একদিন নবীজির বাড়িতে

(পর্ব-১০)

গত শুক্রবার মসজিদে নববিতে জুমার নামাজের আগে আজানের অপেক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকজন ওমরাকারী কোরআন তেলাওয়াত করছেন। এর অদূরেই ছিল রাসুল (সা.) এর বাসস্থান ছবি : হারামাইন শরিফাইনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

ফজরের পর 
আগের পর্বে আমরা নবীজি (সা.) এর রাতের ইবাদত সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। এবার আমরা তার দিনের শুরুভাগের ইবাদত সম্পর্কে জানব। সকাল হওয়ার পর থেকেই মসজিদে থাকেন নবীজি (সা.)। ফজরের ফরজ নামাজ দীর্ঘ কেরাতের সঙ্গে আদায় করেন। আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। নবীজি তার নামাজের স্থানে বসেই থাকেন। তসবিহ পড়তে থাকেন। আল্লাহর জিকির করেন। দোয়া পড়েন। যখন সূর্য পূর্ণ উঠে যায়, তখন তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। জাবির ইবনু সামুরা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) তার সামনে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে একটি পূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণ ওমরার সওয়াব পুরোপুরিভাবে পেল।’ (মুসলিম : ১৫/৭৯)।
ফজরের পর সূর্য ওঠার পর চার রাকাত নামাজ পড়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দিলেন আবুদ্দারদা ও আবু জর (রা.)। তারা বললেন, নবী করিম (সা.) হাদিসে কুদসি শুনিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে বনি আদম! দিনের শুরুতে আমাকে জড়িয়ে নাও চার রাকাত নামাজের মাধ্যমে। এর উসিলায় দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তোমার দায়িত্ব নিয়ে নেব।’ (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ১/৪৬৪)।
সকাল পেরিয়ে সূর্য মাথার দিকে উঠতে লাগল। সূর্যের তেজ বেড়ে গেল। চোখমুখ ঝলসে দিতে লাগল। এ সময় হচ্ছে নাস্তা করার। এ সময় হচ্ছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সারার। এ সময় রাসুল (সা.) নিজস্ব কাজ করেন। সঙ্গে সঙ্গে রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেন। কখনও দেখা যায়, এ সময় কোনো বিদেশি প্রতিনিধি দল এলো, তখন তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ দেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেন। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরামর্শ থাকলে পরামর্শ করেন। কোনো বিচার করার ব্যাপার থাকলে বিচার করেন। পারিবারিক কাজ থাকলে তা আদায় করেন। এত কিছু করার পরও তিনি দু-চার রাকাত নামাজ আদায় করতে ভুলে যান না।
একবার আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো নবীজি কি নাস্তার (চাশতের) সময় নামাজ পড়েন? আয়েশা (রা.) জবাবে বললেন, হ্যাঁ, চার রাকাত বা তার চেয়ে বেশি রাকাত নামাজ আদায় করেন। (শিহাবুদ্দীন হাইসামি : শামায়িল, পৃ. ৪০৭)। আবুদ্দারদা (রা.) থেকে জানা গেলÑ এ ব্যাপারে নবীজি (সা.) তাকে অসিয়তও করেছেন। আবুদ্দারদা (রা.) বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে অসিয়ত করেছেন, প্রতি মাসে ৩ দিন রোজা রাখবে, নাস্তার সময়ে দুই রাকাত নামাজ পড়বে আর ঘুমানোর আগে বিতর আদায় করবে। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ১/৪৬২)।
নবীজির ঘরে যথেষ্ট নফল নামাজ পড়া হয়। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা আর রাত যখনই সময় পান নবীজি (সা.) তখনই নফল নামাজ পড়েন। নবীজির স্ত্রীরাও নফল ইবাদত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশও এমন যে, ‘তোমরা ঘরে নামাজ আদায় কর। তোমাদের ঘরকে কবর বানিও না।’ (মুসলিম : ৬/৬৮)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে পড়েন। বিশেষ করে মাগরিবের পর সুন্নত ঘরে পড়েন। আর বাড়িতে নফল নামাজ পড়ায় অনেক লাভও রয়েছে। যেমন তাতে নারীদের নামাজের জন্য উৎসাহিত করা হয়। বাচ্চারা নামাজ শিখতে পারে। আর জিকির-আসকার হওয়ার কারণে ঘরে শয়তান এসে বাসা বাঁধতে পারে না। 
নবীজির (সা.) কান্না
আমরা তো অনেক সময়ই কেঁদে থাকি। চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়। কখনও অনিচ্ছা সত্ত্বেও কান্নার আওয়াজ অন্যে টের পেয়ে যায়। আমাদের নবীজিও কি কাঁদেন? এসব ব্যাপারে জানার আগ্রহ হলো। জানাও গেলÑ নবীজি (সা.) অনেক সময় কাঁদেন। কখনও মানুষের কষ্ট দেখে কেঁদে ওঠেন। কখনও নামাজে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে বলতে কেঁদে ওঠেন। কখনও কোরআন শুনতে শুনতে চোখ থেকে অশ্রু বয়ে চলে। কখনও আল্লাহর বড়ত্ব, কখনও আল্লাহর ভয় তাঁকে কাঁদিয়ে দেয়। একদিনের ঘটনা জানলাম আবদুল্লাহ বিন মাসউদের (রা.) মাধ্যমে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, আমার সামনে তেলাওয়াত কর। আমি বললাম, আপনার ওপর কোরআন নাজিল হয়েছে, আর আপনাকে তা পড়ে শোনাব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি অন্য থেকে তা (কোরআন) শোনা পছন্দ করি।’ তখন আমি সূরা নিসা পড়া শুরু করলাম। যখন পড়তে পড়তে একটি আয়াত পর্যন্ত পড়লাম, তখন নবীজির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখিÑ অশ্রুতে নবীজির চক্ষুদ্বয় ভেসে যাচ্ছে। (মুসলিম : ৬/৮৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মাথায় যখন সিঁথি কাটা হতো, তখন কয়টি চুল সাদা হয়ে আছে দেখা যেত। চুল-দাড়িতে প্রায় ১৮-২০টি চুল সাদা হয়েছিল। এসব চুল সাদা হওয়ার রহস্য জানা গেল। একবার আবু বকর (রা.) নবীজিকে বললেন, হে রাসুল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন নবীজি বললেন, ‘সূরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসায়ালুন ও সূরা কুওবিরাত আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (তিরমিজি : ৩২৯৭)। 


চীনে মুসলিম নির্যাতনের গোপন নথি
  সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নথিতে গণচীনে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন
বিস্তারিত
হিজাব পরার অনুমতি পেলেন ত্রিনিদাদ-টোবাগোর সেই
দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের দেশ ত্রিনিদাদ-টোবাগো প্রজাতন্ত্রের এক মুসলিম নারী পুলিশ
বিস্তারিত
আফগান যুদ্ধ অবসানে তালেবানের সঙ্গে
দীর্ঘদিনের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তালেবানের সঙ্গে আবার
বিস্তারিত
ইউনেস্কোর তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী কবিদের
বাহলানির কবিতা ছিল সূক্ষ্ম প্রেমময়। কিন্তু তার সাহিত্য ও চিন্তাজগতে
বিস্তারিত
যে ১০ দেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে
  জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
বিস্তারিত
জনসমাবেশের ‘শব্দদূষণ’ নিয়ন্ত্রণ
যানবাহনের হর্নের শব্দ, মানুষের হল্লা, চিৎকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের মাইকের
বিস্তারিত