অনুসরণীয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হজরত ফুলতলী (রহ.)

ওফাত স্মরণ

প্রত্যেক জাতি, গোত্র, সমাজ ও দেশে যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা মহামানবের আবির্ভাব ঘটে, যারা প্রকৃতিকগতভাবেই আবির্ভূত হন ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় জীবনের অভিভাবক ও দিকনির্দেশক হিসেবে, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চিন্তাচেতনা বিকাশের কর্ণধার, ঐক্য ও ভারসাম্যের প্রতীক, জাতীয় সংহতি ও এর ভিত্তিকে সুদৃঢ় করার চিন্তানায়ক হিসেবে। যারা প্রকৃতি থেকে অর্জিত শাশ্বত সত্যের উপলব্ধি থেকে সুন্দর ও শান্তিময় ইসলামি সমাজ গঠনে সমগ্র জীবনভর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেনÑ এসব ক্ষণজন্মা মহামানবদের মধ্যে আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী (সাহেব কিবলাহ) ফুলতলী (রহ.) অন্যতম। তিনি ছিলেন আমাদের সমাজ ও জাতীয় জীবনে এমন একজন ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিভা, যিনি ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, সাহিত্য, সমাজচিন্তা, রাষ্ট্রনীতি, নৈতিকতা, জীবন ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও ইসলামি জ্ঞান সাধনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিলেন এক পূর্ণমহিরুহ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এর সুদীর্ঘ জীবন সংগ্রাম ও কর্মমুখর প্রাণ চঞ্চলতা ছিল বিভিন্ন জীবন্ত উপাখ্যানে পরিপূর্ণ। আমৃত্যু তিনি দেশ, জাতি এবং মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণ চিন্তায় নিজেকে উৎসর্গ করে যে নজির সৃষ্টি করেছেন, তার তুলনা বিরল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে তাই সব মানুষের হৃদয়ের আকর্ষণ ও মধ্যমণি তিনি। ৯৫ বছরের সুদীর্ঘ জীবনে তার বহুমুখী প্রতিভা, সৃজনশীল কর্মদক্ষতা, পরমতসহিঞ্চুতা, ধর্মীয় উদার দৃষ্টিভঙ্গি, মানবীয় ব্যক্তিত্ব এবং সর্বোপরি তার সহজ-সরল অনাড়ম্বর, নিরহংকার ও নির্লোভ ধর্মীয় জীবন সাধনা তাকে প্রথিতযশারূপে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণে সহায়তা করেছে। বাল্যকালে যে প্রখর মেধার স্ফুরণ, যৌবনকালে যার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ, পড়ন্ত বেলায় তার বৈদগ্ধের দ্যুতি ছিল কিংবদন্তিতুল্য। যে কোনো মানুষকে মুহূর্তে আপন করে নেওয়ার গুণ ছিল তার সহজাত। তাই নিশ্চিতভাবেই তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়, হৃদয়-গভীরে বরণীয়।
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এর জীবন শুধু জ্ঞান সাধনায়ই ভাস্বর ছিল না, কর্মসাধনায়ও ছিল সদা তৎপর। অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর ঐতিহাসিক সাক্ষ্যপুরুষ তিনি। তিনি আমাদের সুদীর্ঘ গৌরবময় ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্যের সত্যান্বেষী কালজয়ী ব্যক্তিত্ব। সর্বোপরি তিনি বিংশ শতাব্দীর দীপ্তিমান ইতিহাস ও জীবন্ত বিশ্বকোষ হিসেবে স্বীকৃত। এ দেশের শিক্ষা আন্দোলনেও তার অবদান অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে তিনি ইলমে কিরাতের জগতে সুবিজ্ঞ বিশারদ হিসেবে সর্বমহলে অর্জন করেছেন ঈর্ষণীয় খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা। কোরআনের এমন অসাধারণ খেদমত তাকে মর্যাদা ও শ্রদ্ধার উচ্চাসনে করেছে সমাসীন। জ্ঞানবিজ্ঞান, সমাজ-সভ্যতা, ধর্ম-দর্শন, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার বিচরণ ছিল স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাবলীল।
আদর্শের প্রশ্নেও তিনি ছিলেন সারা জীবন অবিচল। এ জাতির প্রতিটি সংকট সন্ধিক্ষণে তিনি ছিলেন সাহস সঞ্চারী এক অকুতোভয় সিপাহসালার। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় প্রতিটি দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে তিনি কখনও প্রত্যক্ষ, কখনও পরোক্ষ সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তখন তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে জাতির বিবেক। যখনই ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর আঘাত এসেছে, তখনই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। প্রয়োজনে গড়ে তুলেছেন তীব্র প্রতিরোধ। জীবনের একেবারে শেষদিকে বয়োবৃদ্ধ অবস্থায়ও দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংসের অপকৌশলের বিরুদ্ধে, ফাজিলকে ডিগ্রি ও কামিলকে মাস্টার্সের মান প্রদান এবং স্বতন্ত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সিলেট থেকে সহস্রাধিক গাড়ি বহর নিয়ে তিনি এক ব্যতিক্রমধর্মী লংমার্চ পরিচালনা করেন। ফলে তৎকালীন সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোকে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়। তার এ সাহসী ভূমিকা ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) মানুষের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক তথা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড এবং এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। এ সাধনায় তিনি যে ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েছেন; তাতে রয়েছে দুনিয়ার সব মানুষের জন্য, সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সম্প্রতি ও উদারতার শিক্ষা। একজন সত্যিকার মোমিন তার চিন্তাকর্মে, আচরণে সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দুনিয়ার সব মানুষকে তার আলিঙ্গনে আবদ্ধ করতে পারেন বলেই তিনি সবার প্রিয়, সবার শ্রদ্ধেয়। এ অনুসরণীয় দৃষ্টান্তটি স্থাপন করে গেছেন লাখো-কোটি ভক্তের হৃদয়রাজ্যের মুকুটহীন সম্রাট আল্লামা ফুলতলী (রহ.)।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত