একদিন নবীজির বাড়িতে

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে মহানবী (সা.) কুবা পল্লিতে কিছুদিন অবস্থান করেন। সেখানেই তিনি গড়ে তোলেন ইসলামের প্রথম মসজিদ মসজিদে কুবা। বিশাল নান্দনিক মসজিদের পাশে কার পার্কিং প্লেস থেকে দেখা যাচ্ছে সফেদ রঙের এই আল্লাহর ঘর। গত রমজানে পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত

নবী (সা.) প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ

(পর্ব-৯)
এশার নামাজ : আমি যখন নবীজির পরিবার সম্পর্কে জানতে ব্যস্ত তখন শুনলাম এশার আজান। সবাই উপস্থিত হয়ে গেল জামাতে নামাজ পড়ার জন্য। নবীজি মাঝে মাঝে খোঁজ নিয়ে থাকেন কে কে জামাতে উপস্থিত হলো। কে উপস্থিত হয়নি। 
এশার নামাজ জামাতে আদায় করার মাঝে এত বেশি সওয়াব যে, নবীজি (সা.) তা ছেড়ে দেওয়া কখনও সহ্য করেন না। একবার বললেন, ‘আমার তো ইচ্ছা হয় একজন আজান দেবে আর আমি প্রতিটি ঘরে ঘরে যাব। যারা জামাতে উপস্থিত হয়নি তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেব। কিন্তু আমি তা পারি না। কারণ ঘরে তো অবোধ শিশু ও নারীও রয়েছে।’ 
এশার জামাতের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কেউ যদি এশার নামাজ জামাতে আদায় করে তাহলে সে যেন প্রথম অর্ধরাত্রি ইবাদতে মশগুল থাকল আর যে এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়ল সে যেন পুরো এক রাত ইবাদতে মাশগুল থাকল। (তিরমিজি : ১/ ৪৩৩)। যথাসময়ে এশার নামাজ শুরু হয়ে গেল। 
নবীজির (সা.) রাতের ইবাদত : এশার নামাজ পড়েই নবীজি (সা.) শুয়ে পড়েন। স্ত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ খোশগল্প করেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত নিস্তব্ধ হতে থাকে ধীরে ধীরে। বাড়তে থাকে রাতের গভীরতা। অর্ধরাত পার হওয়ার পর এক সময় জেগে ওঠেন নবীজি (সা.)। খুব ধীরে বিছানা ত্যাগ করেন। কোনো শব্দ যেন না হয়। সঙ্গিনীর ঘুমের যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তার পূর্ণ লক্ষ্য। বাইরে থেকে অজু করে এসে দাঁড়িয়ে যান নামাজে। নামাজ পড়েন তো পড়েই চলেন। দুপুররাত পেরিয়ে রাতের দুই-তৃতীয়াংশ পার হয়ে যায়। নবীজির (সা.) ইবাদত চলেই। 
ফজরের আজানের অল্প কিছুক্ষণ আগে তিনি বিশ্রামে চলে যান। ডান হাতের ওপর মাথা রেখেই কোনো রকম কাত হন। হালকা ঘুমও হয়ে যায় এর মধ্যে। ফজরের আজান হলে উঠে পড়েন। চলে যান মসজিদে। এ দৃশ্যই পেলাম নবীজির (সা.) জীবন থেকে। 
জানার চেষ্টা করলাম অন্যদের থেকে নবীজির রাতের ইবাদত সম্পর্কে। আবু হুরাইরা (রা.) বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজ পড়তে থাকেন। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার দুই পা ফুলে যায়। তা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। একবার আমরা জিজ্ঞেস করলামÑ আপনি এত ইবাদত করেন, অথচ আপনার পূর্বাপর সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। তখন নবীজি (সা.) জবাবে বললেন, ‘আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ (শুআবুল ঈমান : ২/ ১৮৫)।
আয়েশা (রা.) থেকে জানতে পারলাম, নবীজি (সা.) রাতের প্রথম অংশে ঘুমিয়ে পড়েন। তারপর জেগে উঠে ইবাদত করেন। তারপর প্রয়োজন হলে স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গ দেন। যখন আজান হয়ে যায়, তখন উঠে পড়েন। গোসলের প্রয়োজন হলে গোসল করেন। অন্যথায় অজু করে মসজিদে চলে যান। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দীর্ঘক্ষণ নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্কে হুজাইফাতুল ইয়ামান (রা.) থেকে এক আশ্চর্য তথ্য পেলাম। তিনি এক রাতের ঘটনায় বললেনÑ “আমি নবীজির সঙ্গে রাতে নামাজে দাঁড়ালাম। নবীজি দীর্ঘ কেরাত পড়ছেন। সূরা বাকারার ১০০ আয়াত পড়ার পর মনে করলাম, তিনি রুকুতে যাবেন। কিন্তু না, তিনি তেলাওয়াত করেই চলেছেন। আরও কিছুক্ষণ গেল। আবার মনে করলাম, এবার রুকুতে যাবেন। না, তখনও রুকুতে গেলেন না। আরও পড়তে পড়তে সূরা বাকারা শেষ করে সূরা আলে ইমরান শুরু করলেন। তা পড়ে শেষও করলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এবার হয়তো রুকুতে যাবেন। না, আরও পড়তে লাগলেন। সূরা নিসা শুরু করলেন। তা পড়ে শেষও করলেন। তিনি যে খুব তাড়াতাড়ি করে পড়েছেনÑ এমন নয়, বরং ধীরস্থিরভাবে স্পষ্ট উচ্চারণের সঙ্গে তিনি তেলাওয়াত করতে লাগলেন। যখন কোনো তসবিহের আয়াত পান, তখন তসবিহ পড়েন। যখন কোনো চাওয়ার মতো আয়াত পান, তখন তিনি চাওয়ার ভঙ্গিমায় তেলাওয়াত করেন। যখন কোনো আশ্রয় প্রার্থনার মতো আয়াত হয়, তখন তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করেন। এভাবে সূরা নিসা শেষ করে এবার রুকুতে গেলেন। রুকুতে পৌঁছে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ বলা শুরু করলেন। এ তসবিহ বলছেন তো বলছেনই। যে পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে তেলাওয়াত করলেন, সে পরিমাণ সময় রুকুতে কাটালেন। তারপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ’ বললেন। তার পর সোজা দাঁড়িয়ে থাকলেন। (বিভিন্ন রকম দোয়া-তসবিহ পড়তে থাকলেনÑ প্রায় রুকু পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থেকে এবার নবীজি (সা.) তাকবির বলে সিজদায় গেলেন। সিজদায় পড়ে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ বলতে থাকলেন। যে পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন, প্রায় সে পরিমাণ সময় সিজদায় কাটালেন।” (মুসলিম : ৬/৬১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন কখনও চার রাকাত, কখনও ছয় রাকাত, কখনও আট রাকাত। আবার কখনও বার রাকাত নামাজ পড়েন। তারপর তিন রাকাত বিতর পড়ে নেন।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত