প্রভু কথা বলেন পর্দার আড়াল থেকে

 

প্রভু তাঁর বান্দার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না। তিনি পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেন। এ বিষয়ে মাওলানা বজলুল করিম মন্দাকিনী চমৎকার একটি কবিতা রচনা করেছেনÑ ‘কে তুমি হে সখা, আড়ালে থাকিয়ে, হরিলে আমারি প্রাণ/ছলনা কৌশলে, জগৎ মজালে, এমন মোহিনী জান/রূপ মনোহর, নৈরূপবরণ, নৈরূপে পড়িয়ে রূপ আবরণ/বহুরূপী রূপে, নিত্য নব সাজে, দেখাও রূপেরি শান/সৃষ্টির আড়ালে, গোপনে বসিয়া, বিদ্যুৎ খেলেছ অভিনব ক্রিয়া/জ্ঞানীগণে তোমার চাতুর্য দেখিয়া হারায়ে বসেছে জ্ঞান/মানব হৃদয়ে বাসস্থান রাখ, নর দৃষ্টি হতে বহুদূরে থাক/চিনতে না পারে; তাই তোমায় করে, অসংখ্য রূপেতে ধ্যান।’ আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার হৃদয় মাঝে সৃষ্টির আড়ালে সদা সর্বদা বিরাজমান। আপন হৃদয়ের মাঝে আল্লাহ তায়ালার উপস্থিতি তা একমাত্র উপলদ্ধির বিষয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘জেনে রেখো মহান আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন।’ (সূরা আনফাল : ২৪)। ‘নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি, তার মনের কোণে যে খারাপ চিন্তা উদয় হয়, সে সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি, আমি তার ঘাড়ের রগ থেকেও তার অনেকে কাছে।’ (সূরা ক্বাফ : ১৬)।
হজরত মুসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার জন্য যেতেন। তখন পর্দার আড়াল থেকে আওয়াজ আসত। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘অতঃপর সে যখন সে স্থানে পৌঁছাল, তখন তাকে আহ্বান করে বলা হলো, হে মুসা। নিশ্চয়ই আমি, আমিই হচ্ছি তোমার প্রভু, তুমি তোমার জুতা দুটো খুলে ফেল, কেননা তুমি এখন পবিত্র তুয়া উপত্যাকায় আছো। আমি তোমাকে বাছাই করেছি, অতত্রব যা কিছু তোমাকে এখন ওহির মাধ্যমে বলা হচ্ছে, তা মনোযোগের সঙ্গে শোন।’ (সূরা ত্বাহা : ১১-১৩)। 
আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ.) এর সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে তুর পাহাড়ে ডেকে নিতেন। হজরত মুসা (আ.) কে তার কওমরা রব সম্পর্কে যেসব প্রশ্ন করত; তিনি ওইসব প্রশ্নের উত্তর রবের কাছ থেকে সরাসরি জেনে নিতেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘রাসুলদের মাঝে এমনও অনেকে আছেন, যাদের কথা ইতোপূর্বে আমি তোমার কাছে বলেছি; কিন্তু এদের মাঝে বহু রাসুল এমনও আছেন, যাদের কিছুই আমি তোমাকে বলিনি; মুসার সঙ্গে তোমার আল্লাহপাক কথাও বলেছেন।’ (সূরা নিসা : ১৬৪)। ‘আমি তাকে তুর (পাহাড়ের) ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং তাকে আমি গোপন তথ্য বলার জন্য আমার নিকটবর্তী করলাম।’ (সূরা মরিয়ম : ৫২)। 
নবীদের ছাড়াও মোমিন বান্দার সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা হয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘আমার কোনো বান্দা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (আপনি বলে দেবেন), আমি কাছেই আছি; আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে ডাকে; তাই তাদেরও উচিত আমার আহ্বানে সাড়া দেওয়া।’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)। ‘তোমাদের প্রভু বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সূরা মোমিন : ৬০)। 
আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে রাসুল (সা.) ওহির মাধ্যমে কথা বলেছেন। মোমিন বান্দা যখন কোরআন পড়ে, তখন আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার কথা হয়। এছাড়া কোনো মানুষ যখন মসিবতে পড়ে এস্তেখারা করে। সে এস্তেখারার মাধ্যমে ওই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশনা পেয়ে যায়। প্রভুর সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে মোমিন বান্দার কথা হয়, তিনি পর্দার আড়াল থেকে মোমিনের ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন, এ বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে আমল ও ইবাদত করলে, ইহকাল ও পরকালের জীবন বুলন্দ হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুক। আমিন। 


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত