আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ মক্কা মোকাররমা

 

আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ। পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত আরব উপদ্বীপের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২৯১ হিজরিতে যার ভিত্তি স্থাপন করেন হিন্দুস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভী হিন্দি (রহ.)। 
১২৮৯ হিজরিতে কলকাতার সাইয়েদা সাওলাতুন নিসা বেগম নামের এক বিত্তবান মহীয়সী নারী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। বাইতুল্লার মেহমানদের সেবার উদ্দেশ্যে তিনি মক্কায় একটি সারাইখানা নির্মাণের নিয়ত করেন। বিষয়টি তার জামাতার (যিনি মাওলানা রহমতুল্লাহর ছাত্র ছিলেন) মাধ্যমে তিনি মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভীর সামনে তুলে ধরলে মক্কার সন্তানদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি সারাইখানার পরিবর্তে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন। তার আর্থিক অনুদানের মাধ্যমেই এ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে তার নামেই এ মাদ্রাসার নামকরণ করা হয়। 
এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তারবিয়াত (শিষ্টাচারের) শিক্ষাও দেওয়া হতো। ১৩৪৪ হিজরির ২৮ জুমাদাল উখরায় সৌদি আরবের মহামান্য বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সাউদ এ মাদ্রাসা পরিদর্শন করে বলেন, ‘সাওলতিয়াহ আমার দেশের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।’
যুগ যুগ ধরে এ মাদ্রাসা ইলম-পিপাসু এবং ইলমপ্রিয় মানুষের প্রিয় স্থান ছিল। বিশেষ করে হজ-ওমরার মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্তের ওলামায়ে কেরাম এখানে এসে দরস (ক্লাস) দিতেন কিংবা পরিদর্শন করতেন। শায়খ আহমদ দিদাত এ মাদ্রাসা পরিদর্শন করে নিজের অভিব্যক্তি এভাবেই প্রকাশ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে সম্মানিত করেছেন। মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল এবং তার সামনে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি মনে মনে বললাম, এ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার জন্য কল্যাণ হোক! কত মুহাদ্দিস, ফুকাহা এবং ওলামা এ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন!
প্রায় দেড় শতাব্দী পর্যন্ত ইলমে নববির সুবাস বিতরণের পর ১৪৩১ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের ১৩ তারিখের সকালবেলা মক্কার মানুষ মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহকে বিদায় জানানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। মসজিদুল হারামের প্রশস্তকরণ প্রকল্পে এ মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে মসজিদুল হারামের একটা অংশ হিসেবে সেখানে বাইতুল্লার মেহমানরা নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদত ও তালিমে ব্যস্ত থাকেন। 
মাদ্রসাতুস সাওলাতিয়াহ তার গ্রন্থাগার এবং ছাত্রসহ মক্কার হাইয়ুল কাকিয়ায় (গ্রামের নাম) স্থানান্তর হয়ে যায়। তারপর থেকে এখানেই ইলমে নববির এ কেন্দ্রটি তার সুবাস বিতরণ করে যাচ্ছে। 
উল্লেখ্য, মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা রহমতুল্লাহ হিন্দি (রহ.) (মৃত্যু ১৩০৮ হিজরি) তিনি বিকৃত খ্রিষ্টধর্মের বিরুদ্ধে লিখিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘ইযহারুল হক’ (বাইবেল থেকে কোরআনসহ) আরও ভিবিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের রচয়িতা। 
হিন্দুস্তানে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী ও খ্রিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করার অভিযোগে ইংরেজ সরকার তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরে তিনি হেঁটে পবিত্র মক্কা মোকাররমায় চলে আসেন। ইংরেজ সরকার তার সব সহায়সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ফেলে। আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাকে এ মাদ্রাসা দান করেন। 
প্রথম দিক দিয়ে এ মাদ্রাসায় শুধু দুটি ক্লাস হতো। একটি কোরআনুল কারিমের দরস, অন্যটি বোখারি শরিফের দরস। মাওলানা রহমতুল্লাহ নিজেই এ কিতাবের দরস দিতেন। 
সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী সরকার মক্কার উসমানি গভর্নরের মাধ্যমে এ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার বারবার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে ছিল। কিন্তু প্রত্যেকবারই আল্লাহ তায়ালা তাদের এ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। 
মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়ায় গরিব-দুঃখী এতিম ছাত্রদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থাও আছে। যেখানে তাদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করা হয়।
এ মাদ্রাসায় গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থাগারও আছে। যার সংগ্রহে বিভিন্ন বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিতাব ও পা-ুলিপি আছে। ইলম পিপাসুরা সেখান থেকে নিয়মিত উপকৃত হন।
মাদ্রসাতুস সাওয়ালাতিয়ার মহিলাদের শিক্ষার আলাদা একটি বিভাগও ছিল। দীর্ঘ আঠার বছর পর্যন্ত সেখানে মহিলাদের শিক্ষা দান করা হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মসজিদুল হারামের রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় পড়ে এ কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়।
১৩৮৪ হিজরিতে আল-আজহার এবং সৌদির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ স্বীকৃতি লাভ করে। এ মাদ্রাসার ছাত্ররা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন।

সূত্র : টুইটার এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন প্রবন্ধ অবলম্বনে রচিত


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত