অন্তিমকালে রাসুল (সা.) এর এক মহানুভবতার গল্প

রাসুল (সা.) এর বিশিষ্ট সাহাবি ফজল বিন আব্বাস (রা.)। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসুল (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। দেখলাম তিনি ভীষণ জ্বরাক্রান্ত। তাঁর মাথায় পট্টি বাঁধা। রাসুল (সা.) বললেন ‘হে ফজল! আমার হাত ধরো। আমি ধরলাম। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। অতঃপর মিম্বরে আরোহণ করলেন। আমাকে বললেন, লোকদের ডাক। আমি জোর আওয়াজে তাদের ডাকলাম। সাহাবায়ে কেরাম সমবেত হলেন।’ রাসুল (সা.) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন ‘তোমাদের থেকে আমার বিদায়ের সময় আসন্ন। সুতরাং আমি যদি কারও পিঠে আঘাত করে থাকি, তাহলে এ আমার পিঠ বিদ্যমান। সে যেন প্রতিশোধ নিয়ে নেয়। আমি যার সম্মান নষ্ট করেছি, সে যেন আমার মানসম্মান থেকে প্রতিশোধ নিয়ে নেয়। আমার কাছে কারও সম্পদ পাওনা থাকলে সে যেন তার বদলা নিয়ে নেয়। দেখ, কেউ যেন একথা না বলে, আমি রাসুলের পক্ষ থেকে বিদ্বেষের ভয় করি (তাই প্রতিশোধ গ্রহণ করার সাহস হচ্ছে না)। বিদ্বেষ পোষণ করা আমার স্বভাব নয়। আমার জন্য উচিতও নয়। তোমাদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয় ওই ব্যক্তি যে আমার কাছ থেকে পাওনা আদায় করে নেবে বা আমাকে মুক্ত করে দেবে। যাতে আমি প্রশান্ত চিত্তে আমার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি। এ একবার ঘোষণাকে আমি আমার জন্য যথেষ্ট মনে করি না। আমি বারবার তোমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে এ ঘোষণা করব।’ 
ফজল (রা.) বলেন, অতঃপর রাসুল (সা.) মিম্বর থেকে নেমে আসেন। জোহরের নামাজের পর আবার মিম্বরে আরোহণ করেন। আবার সেই ঘোষণা দেন। তিনি আরও বলেন ‘কারও জিম্মায় কোনো হক থাকলে সে যেন তা আদায় করে দেয়। সে যেন মনে না করে, এতে দুনিয়ায় লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে (কাজেই প্রকাশ করব না)। আখেরাতের লাঞ্ছনার সামনে দুনিয়ার লাঞ্ছনা খুবই নগণ্য।’ 
তখন একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, আপনার কাছে আমার তিন দিরহাম পাওনা আছে। নবী (সা.) বললেন আমার স্বভাব হলো আমি কোনো দাবিদারকে মিথ্যাবাদী বলি না। কসমও করতে বলি না। তবে শুধু এতটুকু জানতে চাই, কীভাবে আমার কাছে তিন দিরহাম পাওনা হলো? তিনি বললেন, একদিন এক মিসকিন আপনার কাছে এসেছিল। আপনি আমাকে বলেছিলেন, ‘একে তিনটি দিরহাম দিয়ে দাও।’ নবী (সা.) ফজল (রা.) কে বললেন, তার তিন দিরহাম পরিশোধ করে দাও। 
এরপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়াল। বলল, আমার কাছে রাষ্ট্রীয় তহবিলের তিন দিরহাম রয়েছে। গনিমতের মাল থেকে আমি তা আত্মসাৎ করেছিলাম। রাসুল (সা.) বলেন ‘কেন তুমি আত্মসাৎ করেছিলে? লোকটি বলল, তখন আমি এ পরিমাণ মালের মুখাপেক্ষী ছিলাম। তিনি বললেন, ফজল! দিরহামগুলো গ্রহণ করো।’ 
তারপর রাসুল (সা.) বললেন ‘তোমাদের কেউ যদি নিজের সম্পর্কে কোনো কিছুর আশঙ্কা করে, তাহলে সে দাঁড়িয়ে বলুক। আমি তার জন্য দোয়া করব।’ তখন এক ব্যক্তি দাঁড়ালেন। বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, আমি কঠিন মিথ্যাবাদী। নিঃসন্দেহে একজন মোনাফেকও। আমার ঘুমও খুব বেশি। নবী (সা.) তার জন্য দোয়া করলেন ‘হে আল্লাহ! আপনি তাকে সত্যবাদিতা দান করুন। পূর্ণ ঈমান দান করুন। সে যখন চায়, তখনই তার থেকে ঘুম দূর করে দিন।’
তারপর আরও একজন দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি মারাত্মক মিথ্যাবাদী। আমি মোনাফেক। এমন কোনো খারাপ কাজ নেই, যা আমি করিনি। তখন ওমর (রা.) তাকে বললেন, তুমি নিজেকে লাঞ্ছিত করলে। নবী (সা.) বললেন ‘ওমর থামো। আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার লাঞ্ছনা খুবই হালকা ও সহনীয়।’ তারপর তিনি বললেন ‘হে আল্লাহ! আপনি এ ব্যক্তিকে সত্যবাদিতা দান করুন। পূর্ণ ঈমান দান করুন। তার অবস্থা আরও ভালো করে দিন।’ 
এরপর ওমর (রা.) লোকদের লক্ষ করে কিছু আলোচনা করেন। রাসুল (সা.) এতে খুশি হন। বলে ওঠেন, ‘ওমর আমার সঙ্গে, আমি তার সঙ্গে। আমার পরে হক (সত্য) ওমরের সঙ্গে থাকবে। সে যেখানেই থাকুক না কেন।’ 
আরেক বর্ণনায় আছে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ভীরু। আমার ঘুম বেশি। নবী (সা.) তার জন্য দোয়া করলেন। ফজল (রা.) বললেন, এরপর আমরা তাকে সবচেয়ে বীরপুরুষ ও স্বল্পনিদ্রার পেয়েছি। অতঃপর নবী (সা.) আয়েশা (রা.) এর ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে মহিলাদের মাঝে অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেন। (হাইসামি, মাযমাউয যাউয়ায়েদ)।

 


জনসমাবেশের ‘শব্দদূষণ’ নিয়ন্ত্রণ
যানবাহনের হর্নের শব্দ, মানুষের হল্লা, চিৎকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের মাইকের
বিস্তারিত
প্রাত্যহিক জীবনে ধৈর্য ও স্থিরতার
  ধৈর্য ব্যক্তিজীবনকে সম্মানের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ধৈর্য মানব জাতির আত্মোন্নয়নের
বিস্তারিত
মোমিনের অন্যতম গুণ ক্ষমা
  মোমিনের অন্যতম গুণ হলো তার ক্ষমা এবং উদারতা। ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণে
বিস্তারিত
আত্মীয় স্বজনের সম্পর্ক
হজরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ
বিস্তারিত
ঘুষখোরদের ওপর আল্লাহর লানত
অবৈধ আয়ের উদ্দেশ্যে জনগণের ওপর কখনও সরাসরি কখনও পরোক্ষভাবে জুলুম
বিস্তারিত
বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার ফজিলত ফিরোজ
  আল্লাহ আমাদের রিজিক দাতা। তিনি আমাদের দুনিয়ায় পাঠানোর আগে রিজিকের
বিস্তারিত