দৈনন্দিন জীবনে ফেতনা

 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত ফেতনা যেমন দেখা যাবে, তেমনি দেখা যাবে কর্ম ও আচরণগত বহু ফেতনা। কুফর, শিরক, বেদাত শ্রেণির ফেতনাগুলো যেমন দেখা যাবে, তেমনি দেখা যাবে ফিসক-ফুজুর ও গোনাহ-পাপাচার শ্রেণির বহু ফেতনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সব অনাচারই ‘শুআবুল কুফর’ অর্থাৎ কুফরেরই শাখা-প্রশাখা।
কোরআন-সুন্নাহর নুসুস সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তিদের অজানা নয় যে, নসে ‘কুফর’ শব্দের প্রয়োগ যেমন ইসলাম থেকে খারিজকারী আকিদা ও কর্মের ক্ষেত্রে হয়েছে তেমনি সাধারণ গোনাহ ও নাফরমানির ক্ষেত্রেও হয়েছে। ফরমাবরদারি ও নেক আমল যেমন ঈমানের শাখা-প্রশাখা তেমনি আল্লাহর নাফরমানি ও পাপাচার কুফরের শাখা-প্রশাখা।
তো সমাজে যখন ফিতনার বিস্তার ঘটে তখন ফেতনার শিকার মানুষের কী অবস্থা হয় তা উপরোক্ত হাদিসে খুব সংক্ষেপে ও সারগর্ভ ভাষায় এভাবে বলা হয়েছে- ‘ব্যক্তি সকালে মুসলিম থাকবে, সন্ধ্যায় কাফেরে পরিণত হবে কিংবা বলেছেন, সন্ধ্যায় মুসলিম থাকবে, সকালে কাফেরে পরিণত হবে’।
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, অর্থাৎ ফেতনাগুলোর বিস্তার ও ভয়াবহতার কারণে একদিনের মধ্যেই মানুষের এমন এমন পরিবর্তন ঘটবে। এর আরও ব্যাখ্যা এসেছে পরের বাক্যেÑ সামান্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে নিজের দ্বীনদারি বিসর্জন দিবে।
সব ফেতনার স্বরূপ হচ্ছে মানুষ ঈমান থেকে কুফরের মধ্যে কিংবা ‘সালাহ’ ও পরহেজগারি থেকে গোমরাহি ও পাপাচারের মধ্যে চলে যাওয়া। আর এর পেছনে পার্থিব স্বার্থই বড় কারণ। সামান্য পার্থিব স্বার্থের জন্য নিজের দ্বীনদারি বিসর্জন দেওয়া। ফেতনাগুলোর পরিচয়ের ক্ষেত্রে এটি এমন এক সারগর্ভ বাণী, যার দ্বারা কেয়ামত পর্যন্ত সব ধরনের ফেতনা চিহ্নিত করা এবং ফেতনাকে ফেতনা হিসেবে বুঝতে পারা সম্ভব। শুধু তাই নয়, ফেতনার শিকার ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পক্ষেও একান্তে নিজের বিচার নিজে করা সম্ভব।
ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার জন্য ফেতনাকে ফেতনা হিসেবে চিনতে পারাটা জরুরি। এর জন্য জ্ঞান ও উপলব্ধির যে আলোর প্রয়োজন তা কোরআন-সুন্নাহয় উম্মতের জন্য রয়েছে।
কুফর-শিরক, গোমরাহি ও পাপাচারের যখন বিস্তার ঘটে তখন আমলে সালিহ ও নেক আমল থেকে মানুষ নানাভাবে বঞ্চিত হয়। আল্লাহর কাছে আমল মাকবুল হওয়ার জন্য তো ঈমান সবচেয়ে বড় শর্ত। কাজেই কুফর-শিরকের ফিতনায় পড়ে ঈমান হারানো ব্যক্তির আমলের কী মূল্য আছে?
তেমনি বেদাতে লিপ্ত হয়ে নিজ ধারণা অনুসারে বড় বড় আমলেও কোনো লাভ নেই। আমল তো সেটিই গ্রহণযোগ্য, যা সুন্নাহ মোতাবেক হয়।
তেমনি গোনাহ ও পাপাচার বিস্তারের ক্ষেত্রগুলোতে মানুষের আমলনামায় ভালো কাজ কমতে থাকে, গোনাহের কাজ বাড়তে থাকে। আর যা কিছু নেক আমল করা হয় তারও পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। কাজেই হাদিস শরিফের শিক্ষা, ফেতনাগুলো আসার আগেই ভালো কাজ কর। ভবিষ্যতের সুসময়ের অপেক্ষায় বর্তমানকে কর্মহীন রাখা নির্বুদ্ধিতা। বর্তমান সম্পর্কে এবং বর্তমানের করণীয় সম্পর্কে যে সজাগ হয় এবং সে করণীয় নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে থাকে তার সময়টাই কাজে লাগে এবং সময়ের সুফল ঘরে তোলা তার পক্ষেই সম্ভব হয়।
এই মোবারক হাদিস থেকে আমাদের জীবন ও কর্মের জন্য যে শিক্ষাগুলো  আমরা গ্রহণ করতে পারি তা হচ্ছে :
এক. নেক আমল ও ভালো কাজের বিষয়ে উদ্যমী ও তৎপর হওয়া।
দুই. বর্তমানের মূল্য বোঝা। একে কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
তিন. বর্তমানের নানাবিধ সমস্যা ও সংকটে হতোদ্যম না হয়ে এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ও বিশেষ উভয় প্রকারের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাওয়া।
চার. চারপাশের বিশ্বাসগত ও কর্মগত ফেতনা থেকে নিজের ঈমান-আমলকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
পাঁচ. সম্পদের মোহ ও পদপদবির লিপ্সা থেকে অন্তরকে শুদ্ধ ও পবিত্র করার চেষ্টা করা।
ছয়. ভেতরের প্রবণতাগুলো যেমনÑ ক্রোধ, জিঘাংসা, প্রতিহিংসা, যৌনতা, প্রবৃত্তিপরায়ণতা প্রভৃতির অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সন্ধান করা। কারণ এসব অভ্যন্তরীণ প্রবণতা ফেতনার শিকার হওয়ার অনেক বড় কারণ।
সাত. বাইরের প্রচার ও পাপাচারের পরিবেশে প্রভাবিত না হওয়া।
আট. দাওয়াত, তালিম, আমল বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের ব্যাপারে যতœবান হওয়া। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুনÑ আমিন।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত