একদিন নবীজির বাড়িতে

(পর্ব-১৫)

পানাহার : নবীজির বিভিন্ন বিষয় জানতে জানতে অনেক বেলা হয়ে গেল। ১০টা-১১টা বেজে গেছে মনে হয়। পেটে ক্ষুধা অনুভব করছি অনেক আগে থেকেই। বাঙালি মানুষ। সারাদিন খাওয়ার পেছনেই চলে যায়। সকাল, দুপুর, রাত এ তিন বেলা তো আছেই। তারপর ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়া আর সন্ধ্যায় কিছু খাওয়ার অভ্যাসটা ইদানীং নিয়মিত হয়ে গেছে। নবীজি (সা.) কী এত বেলা খেয়ে থাকেন? খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম। জেনে গেলাম খুব সহজেই। নবীজি এত বেলা খাবার গ্রহণ করেন না। আমাদের অনেক গ্রামে যেমন চালু আছে ২৪ ঘণ্টায় ২ বেলা খাওয়া, ঠিক তেমনই চালু আছে আরবে। সকাল ১০টা-১১টায় খাওয়া একবার, আর সন্ধ্যায় একবার। রাতের খাবার সবসময় এশার নামাজের আগেই খেয়ে থাকেন। এই হলো দুবেলা। নবী করিম (সা.) সাধারণত ১০টা-১১টায় দুপুরে খেয়ে থাকেন। এ খাবারও প্রতিদিন নিয়মিত জোটে না। আর সন্ধ্যায় তো অধিকাংশ দিনই জোটে না। এ ব্যাপারে আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) এর কথা মনে পড়ল। তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ (সা.) এর পরিবার পরপর দুদিন যবের রুটি তৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারেনি। এভাবেই বিদায় নিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। (তিরমিজি : ৪/৫০০)।
আরেকবার আয়েশা (রা.) বলেছেন, মুহাম্মদ (সা.) এর পরিবার মদিনায় আগমনের পর থেকে পরপর তিন রাতে গমের খাবার তৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারেনি। এভাবেই কেটে গেছে নবীয়ে আকরামের জীবন। (মুসলিম : ১৮/১০৫)।
নবী করিম (সা.) অনেক সময় রাতে খাবারের মতো কিছুই না পেয়ে না খেয়েই থাকেন। এ ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রা.) এর বক্তব্য হলো
রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর পরিবার ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটিয়ে দেন। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন না। আর তাদের অধিকাংশ সময়ের রুটি হয় যবের। (তিরমিজি : ৪/৫০১)।
আয়েশা (রা.) (তার ভাগ্নে উরওয়াকে) বললেন, হে ভাগ্নে! আল্লাহর কসম, আমরা হিলাল-নতুন চাঁদের অপেক্ষায় থাকি। এক নতুন চাঁদের পর আরেক নতুন চাঁদ আসে। এভাবে তিন নতুন চাঁদ পার করি। দুই মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর পরিবারে চুলা জ্বলেনি। উরওয়া জিজ্ঞেস করলেন, হে খালা! তখন জীবন কাটিয়েছেন কীভাবে? আয়েশা (রা.) বললেন, তখন চলত পানি আর খেজুর। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এক আনসারি প্রতিবেশীর উট ছিল। তার উটের দুধ পাঠাত। আমরা তা পান করতাম। (মুসলিম : ১৮/১০৭)।
এসব বক্তব্য শুনে আমার মনটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। নবী (সা.) খেতে পারেন না। না খেয়ে ঘুমিয়ে যান। তা কি করে হয়। অথচ তিনি তো দোজাহানের বাদশাহ। মদিনার খলিফা। তাঁর হুকুমে কত খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা। বাদশাহদের জন্য তো বড় রকমের খাবার আয়োজন হয়। দুই-চার আইটেম খেয়ে বাকিগুলো ফেলে রাখেন বাদশাহরা। 
আচ্ছা! নবীজির জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা তো কম হয়; কিন্তু যখন মেহমান আসে, তখন তিনি কী করেন? মেহমানদারি তো সুন্নত। মেহমানের সৌজন্যেও কি তাহলে কিছুই করতে হয় না? তিনি মেহমানদারি করেন না তাহলে? এ প্রশ্ন যখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখন এ প্রশ্নের জবাব পেলাম আনাস (রা.) এর বক্তব্যে। তার বক্তব্য হলো নবীজির কাছে সকাল কিংবা সন্ধ্যায় অধিক আহারকারীর জন্য অল্পকিছু গোশত ও রুটি জুটত। (মুসনাদু আহমাদ : ৪/১৭৫)।
অর্থ তো কোনো রকম মিলে যাচ্ছে। খন্দকের যুদ্ধের সময় তো এক সাহাবির বাড়িতে গোশত-রুটির দাওয়াত ছিল। খাবার ছিল পাঁচ-সাতজনের। আর লোক ছিল ৩ হাজার জন। অবশ্য আল্লাহর কুদরতে সবাই তৃপ্তির সঙ্গে পেট ভরে খেয়েছিলেন, সেদিন দুই-তিন দিন ক্ষুধার্ত থাকার পরও। কিন্তু আমার প্রশ্ন তো নবীজি কীভাবে মেহমানদারি করেন? এ প্রশ্নের জবাব তো আনাস (রা.) এর বক্তব্যে পেলাম না। আমি আবার বাক্যটি নিয়ে ভাবতে লাগলাম। হ্যাঁ, আরেকটি অর্থ পেলাম। ‘দাফাফ’ মানে মেহমানের সৌজন্যে। ‘দাইফ’ অর্থ তো মেহমান। তাহলে তো আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়েই গেলাম। আনাস (রা.) এর বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে সকাল কিংবা সন্ধ্যায় নবীজির খাবার তালিকায় গোশত-রুটি হতো শুধু মেহমানের সৌজন্যে।
এখন আরেকটি বক্তব্যও বুঝে এলো। নবীয়ে আকরাম (সা.) লাউ খাওয়া খুব পছন্দ করেন। গোশতে লাউ দেওয়া হলে তা তিনি উঠিয়ে উঠিয়ে খেয়ে থাকেন। (তিরমিজি : ৪/২৫০)।
নবীজি গোশতও পছন্দ করেন। এ বক্তব্য হজরত উম্মে সালামা (রা.) এর একটি কাহিনি থেকে জানলাম। 
হজরত উম্মে সালামা (রা.) এর কাছে কোথাও থেকে গোশত হাদিয়া এলো। তিনি তা রান্না করে ওপরে উঠিয়ে রাখলেন। এ দিকে এক ভিক্ষুক এলো। সে আবদার করল আমি ক্ষুধার্ত। আমাকে কিছু খেতে দিন। আল্লাহ তায়ালা বরকত দেবেন। উম্মে সালামা (রা.) এখন কী করবেন? তিনি বিপাকে পড়ে গেলেন। যদি বলা হয় দেওয়ার কিছুই নেই, তাহলে মিথ্যা বলা হবে। আবার যদি ভিক্ষুককে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে প্রাণের স্বামীকে অনেক দিন পর গোশত খাওয়ানোর যে সুযোগ এলো, তা হারাতে হবে। নবীজি তো গোশত পছন্দ করেন। ঠিক আছে ভিক্ষুককে না দিয়ে গোশতটুকু রেখেই দিই। তাই তিনি অপারগতা প্রকাশে ভিক্ষুককে বললেন ‘আপনার মাঝে আল্লাহ বরকত দিন।’
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আল্লাহর হাবিব (সা.) এলেন উম্মে সালামা (রা.) এর ঘরে। উম্মে সালামা (রা.) গেলেন গোশত আনতে। একি কা-! গোশত তো নেই। এখানে পড়ে আছে কয়েকটি পাথরের টুকরো। চলে এলেন নবীজির কাছে। খুলে বললেন সব ঘটনা। সব শুনে তিনি বললেন তোমার কাছে ভিক্ষুক এসেছিল নিশ্চয়ই? উম্মে সালামা বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন তাকে খাবার না দেওয়ার কারণে গোশত পাথর হয়ে গেছে। (দালায়িলুন নুবুয়ত : ৬/ ২৯১)।


ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মোনাজাত
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার। ফজর নামাজের পর
বিস্তারিত
যেমন কর্ম তেমন ফল
আল্লাহ তায়ালা গোটা সৃষ্টিলোককে খুব সুন্দরভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টির
বিস্তারিত
ছামুদ জাতির গল্প এবং আমাদের
আদ জাতির পতনের পর তামাম আরব উপদ্বীপে শৌর্যশালী জাতি হিসেবে
বিস্তারিত
অনুসরণীয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হজরত ফুলতলী
প্রত্যেক জাতি, গোত্র, সমাজ ও দেশে যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা
বিস্তারিত
অসুস্থতায় হোক ঈমান বৃদ্ধি
প্রায় দুই মাস ধরে মায়ের অসুস্থতার পরিচর্যার জন্য ঢাকার আহ্ছানিয়া
বিস্তারিত
কবিরা গোনাহ থেকে ক্ষমা যেভাবে
কবিরা অর্থ বড়, ছগিরা অর্থ ছোট। ছগিরা গোনাহ মানে ছোট
বিস্তারিত