আসল ব্যাধির দাওয়াই

ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড় সহযোগী। তাই ন্যায়, সৎ ও নিষ্ঠাবান লোকদের সাহচর্য ও মহব্বত কামনা করা। তাদের সঙ্গে নেক কাজে প্রতিযোগিতায় শরিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা অন্যদের ওপর প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চায় তারা যেন এ জিনিসটি হাসিল করার জন্যই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে।’ (সূরা মুতাফফিফিন : ২৬)

বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি। নিজেদের দ্বীন-ঈমান প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে। দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে আমাদের বিবেক-বুদ্ধি। তাই নিজেদের যাপিত জীবনে ঈমান রক্ষার স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে গভীরভাবে খেয়াল রাখব। 
(১) আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস ও নির্ভেজাল আকিদা পোষণ করা, যাতে নিজের দ্বীন ও ঈমান রক্ষা পায়। 
(২) অন্তরে সদা আখেরাতের চিন্তা জাগ্রত রাখা। এটা করতে হবে বেশি বেশি দ্বীনের আলোচনা শোনা, ইসলামি বইপত্র পড়া এবং নিজের চারপাশ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে। চোখের সামনে কত মানুষ হঠাৎ মৃত্যুবরণ করে। ওপারে পাড়ি জমায়। এজন্য অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, মৃত্যুশয্যায় কাতর লোকদের পাশে বসা, কবর জিয়ারত করা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের কথা মনে করা। 
(৩) দুনিয়ার ভালোবাসা থেকে হৃদয়কে মুক্ত রাখা। দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও টানই অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণ, যা বর্তমান মুসলিম সমাজকে গ্রাস করে নিয়েছে। জড়িয়ে আছে অক্টোপাসের মতো। এর থেকে বাঁচার উপায়, পৃথিবীর ক্ষুদ্রতা প্রত্যক্ষ করা। আল্লাহপাক এ নশ্বর পৃথিবীর হীনতা-নীচতা ও নিকৃষ্ট হওয়ার অনেক উপমা কোরআনে বর্ণনা করেছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৃথিবী একটি মশার পাখা সমানও নয়।’ 
(৪) দুনিয়াদার লোকদের সঙ্গে ওঠবস না করা। কারণ তাদের সঙ্গে চলা কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধির মতো। আল্লাহপাক বলেন, ‘আর চোখ তুলেও তাকাবে না দুনিয়ার জীবনের শান-শওকতের দিকে, যা আমি এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের লোকদের দিয়ে রেখেছি। এসব তো আমি এদের পরীক্ষার মুখোমুখি করার জন্য দিয়েছি। এবং তোমার রবের দেয়া হালাল রিজিকই উত্তম ও অধিকতর স্থায়ী।’ (সূরা ত্বহা : ১৩১)। 
তাই বলা যায়, মানুষ তিন প্রকার : 
(ক) খাদ্যের মতো। যাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা যায় না। এরা হলো শ্রেষ্ঠ বিদ্বান আলেম-ওলামা। ঈমানদার ও দুনিয়াবিমুখ মনীষীরা। এদের সঙ্গে ওঠবস করা, এদের মজলিসে যোগদান করা। কারণ এদের মজলিস জান্নাতের বাগান সাদৃশ্য। 
(খ) ওষুধের মতো। যাদের প্রয়োজন মাঝেমধ্যে পড়ে। এজন্য তাদের সঙ্গে প্রয়োজন অনুপাতে ওঠবস করা। যেমনভাবে আমরা রুজি-রোজগারের সন্ধানে জীবিকার তাগিদে বের হই। খাদ্যের জন্য দোকানপাটে যাই। কাজ শেষে চলে আসি। ঠিক তেমনি এদের সঙ্গে থাকতে হবে। পেছনে পেছনে লেগে থাকা যাবে না। 
(গ) রোগের মতো। যাদের প্রয়োজন কখনও পড়ে না। দেখা দেয় না। এরা হলো পৃথিবীর বুকে নিম্ন শ্রেণির মানুষ। বিলাসবহুল জীবনের অধিকারী। আখেরাতে অবিশ্বাসী। তাই এদের থেকে সতর্ক থাকা। তারা যতই সুন্দর ও সুশোভিত হোক। সাজসজ্জায়, বেশভূষায় নিজের আভিজাত্য ও দুনিয়ার প্রসন্নতা যতই দেখাক না কেনÑ মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। এদের সঙ্গে মেলামেশায় অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদের অহংকার জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে যে ধনী লোকটি তাদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করতে চায় সে হতাশায় ভুগবে। তবে অধিকাংশ দুনিয়াদার লোক আল্লাহর নেয়ামতকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। 
(৫) ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড় সহযোগী। তাই ন্যায়, সৎ ও নিষ্ঠাবান লোকদের সাহচর্য ও মহব্বত কামনা করা। তাদের সঙ্গে নেক কাজে প্রতিযোগিতায় শরিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা অন্যদের ওপর প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চায় তারা যেন এ জিনিসটি হাসিল করার জন্যই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে।’ (সূরা মুতাফফিফিন : ২৬)। 
(৬) শিক্ষার ধারা জারি রাখা। এজন্য চাই একজন বিজ্ঞ নেককার পথপ্রদর্শক। যার অনুসরণ করা হবে। যিনি পথ দেখাবেন। ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে এক এক করে শুধরে দেবেন। পূর্ববর্তী মনীষীরা বলতেন, ‘যদি প্রভুর পর কোনো পথপ্রদর্শক না হতো তাহলে আমি আমার রবকে চিনতে পারতাম না। যদি এমন কোনো পরিবেশে বাস করতে হয় যেখানে কোনো বুজুর্গ লোক নেই। সেখানে আত্মসংবরণের চেষ্টা করা। এবং কোনো পুণ্যাত্মা বুজুর্গ খুঁজতে থাকা। নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ রাখা। ‘আর শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।’ (সূরা দোহা : ৫)। 


ফেসবুকে আজহারীর আবেগঘন স্ট্যাটাস
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তার
বিস্তারিত
ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মোনাজাত
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার। ফজর নামাজের পর
বিস্তারিত
যেমন কর্ম তেমন ফল
আল্লাহ তায়ালা গোটা সৃষ্টিলোককে খুব সুন্দরভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টির
বিস্তারিত
ছামুদ জাতির গল্প এবং আমাদের
আদ জাতির পতনের পর তামাম আরব উপদ্বীপে শৌর্যশালী জাতি হিসেবে
বিস্তারিত
অনুসরণীয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হজরত ফুলতলী
প্রত্যেক জাতি, গোত্র, সমাজ ও দেশে যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা
বিস্তারিত
অসুস্থতায় হোক ঈমান বৃদ্ধি
প্রায় দুই মাস ধরে মায়ের অসুস্থতার পরিচর্যার জন্য ঢাকার আহ্ছানিয়া
বিস্তারিত