মুচকি হাসি চারিত্রিক সৌন্দর্যের প্রতীক

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর যে জিনিসটি, সেটি হলো মানুষের হাসি। একটি হাসি শত্রুকেও বন্ধু বানিয়ে দিতে পারে। বিরোধীকে স্বমতে আনতে পারে। একটি মুচকি হাসির পাওয়ার কত জানেন?
মনে করুন, একটা আরবি ঘোড়ায় চড়ে একজন বীর যোদ্ধা ঊর্ধ্বশ্বাসে বর্শা হাতে আপনার দিকে ধেয়ে আসছে। আপনার তূণে মাত্র একটা তির। সে আপনার মাত্র ১০ কদম দূরে। এখনই আপনার বুকে বিঁধিয়ে দেবে বর্শাটি। ঠিক তখনই আপনি তূণের তিরটা ফাত করে তার বুক বরাবর মেরে দিলেন। লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো না। তার বুকটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিল সেটা। চিতপটাং হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ঘোড়াটা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে সব ছন্নছাড়া হয়ে গেল।
একটা মুচকি হাসির পাওয়ার এ তিরের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। আপনি আপনার সবচেয়ে বড় শত্রুটাকেও এই একটা অস্ত্র দিয়ে ঘায়েল করতে পারেন মুহূর্তে। মুচকি একটা হাসি শুধু। 
সে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে চরম উত্তেজনায় গড়গড় করতে করতে আপনার দিকে ধেয়ে আসছে? আপনিও যদি রেগে যান, তাহলে মনে করুন আগুনের ওপর পেট্রল ঢেলে দিলেন। এ মুহূর্তে আপনার উচিত হলো আগুনে পানি ঢেলে দেওয়া। আর পানি হলো আপনার একটা প্রশস্ত হাসি। আপনি যদি তার এ চরম মুহূর্তেও ফিক করে হেসে দেন, তাহলে সে পুরোই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে। চোখ সরু করে তাকাবে। তার মুষ্টি হালকা হয়ে যাবে। সে কখনও আপনার ওপর রাগ ঝাড়তে পারবে না।
যে কোনো মানুষকে ঘায়েল করার একমাত্র অস্ত্র হলো হাসি। কারও দিল জয় করার প্রধান হাতিয়ার হলো মুচকি হাসি। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসির রেখা টেনে আপনি যে কারও সঙ্গে কথা বলবেন, সে আপনার একান্ত হয়ে, আপনার দিকে ধাবিত হয়ে কথা শুনবে। আপনাকে পছন্দ করবে। কেননা হাসি হলো কথার সৌন্দর্য। মানুষের সৌন্দর্য। ব্যবহার ঔজ্জ্ব¡ল্য। এটা নবীজির সুন্নত!
রাসুল (সা.) সর্বদাই মুচকি হেসে, প্রশস্ত বদনে কথা বলতেন এবং অধিক মুচকি হাসতেন। আবদুল্লাহ ইবনে হারেছ ইবনে জাযআ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলাল্লাহ (সা.) এর চেয়ে অধিক মুচকি হাসতে কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি)।
নবী চরিত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো হাসি। তিনি কখনও কারও সঙ্গে গোমরা মুখে কথা বলতেন না। চেহারা সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকত। ফলে যে কেউ তাঁকে পছন্দ করত। কেউ বড় কোনো অপরাধ করলেও তাঁর সঙ্গে হাসি মুখে, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেন। তবে কেউ দ্বীনি কোনো বিষয়ে অন্যায় করলে রেগে যেতেন। 
ডেল কার্নেগি বলেছিলেন, আপনি যদি চান অন্যেরা আপনাকে দেখে আনন্দিত হোক, তাহলে অন্যকে দেখে আপনিও আনন্দ প্রকাশ করুন।
কিন্তু আনন্দটা প্রকাশ করা যায় কীভাবে? একদম সিম্পল। যখনই কারও সঙ্গে দেখা হবে তাকে একটি মুচকি হাসি উপহার দিন। ফলে কী হবে? তার মুখেও একচিলতে হাসি ফুটে ওঠবে। সে হাসির জন্মদাতা আপনি। এর দুটি উপকারিতাÑ আপনি তার কাছে প্রিয় হয়ে যাবেন। দ্বিতীয়ত, আপনি একটি সদকা করার নেকি পাবেন। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন ‘তোমার ভাইয়ের দিকে হাসি মুখে তাকানোও একটি সদকা।’ (তিরমিজি)।
যারা সদা গোমরামুখে থাকে, তাদের লোকেরা কখনও পছন্দ করে না। তাই হাসুন। সদা প্রশস্ত বদনে থাকুন। সবার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠুন।


ঊর্ধ্বলোকের সূর্যের সন্ধানী হও
  এক লোকের বউটা ছিল দুষ্টু প্রকৃতির, লোভী ও পেটুক। তবুও
বিস্তারিত
পাথেয়
প্রত্যেকের সঙ্গে ফেরেশতা ও  শয়তান থাকে যুবাইর বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত,
বিস্তারিত
কয়েকটি অবহেলিত সুন্নত
  রাসুল (সা.) এর সুন্নত থেকে মানুষ যতই বিস্মৃত হয়ে পড়ছে;
বিস্তারিত
কোরআনের পুরোনো কপি
  প্রশ্ন : আমাদের মসজিদে কোরআনের পুরোনো অনেক কপি আছে। যেগুলো
বিস্তারিত
হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক
হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক মাহফুজ আল মাদানী হিংসা বা ঈর্ষার দুটি দিক
বিস্তারিত
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো
  মানবহৃদয়ের সবচেয়ে জঘন্য রোগ হতাশা, যা অনুভূতিকে মেরে ফেলে। নিরাশা,
বিস্তারিত