মক্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এবং এর সর্বাধিক আকর্ষণীয় স্থানগুলোর অন্যতম মক্কার বাহশাহ আবদুল আজিজ কাবার গিলাফ নির্মাণ কমপ্লেক্সের পাশের উম্মে আল-জৌদের অদূরে অবস্থিত মক্কা-মদিনা মসজিদ নির্মাণ জাদুঘর পরিদর্শনে মক্কার একটি স্কুলের শিশুরা

একদিন নবীজির বাড়িতে

যা খেতেন যেভাবে খেতেন

মক্কা-মদিনা নির্মাণ জাদুঘরে শিশুরা

(পর্ব-১৭)

একা একা খুব কমই খেয়ে থাকেন। সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে যখন বসেন তখন বড় প্লেটেই বসেন। যখন প্লেটজুড়ে একই খাবার হয় তখন নিজের সামনের দিক থেকেই খেয়ে থাকেন। হাত এলোমেলো ঘুরিয়ে অন্যের বিরক্তি বাড়ান না। যখন একই প্লেটে বিভিন্ন রকম খাবার থাকে কিংবা বিভিন্ন প্লেটে বিভিন্ন খাবার থাকে তখন পছন্দমতো খাবার তিনি তুলে নেন তাঁর হাতে

হিজরতের পর নবীজি (সা.) যখন মদিনায় চলে এলেন তখন তার দায়িত্বে যোগ হলো রাষ্ট্রপ্রধানের জিম্মাদারি। নিজেকে সঁপে দিতে হলো দেশ ও ধর্মের জন্য। এবার তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানি নির্ধারিত হলো। তা থেকেই তিনি দান করেন, স্ত্রীদের ভরণ-পোষণ দেন আর নিজের খরচ বহন করেন। (বোখারি : ৫/২০৭)।
খাওয়া-দাওয়া থেকে রুজি-রোজগারের প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলাম। খাওয়ার পালা। নবীজি কীভাবে খেয়ে থাকেন তা নিয়ে আলোচনা উঠল। শুরু হলো একেকজনের দেখাশোনার বর্ণনা। বর্ণনার সারসংক্ষেপ পেলামÑ আমার নবীজি খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেন। দুই হাতই ধুয়ে নেন। খাবার শুরু করেন বিসমিল্লাহ... বলে।
ডান হাতে খেয়ে থাকেন। যদি দুটি শুকনো জাতীয় খাবার একসঙ্গে খান তখন উভয় হাতও ব্যবহার করেন। অনেক সময় ডান হাতে থাকে একটি ফল বাম হাতে থাকে আরেকটি ফল। আমাদের দেশের কলা-রুটি খাওয়া হয় দুহাত মিলিয়ে। যাক, এমন পদ্ধতিতেও তাহলে সমস্যা নেই। 
নবীজি (সা.) হাত দিয়েই খান। রুটি বা এ জাতীয় খাবার হলে ৩ আঙুলেই সেরে ফেলেন লোকমা মুখে ওঠানোর কাজ। গোশত যদি বড় টুকরো হয় তাহলে তা কাটার জন্য ছুরিও ব্যবহার করেন। (তিরমিজি : ৪/২৪৩)। মুখে খাবার তোলেন হাত দ্বারা। 
একা একা খুব কমই খেয়ে থাকেন। সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে যখন বসেন তখন বড় প্লেটেই বসেন। যখন প্লেটজুড়ে একই খাবার হয় তখন নিজের সামনের দিক থেকেই খেয়ে থাকেন। হাত এলোমেলো ঘুরিয়ে অন্যের বিরক্তি বাড়ান না। যখন একই প্লেটে বিভিন্ন রকম খাবার থাকে কিংবা বিভিন্ন প্লেটে বিভিন্ন খাবার থাকে তখন পছন্দমতো খাবার তিনি তুলে নেন তাঁর হাতে। তারপর মুখে পুরে দেন। তখন হাত এলামেলো হয়, ঘুরে ফিরে বিভিন্ন দিকে। কখন কখনও সাথিদের হাতে তুলে দেন খাবার। আর সেই সাথি যদি জীবনসঙ্গিনী হন, তাহলে হাত চলে যায় সঙ্গিনীর মুখে। মেহমানকে বারবার তাগিদ দিয়ে খাওয়ান। বলতে থাকেনÑ আরে, আরও খাও, তৃপ্ত হয়ে খাও। খাবার যদি পরিবেশনের ব্যাপার হয় তাহলে ডান দিক থেকে পরিবেশন করেন। (তিরমিজি : ৪/২৭১)।
তার পছন্দের খাবার তালিকা শুনতে একজনের দিকে তাকালাম। তিনি যেন কিছু বলতেই চাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, নবীজি (সা.) আসলে সব হালাল খাবারই পছন্দ করেন। গোশত-রুটি, তরকারির মধ্যে লাউ, মিষ্টি, মধু, সিরকা, খেজুর, খরবুজা, কাঁকড়ি (স্বাদে শসার মতো দেখতে চিচিঙ্গার মতো) ইত্যাদি তার পছন্দের খাবার। (নাসায়ি : ৪/১৫৫)।
গোশতের মধ্যে রানের গোশত, গজের গোশত ও সিনার হাড় নবীজি (সা.) এর পছন্দ। গোশতের ঝোলে ভিজিয়ে রাখা রুটি যা সারিদ নামে পরিচিত, তা নবীজি (সা.) এর অনেক বেশি পছন্দ। (তিরমিজি : ৪/২৪২)।

লেখক : অধ্যাপক, উর্দু বিভাগ
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত