হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক

হিংসা-বিদ্বেষ সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক

মাহফুজ আল মাদানী

হিংসা বা ঈর্ষার দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো অন্যের সম্পদ নষ্ট হয়ে নিজের কাছে আসার আকাক্সক্ষা করা। অপরটি হলো অন্যের নেয়ামত নষ্ট না হয়ে অনুরূপ নেয়ামত নিজের মধ্যে আসার কামনা করা। দুটির মধ্যে প্রথমটি সর্বাবস্থায় অবৈধ, নাজায়েজ। এ জাতীয় হিংসা থাকা কবিরা গোনাহ। আর দ্বিতীয় ধরনের হিংসা সৎকাজে বৈধ। যাকে গিবতাহ বা ঈর্ষা বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘দুই ধরনের লোক ব্যতীত অন্য কারও প্রতি ঈর্ষা করা যায় না। (তাদের একজন হলো) এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ (প্রচুর) ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সত্যের পথে তা ব্যয় করার প্রচুর মনোবলও দান করেছেন। আর অপর ব্যক্তি হলো যাকে আল্লাহ তায়ালা হেকমত (প্রচুর প্রজ্ঞা) দান করেছেন। অতঃপর সে তা দ্বারা সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে এবং তা (মানুষকে) শিক্ষা দেয়।’ (বোখারি : ১৪০৯, মুসলিম : ২৬৮, আহমদ : ৪১০৯, ইবনে মাজাহ : ৪২০৮, মিশকাতুল মাসাবিহ : ২০২)।
হিংসা-বিদ্বেষ এমন একটি নিকৃষ্ট স্বভাব, যা মানুষকে ক্ষিপ্ত করে অহেতুক শত্রুতা বাড়িয়ে দেয়। হিংসা মানুষের অন্তর্জালা বাড়িয়ে দেয়। হিংসার দহনে হিংসুক জ্বলতে থাকে সারাক্ষণ। হিংসুক ব্যক্তি অন্যের সফলতায় হিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত হতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করে না। আমাদের পেয়ারা নবী (সা.) কখনও কারও সঙ্গে হিংসা করেননি, বরং উম্মতদের হিংসা না করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মন্দ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, মন্দ ধারণা হলো জঘন্যতম মিথ্যা কথা। কারও দোষত্রুটি জানার চেষ্টা করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, আর একজনের ওপর দিয়ে মাল দর করো না ও দালালি করো না। পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা রেখ না, পরোক্ষ নিন্দাবাদে একে অপরের পেছনে লেগো না। বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থাকবে। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, পরস্পরে লোভ-লালসা করো না।’ (বোখারি : ৬০৬৪, মুসলিম : ২৫৬৩, আহমদ : ৭৮৫৮, মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫০২৮)।
শরিয়তে হিংসা সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলামি শরিয়ত কারও সঙ্গে হিংসা করার সুযোগ প্রদান করেনি। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এর বাণী, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, আগুন যেমন লাকড়িকে খেয়ে ফেলে হিংসা ঠিক তেমনি নেকি ও পুণ্যকে খেয়ে ফেলে।’ (আবু দাউদ : ৪৯০৩, মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫০৪০)। জমহুর মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, যদিও হাসাদ বা হিংসা অবৈধ এবং গিবতাহ বা ঈর্ষা বৈধ তবুও যে গিবতাহ বা ঈর্ষা হাসাদ বা হিংসা সৃষ্টি করে, সে গিবতাহও অবৈধ এবং হারাম।
আমাদের সমাজে হিংসুকের সংখ্যা অনেক বেশি। কারও উন্নতি সহ্য করার মনমানসিকতা সম্পন্ন লোকের বড়ই অভাব। হিংসার দহনে প্রজ্বলিত হতে থাকে সারাক্ষণ। অথচ হিংসা হিংসুককেই বেশি দহন করে। তাই হিংসা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নচেৎ সমাজকে এগিয়ে নেবে কারা? এ জন্য কারও প্রতি হিংসা করা যাবে না এবং কারও হিংসার শিকার যাতে না হতে হয় সেদিকেও সতর্ক থাকা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হিংসা থেকে বাঁচার জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘এবং (আমি আশ্রয় চাই) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।’ (সূরা আল ফালাক : ৫)। আসুন আমাদের সমাজকে গড়ে তুলি হিংসামুক্ত। যাতে করে সমাজ হবে বসবাস উপযোগী।


ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে লোকমান
প্রজ্ঞাময় কোরআনের উপদেশগুলোতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা। রয়েছে মহান আল্লাহর
বিস্তারিত
ইসলামে খাদ্য গ্রহণে পরিমিতিবোধ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য বেশি খাদ্য গ্রহণও ইসলামে কাম্য নয়। এতে 
বিস্তারিত
বাউল গানের নামে অপব্যাখ্যা কাম্য
যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে ওই বিষয়ে পরিপূর্ণ
বিস্তারিত
শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত