একদিন নবীজির বাড়িতে

মদিনা তাইয়িবায় অবস্থিত মসজিদে নববিতে প্রবেশের ৩৭ নম্বর গেট। বাংলাদেশ থেকে হজ-ওমরায় গমনকারীরা অধিকাংশ এ গেট দিয়েই যাতায়াত করেন। গত রমজানে ছবিটি তুলেছেন আলী হাসান তৈয়ব

(পর্ব-১১)

নবীজির বিনয়
নবীজি (সা.) সবচেয়ে চরিত্রবান ব্যক্তি। তিনি কোরআন মতে চলেন। তাঁর মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এত মর্যাদাশীল হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। বরং তার সারা জীবনের চিত্রে ফুটে ওঠে শুধু বিনয় আর নম্রতা। এ নম্রতার কারণেই তিনি কারও প্রশংসা শুনতে রাজি হননি। অতি প্রশংসা করে তাঁকে অহেতুক বড় করাকে অপছন্দ করেন। এমনকি সতর্ক থাকেন কেউ যেন ঈসা (আ.) এর মতো ঘটনা না ঘটায়। খ্রিষ্টানরা তো ঈসা (আ.) কে আল্লাহর পুত্র বলে প্রচার করা শুরু করে দিয়েছে। 
একবার সাহাবায়ে কেরাম নবীজিকে (সা.) সম্বোধন করে বললেন, হে আমাদের মাঝে সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি! হে সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তির পুত্র! হে আমাদের সরদার! আমাদের সরদারের পুত্র! তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমরা আমাকে তোমাদের স্বাভাবিক সম্বোধনে কর। শয়তান তোমাদের যেন পথভ্রষ্ট করে না তোলে। আমি মুহাম্মদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। আমার প্রভু আমাকে যা মর্যাদা দিয়েছেন, এর চেয়ে বেশি মর্যাদা দেবেÑ তা আমি পছন্দ করি না।’
কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, নবীজির প্রতি অতিভক্তি দেখায়। তারা না জেনে-বুঝে এমন মনে করে বসে যে, নবী (সা.) অদৃশ্যের সবকিছু দেখেন-জানেন, ভালো-মন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন, অভাব পূরণ করেন ইত্যাদি। এসবই বর্জনীয় বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে এ বিশ্বাস অপনোদনে নবীজিকে বলতে শিখিয়েছেন ‘হে নবী! আপনি জানিয়ে দিন, আমি আমার ব্যাপারে কোনো ভালো বা মন্দ করার ক্ষমতা রাখি না। তবে আল্লাহ যা চান, তা-ই হয়। যদি আমি গায়ব জানতাম, তাহলে বেশি বেশি ভালো বিষয় গ্রহণ করতে পারতাম, আর আমাকে কোনো বিপদে পড়তে হতো না।’ (সূরা আরাফ : ১৮৮)।
নবীজি (সা.) এত বিনয়ী যে, যদি সামান্য কিছু হাদিয়া দেওয়া হয়, তাও তিনি গ্রহণ করেন। ছোটখাটো কেউ দাওয়াত করলেও তাতে সাড়া দেন। নবীজি (সা.) নিজে বিনয় অবলম্বন করেন শুধু তা নয়; বরং সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন বিনয়ে। তিনি বলেন, ‘যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
নবীজির আরও অনেক বিনয়ের কথা জানলাম। নবীজি (সা.) সম্পর্কে ভালোভাবে জানার জন্য কিতাবের পাতায় ভর করে পৌঁছেছি নবীজির বাড়িতে। জানলাম তার জীবনের অনেক কিছু। আরও কিছু জানার জন্য লোক খুঁজছি। হঠাৎ নজর পড়ল তাঁর খাদেমের প্রতি। জেনে নিলাম তার মাধ্যমে নবীজির আচরণের অনেক দুর্লভ তথ্য। 
খাদেমদের সঙ্গে
নবীজির একনিষ্ঠ খাদেম আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে জানলাম নবীজির (সা.) উন্নত চরিত্রের আরেকটি দিক। আনাস (রা.) জানালেন, ‘আমি রাসুল (সা.) এর খেদমতে ১০ বছর কাটিয়েছি। তিনি কখনও বিরক্তি প্রকাশে বলেননি এটা কেন করলে না? এটা কেন করলে?’ (মুসনাদ আহমাদ : ৩/৫৩৬)।
দশ বছর। এক-দুই দিন নয়। দু-এক মাস নয়। বরং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে এ সময়ে। কখনও সুখ এসেছে, কখনও দুঃখ এসেছে। কখনও পেরেশানির অবস্থা এসেছে। রাগ ও চিন্তার পরিস্থিতিও এসেছে। মানসিক চাপ এসেছে। বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে কারও অসঙ্গত কোনো কাজ দেখলে, রাগ করাটা স্বাভাবিক। দু-একবার ধমক দেওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু নবীজি (সা.) এ দীর্ঘ দশ বছরেও আনাস (রা.) কে কোনো কটু কথা বলেননি। কোনো কাজ না করলেও বলেননি তুমি কেন তা করলে না? আবার ভুলে কিছু করে ফেললেও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেননি তুমি তা কেন করলে? নবীজির খাদেমের ভাষায় এ কথা জেনে আমি নির্বাক ভাবছিÑ সত্যিই মহান আমাদের নবী (সা.)।  
রাসুল (সা.) তার খাদেমদের প্রতি ছিলেন অনেক আন্তরিক। তাই তো স্বীয় খাদেম আনাস (রা.) এর ব্যাপারে দোয়া করেছিলেনÑ ‘হে আল্লাহ! তুমি তার সম্পদ ও সন্তান বাড়িয়ে দাও, আর তাকে যা দিয়েছ তাতে বরকত দাও।’ ফলে তার সন্তান হয়েছিল শতাধিক। আয়ুও লাভ করেছেন শত বছরের বেশি।
বাসার কর্মচারীদের প্রতি সদয় হতে তিনি যা বলেছেন, তা সবাইকে জানানো প্রয়োজন মনে করছি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তারা তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। বরং তুমি যা খাবে, তা তাদের খাওয়াবে। তুমি যা পরবে, তা তাদের পরাবে। এমন কোনো কাজ করতে বলবে না, যা তার জন্য মারাত্মক কঠিন হয়ে যায়। যদি কঠিন দায়িত্ব দিতেই হয়, তাহলে তুমিও তার সঙ্গে সহযোগিতা করবে।’
বাসায় যারা কাজ করে, তারা সাধারণত দুর্বল হয়। মানুষ দুর্বলের ওপর প্রভাব খাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ পর্যায়ে বারবার কাজের লোকের ওপর হাত উঠে পড়ে। নবীজি (সা.) এ ব্যাপারে কী উপমা-আদর্শ রেখেছেন, তা জানার আগ্রহ নিয়ে ঘুরছি। হঠাৎ পেয়ে গেলাম নবীজির স্ত্রীর বক্তব্য। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘যুদ্ধের ময়দান ছাড়া নবীজি (সা.) স্বহস্তে কাউকে প্রহার করেননি। কোনো কাজের লোককেও প্রহার করেননি। তার কোনো স্ত্রীকেও নয়।’ (মুসলিম : ২৩২৮)।  


চীনে মুসলিম নির্যাতনের গোপন নথি
  সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নথিতে গণচীনে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন
বিস্তারিত
হিজাব পরার অনুমতি পেলেন ত্রিনিদাদ-টোবাগোর সেই
দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের দেশ ত্রিনিদাদ-টোবাগো প্রজাতন্ত্রের এক মুসলিম নারী পুলিশ
বিস্তারিত
আফগান যুদ্ধ অবসানে তালেবানের সঙ্গে
দীর্ঘদিনের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তালেবানের সঙ্গে আবার
বিস্তারিত
ইউনেস্কোর তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী কবিদের
বাহলানির কবিতা ছিল সূক্ষ্ম প্রেমময়। কিন্তু তার সাহিত্য ও চিন্তাজগতে
বিস্তারিত
যে ১০ দেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে
  জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
বিস্তারিত
জনসমাবেশের ‘শব্দদূষণ’ নিয়ন্ত্রণ
যানবাহনের হর্নের শব্দ, মানুষের হল্লা, চিৎকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের মাইকের
বিস্তারিত