পাহাড়খেকোদের আস্তানায় এসিল্যান্ডের অভিযান, এস্কেভেটর জব্দ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে প্রভাবশালী পাহাড়খেকোদের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন ২০ নভেম্বর রাতে এ অভিযান চালায়। অভিযানের ফলে পাহাড়খেকোদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ২০ একরের বিশাল একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। 

জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্তত ২০ একরের একটি বিশাল পাহাড় রয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে সাবাড় করতে ইতোমধ্যে সকল পরিকল্পনা সম্পন্ন করে একটি প্রভাবশালী পাহাড়খেকো চক্র।

তারই অংশ হিসেবে পাহাড়খেকো চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনের অগোচরে গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় কাটার পর গত ২০ নভেম্বর বিকালে বিষয়টি নজরে আসে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের। তৎক্ষণাৎ তিনি পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনার জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেনকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা পেয়ে ২০ নভেম্বর রাতেই স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) সাথে নিয়ে পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এসিল্যান্ড। অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করেন তিনি। পরে এস্কেভেটরটি স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়।  

খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ব্যক্তি মালিকাধীন বিশাল আকৃতির পাহাড়টি কাটছিলেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে সরোয়ার, মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে এরশাদুর রহমান, হাবিবুর রহমানের ছেলে মনসুর আলম, মাকসুদুল আলমের ছেলে হাসানুল ইসলাম আদর ও উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে নুরুল হক। তারা এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ডাম্পার (পিকআপ) ভর্তি করে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করে আসছিল। গত ২০ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের সব পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যায়।

তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হলেও আদৌ রাঘববোয়ালদের হাত থেকে পাহাড়টি রক্ষা পাবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। 

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ২০ নভেম্বর রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালাই। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করে পরে তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবহিত করা হয় বলেও জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় তহশিলদারকে (ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা) সাথে নিয়ে দু’দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পাহাড় কাটার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন নাম-পরিচয় জানা গেছে। পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বিচারপতি ও প্রেস
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শুক্রবার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
বিস্তারিত
শিশু আমির ফিরে পেলো পরিবার
চারদিন পর শিশু আমির হোসেন (৮) ফিরে পেলো পরিবারকে। সে
বিস্তারিত
রাজশাহীর সাংবাদিক ফটিক আর নেই
রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনোয়ারুল আলম ফটিক (৬০) আর নেই। বৃহস্পতিবার
বিস্তারিত
ছড়া সংসদ রংপুরের অভিষেক ও
রংপুর বিভাগের ছড়া লিখিয়েদের সংগঠন ছড়া সংসদ রংপুরের কার্যনির্বাহী কমিটির
বিস্তারিত
জাতীয় পর্যায়ে গীতা পাঠ প্রতিযোগিতার
জাতীয় পর্যায়ে শ্রী শ্রী গীতা পাঠ প্রতিযোগিতার রংপুর বিভাগীয় চূড়ান্ত
বিস্তারিত
খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের সহযোগীতা
খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড ভোগ করছে আর দুর্নীতির দায়ে
বিস্তারিত