রাসুল (সা.) এর শহরে রাসুল প্রেমিকদের সঙ্গে

ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে ছুটে চলা গাড়ি হঠাৎ সজোরে ব্রেক কষলে তা রাস্তা থেকে কিছুটা পাশে চলে যায়। আমাদের চারপাশে উঁচু উঁচু পাহাড় ও উট চারণভূমি। আমরা এখন নবীজি (সা.) এর শহরে তাঁর মেহমান। বন্ধুদের সঙ্গে ‘জিন উপত্যকা’ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববিতে আসরের নামাজ পড়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণে সবাই যাত্রা বাতিল করলাম। পরিশেষে আমাদের কাজ হয়ে দাঁড়াল, উট চারণভূমিতে টাটকা দুধ পানের জন্য কোনো স্থানীয় লোকের উটের খামার খুঁজে বের করা।

নবী করিম (সা.) উটের দুধ পছন্দ করতেন। সে হিসেবে উটের দুধ পান আমাদের জন্য নবী (সা.) এর পবিত্র সুন্নতও বটে। নবীজি (সা.) এর শহরে এসে মেহমান হয়ে তাঁর সুন্নত থেকে কীভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখা সম্ভব হবে! গাড়ি কিছুদূর চলার পর পাহাড়ের আড়ালে অবস্থিত একটি উটের খামারে পৌঁছলাম আমরা। খামারের কাছে আরও কয়েকটি নতুন মডেলের গাড়ি দেখলাম। পাশেই দামি গালিচায় একজন আরব শায়খ উপবিষ্ট। আমরা শায়খের কাছে উটের দুধ ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি আমাদের মেহমানদারি করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। দুধের দামের কথায় যেন লজ্জা পেলেন। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন আমাদের দুধ দ্বারা আপ্যায়ন করতে।
মদিনার বরকত ভেবে আমরা সবাই পরিপূর্ণ তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত দুধ পান করতেই থাকলাম। তিনি আমাদের পান করার জন্য খুব উৎসাহ দিলেন। আরব শায়খের এ মেহমানদারি সর্বদা স্মৃতিতে রাখার মতো। আরবরা ঐতিহ্যগতভাবে মেহমানদারিতে খ্যাত। এখনও তারা তাদের সোনালি ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এ সময়েই অপর একজন আরবের পক্ষ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তার নিজস্ব খামারে বিশেষ দাওয়াত পেলাম।
মক্কা মুকাররমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার পথে অধিকাংশ সময় এ চিত্র দেখা যায়, স্থানীয় শহুরে আরবরা নিজেদের পরিবার নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় উট চারণভূমিতে কার্পেট বিছিয়ে কফি ইত্যাদি পানাহারের আসর জমিয়েছে। এ দৃশ্য আরব সংস্কৃতির অংশ। আমাদের দাওয়াত দানকারীর বাড়িতে পৌঁছে দেখলাম বিশেষ ধরনের চুলায় লাকড়ি জ্বালিয়ে কফি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘গাওয়া’ বলা হয়। উট ও বকরি জবাই করে আমাদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশেই আরব বন্ধুদের উট, বকরি ও ঘোড়ার আধুনিক খামার। একেকটি উটের দাম সর্বনিম্ন ৫০ হাজার আরব রিয়াল! 
আমাদের আরবি ভাষাজ্ঞান না থাকার কারণে বন্ধু মালিক মনজুর আওয়ান দোভাষীর ভূমিকা পালন করলেন। কিন্তু হৃদ্যতা ও মহব্বতের যে নিদর্শন আরব মেজবানদের চোখ ও হৃদয় থেকে, আগ্রহ থেকে দৃশ্যমান হলো, তা বোঝার জন্য কোনো ভাষার প্রয়োজন হয় না।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরব ও পাকিস্তানি বন্ধুদের সমাগম বাড়তে থাকল। কিন্তু মিলন মেলার সময়টি শেষ হয়ে গেল খুব দ্রুত। বাস্তবেই নবী (সা.) এর শহরের লোকজন খুব দয়ার্দ্র ও কোমল প্রকৃতির। পবিত্র মদিনা শহরে অবস্থানকালেই অপর একজন সত্যিকার আশেকে রাসুলের সঙ্গে সাক্ষাতে ধন্য হলাম। প্রসিদ্ধ আলেম ও দাঈ মাওলানা তারিক জামিলও তখন মদিনায় অবস্থান করছিলেন। আমি এবং ‘জাপান বিজনেস কাউন্সিলের’ প্রেসিডেন্ট রানা আবেদ হুসাইন বিগত কয়েক মাস ধরে মাওলানা তারিক জামিলকে জাপানে আমন্ত্রণের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলাম। এখন সাক্ষাৎ হয়ে বেশ উপকার হলো! তার চেহারায় সহমর্মিতা, চোখে নবী (সা.) এর ভালোবাসা এমনভাবে স্থান করে নিয়েছে, সহজেই চোখে লেগে যায়। আপন করে নেওয়ার ভাষা ও ভঙ্গির কারণে তিনি সবার প্রিয়।
তার সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। বললাম, আমার ওদিকের একটি দুনিয়া আপনার ধর্মীয় বক্তব্য দ্বারা নিজেদের শারীরিক ও আত্মিক বেদনা দূর করে থাকে। আমরা সবাই আপনার সুস্থতার জন্য দোয়া করি। তিনি জাপান আমন্ত্রণের দাওয়াত কবুল করলেন। মদিনার সফর আমার জন্য সত্যিকার অর্থে কল্যাণ, উৎফুল্লতা ও আনন্দব্যঞ্জক ছিল। এমনিতেই নভেম্বরের শেষের দিকে মদিনার আবহাওয়া ও পরিবেশ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও হৃদয়গ্রাহী অবস্থায় থাকে। গ্রীষ্মের শেষ ও শীতের শুরু। মেঘ সম্পূর্ণরূপে আসমান ঢেকে নেয়। এ পরিবেশ প্রিয় সবুজ গম্বুজ ও তার চারপাশের দৃশ্যকে অত্যন্ত চমৎকাররূপে ফুটিয়ে তোলে।
অসংখ্য নবীপ্রেমিক মসজিদে নববির বিভিন্ন স্থানে বসে দরুদ পাঠ করছেন, নবী (সা.) এর মসজিদকে অবলোকন করছেন হৃদয় দিয়ে। আল্লাহ তায়ালার কাছে কামনা, প্রত্যেক আশেকে রাসুলকে মক্কা মোকাররমা ও মদিনা মোনাওয়ারায় হাজির হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। 

২৭ অক্টোবর ২০১৯ পাকিস্তানের দৈনিক জঙ্গে প্রকাশিত জাপান প্রবাসীর এ কলাম অনুবাদ করেছেন মাওলানা আমিরুল ইসলাম


ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে লোকমান
প্রজ্ঞাময় কোরআনের উপদেশগুলোতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা। রয়েছে মহান আল্লাহর
বিস্তারিত
ইসলামে খাদ্য গ্রহণে পরিমিতিবোধ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য বেশি খাদ্য গ্রহণও ইসলামে কাম্য নয়। এতে 
বিস্তারিত
বাউল গানের নামে অপব্যাখ্যা কাম্য
যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে ওই বিষয়ে পরিপূর্ণ
বিস্তারিত
শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত