্ঞেস করেন, আমি আপনাকে দেখেছি, আপনি পশমবিহীন চামড়ার সেন্ডেল পরেন? তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে পশমবিহীন চামড়ার জুতা পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় অজু করতে দেখেছি। তাই আমি অনুরূপ জুতা পরতে পছন্দ করি। (শামায়েলে তিরমিজি : ৭৮)।
মহব্বত ও ভালোবাসা এমন একটি বস্তু, যা অনুসরণের ক্ষেত্রে অন্ধ বানিয়ে দেয়। আর রাসুলকেই শুধু অন্ধ অনুসরণ করতে হবে। এ জন্যই সাহাবায়ে কেরাম রাসুলকে যা করতে দেখেছেন বা বলতে শুনেছেনÑ এমন কোনো কিছু বাস্তবায়নে কালবিলম্ব করেননি। বিনা প্রশ্নে তা আঞ্জাম দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ধারা পরবর্তীদের মাঝেও চালু ছিল। হাম্মাদ বিন সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আবি রাফে (রহ.) কে তার ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আর তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে তার হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন। (তিরমিজি : ১৭৪৪)। 
এবার চিন্তা করা উচিত, সাধারণ থেকে সাধারণ ব্যাপারগুলোতেও সাহাবি ও তাবেয়িরা কীভাবে রাসুল (সা.) এর অনুসরণ করার চেষ্টা করতেন। আর আজকের পৃথিবীতে আমরা সেই রাসুলের আদর্শ থেকে কত দূরে? সাধারণ বিষয়গুলো বাদ দিলেও দ্বীনের বড় বড় দায়িত্ব পালনে আমাদের কী পরিমাণ অবহেলা ভাবা যায়? কোথায় আমাদের সুন্নতে রাসুল ও সিরাতে রাসুলের অনুসরণ? তাই আসুন সিরাতের মাসে সিরাতে রাসুলের আরেকটু কাছাকাছি হই। মহব্বত, ভালোবাসা ও অনুসরণের সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হই। গ্রহণ করি নতুনভাবে পথচলার বজ্রকঠিন শপথ। সিরাতে রাসুলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণই হোক সফলতার সোপান।


শ্রীলঙ্কায় বিতর্কিত রাজনীতিকের জয়ে আতঙ্কে
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাবায়া রাজাপাকসে বিজয়ী হওয়ায় কিছুটা
বিস্তারিত
অশ্লীল ও সহিংস কনটেন্ট বন্ধে
মুজাহিদুল ইসলাম  অশ্লীল বা সহিংস অথবা যে কোনো ধরনের নেতিবাচক কনটেন্ট
বিস্তারিত
ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের
  ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের আটজন নিহত
বিস্তারিত
মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিগত সাংস্কৃতিক উৎসবে
  সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ঐতিহ্যবাহী উম্মুল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে
বিস্তারিত
মিশরে সিসির বিরুদ্ধে হ্যাশট্যাগ ‘সেইভ
সম্প্রতি মিশরে হাজার হাজার কারাবন্দির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে অনশন
বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কায় বিতর্কিত রাজনীতিকের জয়ে আতঙ্কে
১৭ নভেম্বর লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আরবি-ইংরেজি গণমাধ্যম নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ
বিস্তারিত