অবসরে যাওয়ার আগে আরেকটি অন্যায্য রায় দিয়ে গেলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি

বাবরি মসজিদের নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল। তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)। ‘রাম মন্দিরের জায়গায়ই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল’Ñ এ কথাটাও কোর্টে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা যায়নি। ফলে, কাল্পনিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়টি মন্দিরের পক্ষেই গেছে।
ভারতের সংবিধানে ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্ররূপে ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে ভারতের সব নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
অথচ বির্তকিত রায়ে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট তাদের সংবিধানের এই মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট ‘নির্মোহি আখাড়া’র পক্ষে রায় দিয়েছে। ভারতের সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট ঈড়সঢ়ষবঃব ঔঁংঃরপব বা ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের’ জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হতে পারে, সেরূপ নির্দেশ বা আদেশ দিতে পারবে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক শপথধারী ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট আজকে নির্লজ্জভাবে অপ্রমাণিত মন্দিরের পক্ষেই তাদের এই ঈড়সঢ়ষবঃব ঔঁংঃরপব বা ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের’ তত্ত্বটির প্রয়োগ করল!
ভুললে চলবে না যে, আইন-আদালত জমির মালিকানা নির্ধারণ করতে পারে; কিন্তু মানুষের ধর্মস্থান ও ধর্মীয় বিশ্বাস নির্ধারণের ক্ষমতা কোনো আদালতের সেই। আদালত বিরোধ নিষ্পত্তির জায়গা। অথচ ভারতের আদালত বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে আরেকটি বিরোধের জন্ম দিল!
আশ্চর্য এক রায়! আদালত বাবরি মসজিদ ভাঙাকে বেআইনি বললেও, যারা এই বেআইনি কাজটা করে একটা মসজিদকে শত কোটি মানুষের চোখের সামনে ভেঙে চুরমার করে দিল তাদের কোনো বিচার বা শাস্তি কোনোটাই দেওয়া হলো না!
আসলে যে বিচারপতি আসামের এনআরসির নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনিই সপ্তাহ পর অবসরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে আরেকটি মুসলিম বিদ্বেষী রায় দিয়ে গেলেন। চরম হিন্দুত্ববাদী ভারত রাষ্ট্রের অশুভ যাত্রাপথকে এই রায়ের মাধ্যমে আরও বেশি উৎসাহিত করা হলো। এর ফলে এখন থেকে আরও বেশি মাত্রায় গোরক্ষার নামে নির্বিচারে মুসলিম হত্যা করা হবে! এনআরসির বাহানা দিয়ে ভারতের মুসলমানদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়নের আদালতি সুরক্ষাও এখন পাওয়া গেল! আর যেমনি করে বাবরি মসজিদের পরিবর্তে অন্যত্র একটি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হলো, তেমনি করেই এখন ভারতের মুসলমানদের নিজেদের মাতৃভূমির বদলে বাংলাদেশ নামক জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে!

লেখক : সংবিধান বিশেষজ্ঞ


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত