নবীজির হজের একঝলক

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল তা মক্কায়, যাকে বরকতময় ও বিশ্ববাসীর হেদায়েতের দিশারি বানানো হয়েছিল (এ ঘরকে)। এখানে রয়েছে আল্লাহর স্পষ্ট নির্দশনগুলো, (আরও রয়েছে) মাকামে ইবরাহিম। আর এ ঘরে যে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে। মানবজাতির ওপর আল্লাহর জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যে ব্যক্তির এই ঘর পর্যন্ত পৌঁছানোর সামর্থ্য থাকবে, সে যেন এই ঘরের হজ আদায় করে।’ (সূরা আলে-ইমরান : ৯৬-৯৭)।
রাসলুল্লাহ (সা.) হিজরতের দশম বছরে হজ করেছিলেন। এই হজকেই বলা হয় বিদায় হজ। এ হজেই রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম মিল্লাতের উদ্দেশে চূড়ান্ত ভাষণ প্রদান করেন। সব মুসলিম সম্মিলিতভাবে শেষবারের মতো রাসুলুল্লাহকে (সা.) দেখার ও শোনার সুযোগ পায়। মদিনা থেকে তিনি এই একবারই হজ করেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উটে চড়ে হজ করেছিলেন। তাঁর এই হজে কোনো বিলাসিতা ছিল না, নিতান্তই সাদাসিধেভাবে তিনি হজ সম্পন্ন করেছিলেন। সেই হজ এখনকার মতো ভিআইপি হজ ছিল না। আল্লাহর রাসুল (সা.) মুসলিমদের হজের নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করলেন, এরপর যখন তিনি আরাফাতের ময়দানে তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।’ (সূরা মায়িদা : ৩)।
এ আয়াত নাজিল হলে সাহাবিরা কাঁদতে শুরু করেন। তারা বুঝতে পারলেন আল্লাহর রাসুল (সা.) আর বেশিদিন তাদের মাঝে থাকবেন না। ওমরকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি কেন কাঁদছেন। তিনি উত্তর দেন, ‘যখন কোনো কিছুর উত্থান ঘটে আর সেটা পরিপূর্ণতা লাভ করে, এরপর তার শুধু পতনই সম্ভব।’ ওমর বলতে চাচ্ছিলেন, ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। মুসলিমরা এই শ্রেষ্ঠত্ব কিছুকাল ধরে রাখবে, এরপর আস্তে আস্তে তাদের পতন হবে। এজন্যই আমরা বিশ্বাস করি, সাহাবিদের যুগ ছিল শ্রেষ্ঠ সময়, সেই স্বর্ণযুগ আর কখনও ফিরে আসবে না।
মসজিদ আল-হারামে এসেই আল্লাহর রাসুল (সা.) কালো পাথর স্পর্শ করে চুমু খেলেন। এরপর তাওয়াফ শুরু করলেন। প্রথম তিনবারের তাওয়াফ ছিল দ্রুতগতির তাওয়াফ, আর পরের চারবার ছিল সাধারণ গতিতে। এরপর তিনি কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করলেন, ‘আর স্মরণ করো, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে) তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকুকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সূরা বাকারা : ১২৫)।
এরপর তিনি মাকামে ইবরাহিমকে তাঁর আর কাবার মাঝে রেখে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এক রাকাতে সূরা ইখলাস, আরেক রাকাতে সূরা কাফিরুন পাঠ করলেন। এরপর তিনি আবার কালো পাথর স্পর্শ করলেন, চুমু খেলেন। এরপর তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে যেতে থাকলেন আর পাঠ করলেন সূরা বাকারার অন্য একটি আয়াত : ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বাইতুল্লাহর হজ করবে কিংবা ওমরা করবে তার কোনো অপরাধ হবে না যে, সে এগুলোর তাওয়াফ করবে। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কল্যাণ করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ শোকরকারী, সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা : ১৫৮)।

(যারা এবার হজে যেতে ইচ্ছুক, সরকারি ব্যবস্থায় এখনও কোটা খালি রয়েছে। শিগগির আপনার প্রি-রেজিস্ট্রেশন করুন। মৃত্যু আসার আগেই আপনার হজের ফরজ আদায় করুন)


পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত