দুর্নীতি দমনে ইসলামের নির্দেশনা

মুস্তাকিম আল মুনতাজ

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।’ (সূরা বাকারা : ১৮৮)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। শুধু তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু।’ (সূরা : নিসা : ২৯)।
হজরত জাবের (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাক। কেননা জুলুম কেয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। (বোখারি)। নীতিবিরুদ্ধ বা অন্যায়ভাবে কোনো সম্পদ আত্মসাৎ করা বা কোনো কাজ করাকে দুর্নীতি বলে। কেউ কেউ বলেন, দুর্নীতি হলো অসততা, অবৈধ আচরণ, বিশেষ ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে আসীন ব্যক্তিদের আইনবহির্ভূত আচরণ, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ইত্যাদি।
সাধারণত ঘুষ, বল প্রয়োগ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব খাটিয়ে এবং ব্যক্তিবিশেষকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা অর্জনের নাম দুর্নীতি।
আর এ দুর্নীতি বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমনÑ 
নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি : অর্থাৎ যে কোনো কাজে যোগ্য লোককে নিয়োগ না দিয়ে অযোগ্য লোককে নিজের আত্মীয় হওয়ার কারণে নিয়োগ দেওয়া। আর এমন কাজের ব্যাপারে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘উপযুক্ত ব্যক্তিকে রেখে যদি কেউ তার আত্মীয়স্বজন থেকে অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো কাজে নিয়োগ দেয়, তাহলে সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এবং মোমিনদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করল।’ এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তখন তোমরা কেয়ামতের অপেক্ষা করো।’ (বোখারি)।
ঘুষ প্রদান : অবৈধ পন্থায় কোনো কাজ করে দেওয়ার জন্য ঘুষ প্রদান করা, যাতে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তির কাজ হাসিল হয়ে যায় এবং সে এর মাধ্যমে সহজেই ফায়দা হাসিল করতে পারে। আর এ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত।’ শুধু তা-ই নয়, ঘুষ প্রদান ও তা গ্রহণ করার পরিণাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ই জাহান্নামি। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক জাতি যারাই ঘুষ আদান-প্রদান করে, তারা ভীতিতে আক্রান্ত হয়।’ এ বিষয়ে সাওবান (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী এবং উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।’ (তিরমিজি)।
ক্ষমতার অপব্যবহার : নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে অবৈধ কাজ করা এখন ভয়াবহ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে লোক কোনো বিষয়ে মুসলমানদের ওপর দায়িত্ব নিল অতঃপর তাদের ওপর কাউকে স্বজনপ্রীতিবশত ক্ষমতা দিল তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। তার কাছ থেকে কোনো নেক কাজও গ্রহণ করা হবে না। এমনকি তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ আল্লাহর আইনের বিপরীত অবৈধ কোনো কাজ করে, তাহলে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ সরকারি সম্পদ দখল করা, অন্যায়ভাবে সরকারের সম্পদ ভোগ করাÑ এটি কোনো ব্যক্তিমালিকানা নয়, বরং সবার অধিকার। তাই যে এ মাল ভোগ করল, সে সবার অধিকার নষ্ট করল। তাই এটি মহাপাপ। এতে দখলকারী যেমন আল্লাহর রাসুলের শাফায়াত পাবে না, তেমনি সে হবে জাহান্নামি।
উল্লেখিত এ কয়টি কাজের মধ্যেই দুর্নীতি সীমাবদ্ধ নয়। এখানে শুধু কয়েকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতির বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে সমাজে চলতে গিয়ে এমন বহুবিদ দুর্নীতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। তাই নিজেদের দুর্নীতি থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত