প্রিয়নবীর প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা

নবীজি (সা.) কে ভালোবাসা ছাড়া কেউ মোমিন হতে পারবে না। নবীজিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ উপমা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নবীজিকে যে পরিমাণ ভালোবেসেছেন, যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই। নবীজির ভালোবাসায় নিজেদের জানমাল সন্তান-সন্ততিকে বিলীন করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন আমার কাছে রাসুল (সা.) ছাড়া অন্য কিছু প্রিয় ছিল না। তাঁকে আমি দুচোখ ভরে কখনও দেখতে পারিনি। অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে। তাই আমি তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করতে পারি না। আলী (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবীজিকে আপনারা কেমন ভালোবাসতেন? তিনি বললেন আল্লাহর কসম! আমরা নিজেদের ধনসম্পদ, সন্তান, মা-বাবা এবং তৃষ্ণার সময় ঠান্ডা পানি পান করার চেয়েও বেশি মহব্বত করতাম। 
বোখারি (রহ.) সাহাবাদের ভালোবাসা সম্পর্কে বর্ণনা করেন উরওয়া (রা.) কে কোরাইশরা হুদায়বিয়ার সন্ধির জন্য পাঠালে, তিনি ফিরে এসে বললেন আল্লাহর কসম! আমি বিভিন্ন রাজদরবারে গিয়েছি। রোম-পারস্য, হাবশাসহ অনেক দরবারে গিয়েছি। আল্লাহর কসম! আমি এমন কোনো বাদশা দেখিনি, যার সঙ্গী-সাথিরা তাকে এত মহব্বত করে, যেমনটা মুহাম্মদ (সা.) এর সাথিরা তাঁকে করেন। আল্লাহর কসম! তিনি যদি নাক ঝাড়েন ও থুতু ফেলেন মাটিতে পড়ার আগেই তার সাথিরা লুফে নেয়। চেহারা ও শরীর ডলতে থাকে। কোনো কাজের আদেশ করলে দ্রুতবেগে এগিয়ে যায়। যখন অজু করে অজুর পানি নেওয়ার জন্য পরস্পর কেমন যেন হত্যা করে ফেলবে। আর যখন কথা বলে, তখন তার সাথিরা সবাই চুপ থাকে। ভালোবাসার আতিশয্যে কেউ তাঁর দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় না। (বোখারি)। 
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আনাস (রা.) বলেন আমি দেখেছি নবীজি মাথা মু-ন করছেন। সাহাবিরা দুই হাত পেতে রয়েছে। একটি চুল মাটিতে পড়ার আগেই কারও না কারও হাতে পড়ছে। কে কার আগে এ বরকতময় চুল নেবে, এ যেন নিয়মিত প্রতিযোগিতা। 
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন এক অন্ধ লোকের একজন বাঁদি ছিল। সে নবীকে গালি দিত। নিত্যদিন এমনই করত। তাকে নিষেধ করা হলে বিরত থাকল না। ধমকানো হলো। কাজ হলো না। একদিন রাতেরবেলা। নবীকে গালি দিচ্ছিল। অন্ধ লোকটি একটি ছুরি হাতে নিল। সুযোগ বুঝে তার পেটে ঢুকিয়ে দিল। সে নিহত হলো। ফজরের পর রাসুল (সা.) এর কাছে সবকিছু খুলে বলল। লোকেরা একত্র হলো। নবীজি বললেন আমি আল্লাহর কসম দিচ্ছি, এমন কাজ কে করেছ? অন্ধ লোকটি দাঁড়াল। তার পুরো শরীর কাঁপছিল। নবীজির সামনে বসল। নবীজিকে বলল আমি তার মালিক। সে আপনাকে গালি দিত। আপনার দোষ খুঁজত। আমি তাকে নিষেধ করেছি। কিন্তু সে শোনেনি এবং তার থেকে আমার দুটি সন্তানও রয়েছে। মুক্তার মতো। আমি তাকে অনেক মহব্বত করতাম। কিন্তু গত রাতে আপনাকে গালি দিচ্ছিল। সহ্য করতে পারিনি। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে হত্যা করে দিয়েছি। নবীজি (সা.) বললেন তোমরা সাক্ষী থাক! তার রক্তের বদলা নিই। (আবু দাউদ, নাসাঈ)।
এমন হবেই না কেন? নবীজি তো ছিলেন তাদের শিক্ষক। একজন দরদি রাহবর। মুরুব্বি। যুদ্ধের সেনাপতি। দুনিয়া ও আখেরাতের পথপ্রদর্শক। একজন ইমাম। সর্বোপরি তাদের ব্যাপারে আখেরাতে একজন সুপারিশকারী। যদি আমাদের জান্নাতে যেতে হয়, একমাত্র নবীকে ভালোবাসতে হবে। নিজের প্রাণের চেয়ে, সন্তানের চেয়ে, ধনসম্পদ থেকেও বেশি। তাঁর ভালোবাসাই হবে আমাদের একমাত্র মুক্তির পথ। জান্নাতে যাওয়ার সহজ মাধ্যম।  
একইভাবে মনে রাখতে হবে, তাঁকে ভালোবাসার নামে তাঁর নিষেধকৃত কোনো ইবাদত বা উৎসব পালন করলেও পরকালে নিস্তার নেই। তিনি যা করেননি, তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ও সোনালি যুগের লোকরা যা করেননি, তেমন কিছু আমরা কোনো যুক্তিতেই যেন না করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
 


শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত
নবীজির হজের একঝলক
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ
বিস্তারিত
তাবলিগ ও ইজতেমা
আরবি ‘ইস্তেমা’ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’
বিস্তারিত
ইসলামের স্বার্থে ঐক্য জরুরি
মাহফিল অর্থ মিলন মেলা, মিলনায়তন; আর ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত,
বিস্তারিত