অবৈধ দৃষ্টিপাত বন্ধে করণীয়

সমাজ আজ বিভিন্ন অনাচারে আক্রান্ত। বিশেষ করে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ আজকের সমাজের নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনা-ব্যভিচারের সূত্রপাত দৃষ্টি দ্বারা। যখন অন্যায় দৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যাবে, তখন পরবর্তী ধাপ যৌন হয়রানি, অবৈধ যৌনাচার, ধর্ষণÑ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। নিম্নে অবৈধ দৃষ্টিপাত বন্ধের কিছু কৌশল ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।

১. ‘আল্লাহ সর্বদা দেখছেন, সবসময় তিনি বান্দার কর্ম সম্পর্কে অবগত’Ñ এ বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখা। অবৈধ দৃষ্টি খেয়ানত, তা হয়তো প্রতিবেশী জানে না; কিন্তু আল্লাহ জানেন। আল্লাহ বলেনÑ ‘তিনি চোখের খেয়ানত ও অন্তরে যা লুকায়িত, সে সম্পর্কে অবগত।’ (সূরা মোমিন : ১৯)। 
২. আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। তাঁর সামনে লুটে পড়া। তাঁর কাছে প্রার্থনায় রত হওয়া। আল্লাহ বলেনÑ ‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সূরা মোমিন : ৬০)। 
৩. জেনে রাখা উচিত, বান্দার কাছে থাকা সব নেয়ামতই আল্লাহর। এগুলোর দাবি কৃতজ্ঞতা আদায় করা। দৃষ্টিশক্তি নামক নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা হলো হারাম দর্শন থেকে তা হেফাজত করা। 
৪. নফসের সঙ্গে মুজাহাদা করা। দৃষ্টি অবনত রাখতে তাকে অভ্যস্ত করে তোলা। এতে ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘যারা আমার পথে চেষ্টা করে আমি তাদের পথের সন্ধান দিয়ে দিই।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘যে ধৈর্যধারণ করতে চায় আল্লাহ তাকে ধৈর্যধারণের তৌফিক দান করেন।’ (বোখারি : ১৪০০)। 
৫. যথাসম্ভব ওই জায়গা থেকে দূরে থাকা, যেখানে দৃষ্টি সংযত রাখা কঠিন। এমন জায়গা হলোÑ বাজারে গমন, রাস্তাঘাটে উপবেশন। রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক। তারা (সাহাবিরা) বললেন, এছাড়া আমাদের তো আর উপায় নেই। এগুলো আমাদের বসার জায়গা। আমরা এতে বসে কথাবার্তা বলি। তিনি বললেন, যদি তোমাদের রাস্তায় বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বললেন, রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা...।’ (বোখারি : ২৩৩৩, মুসলিম : ২১২১)। 
৬. জেনে রাখা কর্তব্য, পরিবেশ-পরিস্থিতি যতই নোংরা হোক, অন্যায়ের প্রতি আকর্ষণ যতই তীব্র হোক; মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে হারাম থেকে সর্বাবস্থায় দৃষ্টি অবনত রাখা। আল্লাহর আদেশ পালনে সচেষ্ট থাকা। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মোমিন পুরুষ কিংবা মোমিন নারীর সে বিষয়ে কোনো (ভিন্ন) সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না, আর কেউ অল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।’ (সূরা আহজাব : ৩৬)। 
৭. নফল ইবাদত বেশি বেশি করা। কেননা ফরজ ঠিক থাকার পাশাপাশি যখন বেশি বেশি নফল আমল করা হবে, তা বান্দার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক থাকার কারণ হয়ে থাকে। 
৮. যে ভূমিতে অপরাধ হচ্ছে, সে ভূমি একদিন বান্দার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সে কথা স্মরণ করা। 
৯. আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করা। 
১০. দৃষ্টিপাতে বাধা প্রদানকারী কোরআন ও হাদিসের বাণীগুলো স্মরণ করা। আল্লাহ বলেছেনÑ ‘আপনি মোমিনদের বলে দিন, তারা যেন দৃষ্টিকে অবনত রাখে।’ (সূরা নুহ : ৩০)। 
১১. অতিরিক্ত দৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকা। সুতরাং প্রয়োজন ব্যতীত অন্যদিকে দৃষ্টি না দেওয়াই উচিত।
১২. বিয়ে করে ফেলা। এটা উত্তম চিকিৎসা। নবী (সা.) বলেছেনÑ ‘যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা তা দৃষ্টি অবনতকারী এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফাজতকারী। আর যে তা করতে সক্ষম নয়, তার জন্য আবশ্যক হলো রোজা রাখা। কেননা এটা তার কামনা-বাসনাকে নিবারণকারী।’ (বোখারি ১৮০৬; মুসলিম : ১৪০০)। 
১৩. রোজা রাখা, যা আগের হাদিস দ্বারা স্পষ্ট। 
১৪. আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন ইবাদত সেভাবেই আদায় করা। তার মধ্যে একটি হলো নামাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)। 
১৫. জান্নাতের ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের কথা স্মরণ করা। কেননা হুরের প্রত্যাশা হারাম জিনিস থেকে ধৈর্যধারণ করতে সাহায্য করবে। 
১৬. যার দিকে দৃষ্টিপাত করা হচ্ছে তার দোষত্রুটিগুলো লক্ষ করা। তার ভেতরে যে কদর্যতা ও কুশ্রী অবস্থা আছে, তা অনুভব করা। 
১৭. অন্যায় পরিত্যাগে উঁচু সাহসিকতা অর্জন করা। 
১৮. বিভিন্ন সময় নিজের হিসাব নেওয়া। দৃষ্টি অবনত রাখতে নফসের সঙ্গে মুজাহাদা করা। 
১৯. অবৈধ দৃষ্টিপাত পরবর্তী আফসোস ও কষ্টের কথা স্মরণ করা। 
২০. দৃষ্টি অবনত রাখার বিশাল উপকার সম্পর্কে অবগত হওয়া। 
২১. বিভিন্ন মজলিস ও বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা এবং তার ভয়াবহতার বর্ণনা দেওয়া। 
২২. আত্মীয়স্বজনকে সংশোধন করার ফিকির করা। দৃষ্টি আকর্ষণকারী ও সাজসজ্জা প্রকাশকারী বস্তু পরিধান করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেওয়া। যেমনÑ কাপড় পরার স্টাইল, রং-বেরঙের কাপড় পরা, হাঁটার স্টাইল, কোমল স্বরে কথা বলা ইত্যাদি সব কাজ থেকে বাধাদান করা। 
২৩. দৃঢ়-ইচ্ছায় রূপান্তরিত হওয়ার আগে মনে উদিত কল্পনা ও ওয়াসওয়াসাকে দূর করে ফেলা। 
২৪. অশুভ-মৃত্যুর ভয় করা। মৃত্যুর সময় আফসোস হতে পারেÑ এ ভয় অন্তরে থাকা। 
২৫. সৎলোকের সঙ্গ গ্রহণ করা। কথায় বলে, সঙ্গী গুণে লোহা জলে ভাসে। 
২৬. এ কথা ভালোভাবে জানা যে, চোখের জেনা হলো দৃষ্টিপাত করা। হারাম দৃষ্টিপাত নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। 
এখানে কিছু পথ ও পন্থা বর্ণনা করা হলো। প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের জন্য আবশ্যক, খুঁজে খুঁজে সঠিক পথের সন্ধান বের করা এবং সে অনুযায়ী চলা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সত্য, সঠিক পথ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন।

ষ ইসলাম কিউ অ্যান্ড এ অবলম্বনে


ফেসবুকে আজহারীর আবেগঘন স্ট্যাটাস
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তার
বিস্তারিত
ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মোনাজাত
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার। ফজর নামাজের পর
বিস্তারিত
যেমন কর্ম তেমন ফল
আল্লাহ তায়ালা গোটা সৃষ্টিলোককে খুব সুন্দরভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টির
বিস্তারিত
ছামুদ জাতির গল্প এবং আমাদের
আদ জাতির পতনের পর তামাম আরব উপদ্বীপে শৌর্যশালী জাতি হিসেবে
বিস্তারিত
অনুসরণীয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হজরত ফুলতলী
প্রত্যেক জাতি, গোত্র, সমাজ ও দেশে যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা
বিস্তারিত
অসুস্থতায় হোক ঈমান বৃদ্ধি
প্রায় দুই মাস ধরে মায়ের অসুস্থতার পরিচর্যার জন্য ঢাকার আহ্ছানিয়া
বিস্তারিত