পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

ভারতবর্ষের প্রাচীনতম নগরী দিল্লির বায়ুদূষণ এই মুহূর্তে রাজ্যটির তো বটেই, ভারতজুড়েই প্রধান আলোচনার বিষয়। দিল্লির বায়ুরদূষণ ও বিষাক্ততা এখন সতর্কসীমারও ওপরে উঠে গেছে। বাতাসের গুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) দিল্লির অবস্থা এ মুহূর্তে শোচনীয় ও বিপজ্জনক। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলও ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাদের এ বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের মানুষেরও বায়ুদূষণ নিয়ে মাথাব্যথার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ দিল্লি আমাদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। অবশ্য দিল্লির মতো বাংলাদেশের রাজধানী শহরও বহুদিন ধরে পরিবেশগত মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বায়ু ও নদনদী দূষণ, বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানবাহনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার নিঃসরণ এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য-দূষণের ফলে ঢাকা বহু আগে থেকেই বিভিন্ন পরিবেশবিষয়ক সূচকে তলানিতে পড়ে রয়েছে। ঢাকা নগরীকে বহুবার বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য নগরী হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। এসবই ঢাকার নাগরিকদের জন্য হতাশার। তবে ইসলামে পরিবেশ রক্ষার এত চমৎকার উদ্যোগ ও প্রণোদনা রয়েছে যে, তার অধ্যয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাণের শহর ঢাকাকে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব।
বিশ্বমানবতার দূত ও ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় শুধু ইসলাম প্রচারই করে যাননি, তিনি মানবজাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আজকের পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ পৃথিবী গড়তে যেসব উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই বিশ্বমানবতার দূত সেসব বিষয়ে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। পরিবেশ ও প্রকৃতির সংরক্ষণে প্রিয় নবীজি (সা.) অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কেয়ামত কায়েম হওয়ার মুহূর্তেও যদি তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, সে যেন তা রোপণ করে যায়।’ (আল আদাবুল মুফরাদ : ৪৭৯)। পরিবেশবাদী নবী (সা.) এর মহান বাণী থেকেই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়। বৃক্ষনিধন, বায়ুদূষণ, জলাশয় ভরাট, বনাঞ্চল উজাড় অথবা অন্য যে কোনো উপায়ে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে জমিনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। আজকের পৃথিবীর অন্যতম চ্যালেঞ্জের বিষয় জলবায়ু পরিবর্তনও একটি মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়। সামান্য থেকে সামান্যতম স্বার্থে মানুষ বনাঞ্চল ও পাহাড় ধ্বংস করে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কামনাও  করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা কাসাস : ৭৭)।
বৃক্ষরোপণে নবীজির গুরুত্বারোপ : প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা ফসল উৎপন্ন করে, আর সেখান থেকে কোনো পাখি অথবা মানুষ অথবা চতুষ্পদ জন্তু খায়, এটা তার পক্ষ থেকে সদকা বলে গণ্য হবে।’ (বোখারি : ২৩২০)। এ ছাড়া মুসলিম গ্রন্থের এক হাদিসে এ-ও বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো দুষ্কৃতকারী বৃক্ষের ফলমূল লুট করে নিয়ে গেলেও বৃক্ষের মালিক সদকার নেকি লাভ করবেন। (মুসলিম : ১৫৫২)। প্রাগুক্ত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জমিন ও বায়ুম-লে বিচরণশীল সব প্রাণীর জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দূষণমুক্ত সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।


চীনে মুসলিম নির্যাতনের গোপন নথি
  সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নথিতে গণচীনে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন
বিস্তারিত
হিজাব পরার অনুমতি পেলেন ত্রিনিদাদ-টোবাগোর সেই
দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের দেশ ত্রিনিদাদ-টোবাগো প্রজাতন্ত্রের এক মুসলিম নারী পুলিশ
বিস্তারিত
আফগান যুদ্ধ অবসানে তালেবানের সঙ্গে
দীর্ঘদিনের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তালেবানের সঙ্গে আবার
বিস্তারিত
ইউনেস্কোর তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী কবিদের
বাহলানির কবিতা ছিল সূক্ষ্ম প্রেমময়। কিন্তু তার সাহিত্য ও চিন্তাজগতে
বিস্তারিত
যে ১০ দেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে
  জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
বিস্তারিত
জনসমাবেশের ‘শব্দদূষণ’ নিয়ন্ত্রণ
যানবাহনের হর্নের শব্দ, মানুষের হল্লা, চিৎকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের মাইকের
বিস্তারিত