রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অবৈধ নেশা থামাতে হবে

ইসলাম সব ধরনের মাদক, নেশা, জুয়া ও নাচের আসর কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ভোগবাদী চোখে ইসলামের এসব বারণ ও নিষেধকে গোঁড়ামি মনে হয়। কিন্তু খোলা চোখ কিংবা চিন্তাশীল দৃষ্টি এর কোনোটাকেই সমর্থন করে না। কারণ আজ আমাদের সামাজিক যত বিপর্যয় ও অপরাধ, এর সবগুলোর পেছনেই রয়

ইসলাম সব ধরনের মাদক, নেশা, জুয়া ও নাচের আসর কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ভোগবাদী চোখে ইসলামের এসব বারণ ও নিষেধকে গোঁড়ামি মনে হয়। কিন্তু খোলা চোখ কিংবা চিন্তাশীল দৃষ্টি এর কোনোটাকেই সমর্থন করে না। কারণ আজ আমাদের সামাজিক যত বিপর্যয় ও অপরাধ, এর সবগুলোর পেছনেই রয়েছে এসবের হাত। এর সবই মানুষকে অপকর্ম ও পাপাচারে নিমগ্ন করে। মানবদেহ থেকে ছিনিয়ে নেয় সুস্থ ও পবিত্র সত্তা। 
সূরা বাকারার ২১৯নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে মদ ও জুয়ার কুফল বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। ‘তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।’ মদ ও জুয়া শব্দ দুটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। মদের অধীনে ওইসব নেশা জাতীয় দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত; যা মস্তিষ্কের বিকৃত ঘটায়। এভাবে জুয়াও তার সব ধরন ও প্রকারকে শামিল করে।
এ আয়াত নাজিলের কারণ প্রসঙ্গে মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা মদপান এবং জুয়া খেলায় অভ্যস্ত ছিল। এ দুটি বিষয় যখন তারা নবী (সা.) এর কাছে জানতে চাইলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাজিল করেন। 
মদ ও জুয়া বর্তমান আধুনিক সভ্যতায় আইনত অবৈধ হলেও কার্যত বৈধ; একশ্রেণীর লোকের কাছে বরং সভ্যতার অঙ্গ এবং আভিজাত্যের ধারক। ইসলামের আবির্ভাবের আগ থেকেই এভাবে প্রাচীন আরবদের মধ্যেও মদ ও জুয়া সভ্যতার পরিচায়ক ছিল। শুধু আরবেই নয়, সমগ্র বিশ্বে সভ্যতায় মদ ও জুয়া মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হতো। বিপরীতে ইসলামই মদ ও জুয়াকে হারাম ঘোষণা করে দুনিয়ার অদ্বিতীয় বিধান প্রবর্তন করেছে। মদ ও জুয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াতটি সর্বপ্রথম বিধান। পরে অন্য আয়াত দ্বারা মদ ও জুয়াকে অকাট্যভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সূরা মায়িদায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরগুলো এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?’ (আয়াত : ৯০-৯১)।
হাদিসেও দ্ব্যর্থহীনভাবে সব ধরনের মাদকদ্রব্য উৎপাদক, গ্রহণ, বিপণন ও পরিবহনকে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মদ, হাশিশ, হেরোইন, আফিম, চরস, ভাঙ, তাড়ি, ফেনসিডিল, ইয়াবা সব ধরনের মাদকদ্রব্যই সে বিবেচনায় হারাম। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি নেশা তৈরিকর দ্রব্যই নিষিদ্ধ।’ (মুসলিম)।
মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে ইসলামি আইনে নির্দিষ্ট ‘হদ’ বা শাস্তিও নির্ধারণ করা আছে। মুসলিম শাসনামলে এসব শাস্তি প্রয়োগও হতো কঠোরভাবে। মাদক সেবনকারীদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘মাদকাসক্ত ব্যক্তি, জাদুটোনায় বিশ্বাসী এবং রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসনাদ আহমদ ও মুসতাদরাক হাকেম)।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘সব মাদকদ্রব্য মদের পর্যায়ভুক্ত এবং সব মদই হারাম। পার্থিব জীবনে যে মদপানে অভ্যস্ত ছিল এবং তওবা না করে মারা যায়, পরলোকে সে জান্নাতের পানীয় থেকে বঞ্চিত হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
বর্তমান সরকারের চলমান মেয়াদের শুরু থেকেই আমরা মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে হার্ডলাইনে যেতে দেখেছি। সর্বশেষ হোমরা-চোমরাদের ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও ডিএমপি কমিশনার জিরো টলারেন্সের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ উদ্যোগ পরিপূর্ণ ইসলামের দাবি। এটি আমাদের স্বকীয়তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায়ও অপরিহার্য। এমন দরকারি উদ্যোগ ও অবস্থানের জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। দরকার শুধু দলনিরপেক্ষভাবে বিরামহীন এ অভিযান অব্যাহত রাখা। বিভিন্ন কলেজ-ভার্সিটিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড় হিসেবে যারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে মাদকসহ নানা অপরাধ সংঘটনে এগিয়ে, এদের নির্মূল এখন সময়ের দাবি।
আমরা বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সমাজ-জাতি ও ধর্ম-মূল্যবোধবিরোধী এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চলমান রাখতে হবে। উপরন্তু দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় যেসব অবৈধ হোটেল ও অসামাজিক কাজের আখড়া আছে সেসবকেও কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।


শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত
নবীজির হজের একঝলক
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ
বিস্তারিত
তাবলিগ ও ইজতেমা
আরবি ‘ইস্তেমা’ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’
বিস্তারিত
ইসলামের স্বার্থে ঐক্য জরুরি
মাহফিল অর্থ মিলন মেলা, মিলনায়তন; আর ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত,
বিস্তারিত