নূর হোসেন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একাট্রা

রাঙ্গাকে সংসদে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত নূর হোসেনকে নিয়ে কূরোচীপূর্ন বক্তব্যে দেয়ায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ইস্যুতে সরকারি দল আওয়ামী লীগের এমপিদের পাশাপাশি নিজ দল জাতীয় পার্টির এমপিরা ছিলেন একাট্টা।

মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সাংসদরা এ দাবি জানান। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেনর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী, পরে এ আলোচনায় অংশ নেন আমির  হোসেন আমু,  তোফায়েল আহমেদ,  শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, নজিবুল বশর মাইজ ভান্ডারী। এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, নূর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বাংলাদেশের মানুষের মনে ব্যাথা দিয়েছেন। রাঙ্গা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বলেছেন। আজকে এরশাদ জীবিত নেই। তাকে নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তিনি নূর হোসেনের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সংসদেও দু:খ প্রকাশ করেছেন। অথচ রাঙ্গা নূর হোসেন নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এমন বক্তব্য ঘৃণা প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, রাঙ্গার বক্তব্যের পর আজকে স্বৈরাচার শদ্বটি দেশে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। রাঙ্গার কুশপত্তলিকা দাহ করছে। তার এ বক্তব্যের সংসদে এসে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গা যে এলাকার থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে না থাকলে বিজয়ী হতেন কিনা এটা বলতে চাই না।

তোফায়েল বলেন, কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন রাঙ্গা। একজন মানুষ যখন স্বাভাবিক থাকে তখন এধরণের বক্তব্য দিতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এর জন্য তাকে জাতি কাছে দু:খ প্রকাশ করতে হবে, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।

আমির হোসেন আমু বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে  চাইছেন। যারা ফেন্সিডিল আওয়াজ তুলেছেন তারাই ফেন্সিডিলের স্বপ্ন দেখে। নূর হোসেনের আমলে তো ফেন্সিডিল ছিল না। তিনি বলেন, রাঙ্গার বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইতে হবে।

শেখ সেলিম বলেন, কোনো সুস্থ মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারে না। আমি তখন যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলাম। কোনো বিবেগমান মানুষ ধরনের কুটূক্তি করতে পারে না। তিনি বলেন, রাঙ্গার শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না। জাতীয় পার্টি তার ব্যাখ্যা দিবেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজবান্ডরী বলেন, রাঙ্গার বক্তব্য নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নয়, দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। তকে সংসদে এসে ক্ষমতা চাইতে হবে। তা নাহলে তাদেরকে আগামী দিন আস্তাকুঁড়ে যেতে হবে। এছাড়া রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকেও বহিস্কারের দাবি জানান তিনি।

এরপর তাদের বক্তব্যের জবাবে জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘এটা রাঙ্গার ব্যক্তিগত বক্তব্য। জাতীয় পার্টি দলীয়ভাবে এটা সমর্থণ করে না। এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত বক্তব্য । তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি নিজেই দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘নূর হোসেন মারা যাওয়ার পর তার বাসায় গিয়ে আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দু:খ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নূর হোসেনের পরিবারকে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ১৯৯৬ সাল থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এই বক্তব্য ভাইরাল হয়ে গেছে। এটা জাপার বক্তব্য নয়। জাতীয় পার্টি এতে লজ্জিত ও দূ:খিত,  আমরা এতে লজ্জিত। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এমন বক্তব্য দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, বানরকে লায় দিলে গাছে উঠে। এই লায় আমরা  দেইনি। দিয়েছে সংসদ। তাকে ধরে এনে প্রতিমন্ত্রী বানানো হলো, একের পর এক প্রমোশন দেয়া হল....

রাঙ্গা কখন কোথায় আন্দোলন করেছেন এটা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপস্থিত ছিলেন।


ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার
ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন
বিস্তারিত
মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আসবেন মোদি, প্রণব
আগামী বছর মুজিববর্ষের (২০২০) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসবেন ভারতের
বিস্তারিত
কুঁড়েঘর কবিতায় থাকলেও দেশে এখন
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য
বিস্তারিত
ভারতের ৩৮০ সৈন্যকে সম্মাননা দেবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ
বিস্তারিত
জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এমন
বাংলাদেশি জনগণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, ভারত এমন কিছু করবে
বিস্তারিত
হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স
বিস্তারিত