(পর্ব-১৩)

একদিন নবীজির বাড়িতে

জাফর (রা.) এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস ব্যাপার কিছু বুঝে নিলেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলেনÑ জাফরের কিছু হয়েছে কি? নবীজি (সা.) অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, হ্যাঁ, আজ জাফর শহীদ হয়েছে। এ কথা শুনে যেন কান্না আরও বেড়ে গেল সবার। নবীজি (সা.) বাড়ির সবার খাবারের ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেন। নিজে শরিক হলেন ছোটদের সঙ্গে শোক বিরহে


নবীজির স্নেহ-বাৎসল্য : ছোটদের প্রতি নবীজির (সা.) দয়ামায়া বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলাম। প্রথমেই যে দৃশ্য আমার সামনে এলো, তা হলোÑ নবীজির কাছে অনেক বাচ্চা নিয়ে আসা হয়। একবার এক বাচ্চাকে আনা হলো। নবীজি (সা.) আগ্রহ ভরে তাকে কোলে তুলে নিলেন। আদর করলেন। চুমু দিলেন। হঠাৎ করে বাচ্চাটি প্রস্রাব করে দিতে শুরু করে নবীজির কোলে। নবীজি (সা.) বাচ্চাটিকে সরালেন না। আদর থেকে বঞ্চিত করলেন না। এদিকে বাচ্চাটি প্রস্রাব করে নবীজির কাপড় পর্যন্ত ভিজিয়ে দিল।
আনাস (রা.) থেকে জানা গেল, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সালামার মেয়ে জাইনাবের সঙ্গে স্নেহাচরণ করেন। জাইনাবকে ডাকতেনÑ হে জুয়াইনাব, হে পিচ্চি জাইনাব!
রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন নামাজ পড়ছেন। তখন নবীজির মেয়ে জাইনাবের মেয়ে উমামা এলো। নবীজি যখন সিজদায় যান, তখন নাতনিকে বসিয়ে দেন। উমামা খেলা করে আবার নবীজির গলা জড়িয়ে ধরে। আবার উমামা নবীজির পিঠে উঠে গলায় জড়িয়ে ধরে। নবী (সা.) তাকে নিয়েই উঠে দাঁড়ান। এভাবেই নামাজ শেষ করেন।
নিজের সন্তানদের অসম্ভব আদর করেন নবীজি (সা.)। আনাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) স্বীয় ছেলে ইবরাহিমকে তুলে নিলেন। তাকে চুমু দিলেন, বুকে জড়িয়ে নিলেন, সোহাগ করলেন। (মুসলিম : ১৫/৭৫)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে অনেক অনেক মজা করেন। কখনও ভেঙ্গানো, ভেচকি দেন। এতে কখনও তার আলা জিহ্বা পর্যন্ত পরিদৃষ্ট হতো। 
আনাস (রা.) বললেন, আমার এক ভাই আছে তার নাম আবু ‘উমাইর’। তার একটি পাখি ছিল। তা মারা গেলে তার মন খারাপ ছিল। তখন নবীজি তার ভিষণœতা দূর করার জন্য তার সঙ্গে কৌতুক করে বললেনÑ হে আবু ‘উমাইর’! তোমার নুগাইরের কী খবর? (আমালুল ইয়াওম ওয়া লাইলাহ : ৩৬১)।
রাসুল (সা.) শুধু ছোটদের আনন্দেই শরিক হন না। বরং তাদের দুঃখেও শরিক হন। যখন কোনো বাচ্চা কাঁদে, তখন তার হৃদয় ব্যথায় ভরে যায়। সেই ঈদের দিনের ঘটনাটি কে না জানে! সেদিন কী ঘটেছিল? এ প্রশ্ন করার পর যে জওয়াব আসে, তা হলোÑ নবীজি (সা.) ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখলেন একটি বালক কাঁদছে। সেই ছেলেটির কাছে গেলেন। আদর করলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন অনেক দরদ নিয়ে। সেই বালক জানালÑ তার বাবা নেই। তাই আজ আনন্দের দিনেও কোনো আনন্দ নেই তার বুকে। নবীজি (সা.) তাকে আদর করে বুকে জড়িয়ে নিলেন। বললেনÑ তোমার আব্বু নেই, তাতে কী হয়েছে? আমিই তোমার আব্বু। চল আমার বাড়িতে। নিয়ে এলেন নবীজি সেই ছোট বালককে। আশ্রয় দিলেন তাকে নিজের ঘরে। 
মুতার যুদ্ধে হজরত জাফর বিন আবু তালিব (রা.) শহীদ হয়ে গেলেন। নবীজি (সা.) পৌঁছলেন জাফর (রা.) এর বাড়িতে। ছোট বাচ্চাদের কাছে ডাকলেন। শরীরের সঙ্গে শরীর মিশিয়ে তাদের সোহাগ করলেন। আদর মাখা হাত বুলিয়ে দিলেন তাদের মাথায়, গায়ে। তাদের দুঃখের কথা ভেবে নবীজির দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরা যেন থামে না।
জাফর (রা.) এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস ব্যাপার কিছু বুঝে নিলেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলেনÑ জাফরের কিছু হয়েছে কী? নবীজি (সা.) অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, হ্যাঁ, আজ জাফর শহীদ হয়েছে। এ কথা শুনে যেন কান্না আরও বেড়ে গেল সবার। নবীজি (সা.) বাড়ির সবার খাবারের ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেন। নিজে শরিক হলেন ছোটদের সঙ্গে শোক বিরহে।
সময়ের পরিক্রমায় নবীজির শিশুপুত্র ইবরাহিম দুনিয়া থেকে বিদায় নিল। নবীজি (সা.) কাঁদতে লাগলেন। অনেক কান্না। এসব দেখে আবদুর রাহমান বিন আউফ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বললেনÑ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনিও কাঁদছেন? নবীজি (সা.) জবাব দিলেনÑ হে আউফের পুত্র! এটা দয়া। এটা সবাইকে ছেয়ে নেয়। নবীজি আরও বললেন, চোখ তো অশ্রু বহায়, আর অন্তর ব্যথিত হয়। কিন্তু এমন কিছু বলি নাÑ যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। এরপর ইবরাহিমকে সম্বোধন করে নবীজি বললেন, হে ইবরাহিম! তোমার বিরহে, তোমাকে হারিয়ে আমরা আজ শোকাহত, বিমর্ষ।
আনাস (রা.) যখন বাচ্চাদের কাছ দিয়ে চলেন, তখন বাচ্চাদের সালাম দেন। আর তিনি বলেনÑ নবীজি (সা.) এভাবে বাচ্চাদের সালাম দেন।
বাচ্চারা কত রকমই দুষ্টুমি করে। বিরক্ত করে। ভাঙচুর করে। কষ্টে ফেলে দেয় বিভিন্ন ব্যাপারে। এসবকিছুই নবীজি (সা.) গ্রহণ করেন স্বাভাবিকভাবে। বাচ্চারা এমন করবেই বলে মেনে নেন। কোনো গালাগাল করেন না। করেন না কোনো ভর্ৎসনা। কোনো ধমক দেন না। দেন না কোনো শাস্তি। আগলে রাখেন তাদের ভালোবাসায় জড়িয়ে।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত