আত্মীয় স্বজনের সম্পর্ক

হজরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, অত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বোখারি ও মুসলিম)। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে যদি কেউ হালাল মনে করে তবে তার জন্য জান্নাত হারাম। আর যদি সাধারণভাবে ছিন্ন করে তবে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে হবে। আবু বাকারাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, জুলুম এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা অপেক্ষা এমন কোনো বড় গোনাহ নেই যার জন্য আল্লাহ ওই গোনাহগারকে আখেরাতে বরাদ্দকৃত 
শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ায়ও শাস্তি দেবেন। (তিরমিজি)

যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে রক্ত, বংশ ও বিবাহের মাধ্যমে তাকে আত্মীয়তা বলে। জীবন চলার ক্ষেত্রে হাজারো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেভাবে গড়ে উঠেছে তা টিকিয়ে রাখা কর্তব্য। তবে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও আল্লাহর  জন্য করা আর সম্পর্ক গড়ে তোলা তাও আল্লাহর জন্য। কিছু সম্পর্ক এমন তা ছিন্ন করলেও ছিন্ন হবে না। ওই সম্পর্কের মানুষগুলোর সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখতেই হবে। মা-বাবার সম্পর্ক, ভাই-বোনের সম্পর্ক। কারও মা-বাবা যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীও হয় তবুও তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তুচ্ছ ঘটনা বা তুচ্ছ স্বার্থের জন্য কোনো সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। আর গরিব বলে যদি আত্মীয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয় তবে তা হবে অতি নিষ্ঠুরতা। আত্মীয়তার সম্পর্কর ছিন্ন করার ক্ষেত্রে অনেক ধমক এসেছে। আত্মীয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ভয় করার কথা বলেন। হে মানবজাতি, তোমরা প্রভুকে ভয় কর, যিনি তোমাদের এক আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের পর্যবেক্ষক। (সূরা নিসা : ১)   
হজরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, অত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বোখারি ও মুসলিম)। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে যদি কেউ হালাল মনে করে তবে তার জন্য জান্নাত হারাম। আর যদি সাধারণভাবে ছিন্ন করে তবে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
আবু বাকারাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, জুলুম এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা অপেক্ষা এমন কোনো বড় গোনাহ নেই যার জন্য আল্লাহ ওই গোনাহগারকে আখেরাতে বরাদ্দকৃত শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ায়ও শাস্তি দেবেন। (তিরমিজি, মেশকাত : ৪২০)।
জুলুম ও আত্মীয়তা ছিন্নকারী এ দুই পাপের শাস্তি আল্লাহ যেমন আখেরাতে দেবেন তেমনি দুনিয়ায়ও তার শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ এগুলোর কারণে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি হয়। 
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রেহম (আত্মীয়তার সম্পর্ক) আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে আল্লাহ তায়ালা তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন। আর যে ব্যক্তি আমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তায়ালা তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। (মুসলিম : ৬২৮৮)।  কতবড় ধমক দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে যদি আল্লাহর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় তবে আমাদের দুনিয়া ও আখেরাত দুটিই ধ্বংস। আর আল্লহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয় আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে। 
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, কোনো মুসলমানের জন্য তিন দিনের বেশি তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ রাখা জায়েজ নেই। (মুসলিম  : ৬২৯৫)। বর্তমানে আমাদের রাগ এত বেশি। আমাদের দাম এত বেশি যে, আমরা বছরকে বছর নিজ আত্মীয় বা বন্ধু ইত্যাদির সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা বা কথাকে কেন্দ্র করে কথা বলা বন্ধ করি। সম্পর্ক ছিন্ন করি। একটু ঊনিশ-বিশ হলেই মা-বাবার সঙ্গেও কথা বলা বন্ধ করি। এ জন্য বর্তমানে আমাদের সম্পর্কের যেমন ছেদ ধরেছে ঠিক আমাদের জীবনযাত্রায়ও ছেদ ধরেছে। 
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.) কে বলতে শুনেছি, যে লোক তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায় সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (বোখারি : ৫৫৫৯)। 
আমরা যে জিনিসের আকাক্সক্ষী। আমরা যেটি চাই হরদম। আল্লাহ তায়ালা তা কোথায় পাওয়া যাবে তা বলছেন। আমরা কী চাই? আমরা আমাদের হায়াত বৃদ্ধি চাই। আমরা আমাদের রিজিক প্রশস্ত চাই। আয়ু বৃদ্ধি ও রিজিক প্রশস্ততা আল্লাহ তায়ালা রেখেছেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার মধ্যে। আত্মীয়দের হক আদায় করার মধ্যে। আত্মীয়দের দেখাশোনা, খোঁজ-খবর নেওয়ার মধ্যে। আমরা আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকালেও তার বাস্তব নমুনা দেখতে পাব। আল্লাহ তায়ালা আয়ু বৃদ্ধির অর্থ হলো, তার নির্ধারিত আয়ু থেকেও তাকে বৃদ্ধি করে দেবেন বা তার হায়াতের মধ্যে এমন বরকত দেবেন যে, অল্প সময়ে তার অনেক কাজ হয়ে যাবে। অথবা তার সুনাম ও সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে অথবা তাকে এমন কাজ করার তৌফিক দান করা হবে তার মৃত্যুর পরও তা থেকে সওয়াব যেতে থাকবে।  সুতরাং আসুন আমরা আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন না করে দৃঢ় করি। দুনিয়া এবং আখেরাতে তা আমাদের মঙ্গল বয়ে আনবে। 

লেখক : পরিচালক, ইসলাহ বাংলাদেশ, আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা


ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে লোকমান
প্রজ্ঞাময় কোরআনের উপদেশগুলোতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা। রয়েছে মহান আল্লাহর
বিস্তারিত
ইসলামে খাদ্য গ্রহণে পরিমিতিবোধ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য বেশি খাদ্য গ্রহণও ইসলামে কাম্য নয়। এতে 
বিস্তারিত
বাউল গানের নামে অপব্যাখ্যা কাম্য
যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে ওই বিষয়ে পরিপূর্ণ
বিস্তারিত
শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত