যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর নির্মাণ হয়

‘জান্নাতের একটি ইট রুপার হবে তো আরেকটি হবে স্বর্ণের। তার প্রলেপ হবে তীব্র সুগন্ধিময় মেশকের। পাথর হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের এবং মাটি হবে জাফরানের। যারা তাতে প্রবেশ করবে সুখে থাকবে, দুঃখী হবে না। চিরস্থায়ী হবে, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। তাদের কাপড় পুরাতন হবে না এ

পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও পরিশ্রম করে। সেজন্য কল্পনাতীত সম্পদ ও মেহনত, সময় ও চিন্তা ব্যয় করে। তদুপরি ঘরটি থাকে জীর্ণ। আর ঘরটি যদিও এসব থেকে বেঁচে যায়; কিন্তু ঘরের মালিক মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারে না। যেহেতু প্রত্যেকেই মৃত্যুযাত্রী। এ ব্যক্তি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করে। সে জানে এসব কিছুই বিলুপ্তিময় এবং তুচ্ছ সামগ্রী। তাই মোমিন আগ্রহী থাকে জান্নাতে ঘর ও প্রাসাদ নির্মাণে। জান্নাতের ঘর-প্রাসাদ আমাদের ঘর-প্রাসাদের মতো নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জান্নাতের একটি ইট রুপার হবে তো আরেকটি হবে স্বর্ণের। তার প্রলেপ হবে তীব্র সুগন্ধিময় মেশকের। পাথর হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের এবং মাটি হবে জাফরানের। যারা তাতে প্রবেশ করবে সুখে থাকবে, দুঃখী হবে না। চিরস্থায়ী হবে, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। তাদের কাপড় পুরাতন হবে না এবং যৌবন শেষ হবে না।’ (তিরমিজি : ২৫৩৬)। হাদিসে কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করেন। আমলগুলো হলোÑ 
(১) মসজিদ নির্মাণ করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, যদিও কবুতরের ডানা পরিমাণ হয়, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ (সহিহুল জামে : ৬১২৮)।
(২) সূরা ইখলাস পড়া
মুয়াজ ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) দশবার পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ (সহিহুল জামে : ৬৪৭২)। অন্য বর্ণনায় রয়েছেÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) পূর্ণ দশবার পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’ 
(৩) সন্তানের ক্ষেত্রে মুসিবতে পড়া অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করা এবং ইন্নালিল্লাহি পড়া
আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কারও সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে নিয়ে এসেছ?’ তারা বলেন, ‘হ্যাঁ’। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তার হৃদয়ের টুকরো নিয়ে এসেছ?’ তারা বলেন, ‘হ্যাঁ’। তিনি বলেন, ‘আমার বান্দা কী বলেছে?’ তারা বলেন, ‘আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহ পড়েছে।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করো এবং তার নাম রাখ, ‘বায়তুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)।’ (তিরমিজি)। 
(৪) বাজারের দোয়া পড়া
ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে এই দোয়া পড়ে : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়ুহয়ী ওয়া য়ুমীত, ওয়া হুয়া হাইয়ুন লা ইয়ামুতু, বি ইয়াদিহিল খাইর ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই্ঈন ক্বাদীর। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য হাজার হাজার নেকি লেখেন। হাজার হাজার সগিরা গোনাহ মাফ করে দেন। হাজার হাজারগুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।’ (তিরমিজি)। 
(৫) নামাজের কাতারে ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করা
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নামাজে ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করে দাঁড়ায়, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।’ 
(৬) ফরজ নামাজের সুন্নতগুলোয় গুরুত্ব দেওয়া
উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিবারাত্রি মিলিয়ে বারো রাকাত (সুন্নত) নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।’ (মুসলিম)। 
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে বারো রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। চার রাকাত জোহরের ফরজের আগে, দুই রাকাত ফরজের পর। দুই রাকাত মাগরিবের পর। দুই রাকাত এশার ফরজের পর এবং দুই রাকাত ফজরের ফরজের আগে।’ (ইবনে মাজাহ)।
(৭) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওপর ঈমান আনা এবং জিহাদ করা
ফুজালা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর ঈমান আনে, ইসলাম গ্রহণ করে ও হিজরত করে, আমি তার জন্য এবং যে ব্যক্তি আমার ওপর ঈমান আনে, ইসলাম গ্রহণ করে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাতের উপকণ্ঠে, মধ্যবর্তী জান্নাতে এবং সর্বোচ্চ জান্নাতে ঘরের জিম্মাদার। যে ব্যক্তি এগুলো করল, সে কল্যাণের কোনো কিছুই ছাড়েনি এবং মন্দ থেকে আশ্রয় গ্রহণের কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। সে যেভাবে চায়, সেভাবেই মৃত্যুবরণ করবে।’ (সুনানে নাসায়ি)। 
(৮) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিবাদ না করা 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঝগড়া ছেড়ে দেবে, যদিও তার ঝগড়ার হক থাকে... আমি জান্নাতের উপকণ্ঠে তার জন্য ঘরের জিম্মাদার।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। 
(৯) ঠাট্টা করেও মিথ্যা না বলা
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঠাট্টার ছলেও মিথ্যা বলা ছেড়ে দিল, তার জন্য আমি জান্নাতের উপকণ্ঠে একটি ঘরের জিম্মাদার।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। 
(১০) সুন্দর আচরণ করা
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঝগড়া ছেড়ে দিল, যদিও সে হকদার হয়; আমি তার জন্য জান্নাতের উপকণ্ঠে ঘরের জিম্মাদার। যে মিথ্যা বলা ছেড়ে দিল, যদিও তা ঠাট্টার ছলে হয়; আমি তার জন্য মধ্যবর্তী জান্নাতে ঘরের জিম্মাদার। এবং যে তার চরিত্র সুন্দর করল, আমি তার জন্য সর্বোচ্চ জান্নাতে ঘরের জিম্মাদার।’ (প্রাগুক্ত)।


আরবি থেকে অনুবাদ উমর ফারুক নোমানি


আল্লাহর ভয় এবং এর প্রভাব
এ জন্য দরকার হৃদয়কে আল্লাহর ভালোবাসায় গড়ে তোলা। আল্লাহর উলুহিয়্যাহ
বিস্তারিত
বৈষম্যহীনতা ইসলামের সৌন্দর্য
বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান মোটিভেশনার বক্তার একটি ছবি সম্প্রতি ফেইসবুকে ভাইরাল
বিস্তারিত
ভালোবাসা আছে দিবস নেই
প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা ও ভক্তি-শ্রদ্ধা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এসব মানবিক গুণ
বিস্তারিত
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও
শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা আলোকপ্রাপ্ত বিবেক ও বুদ্ধির কাজ।
বিস্তারিত
কবি সাহাবি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা
আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা.) এর উপনাম আবু মুহাম্মদ, আবু রাওয়াহা।
বিস্তারিত
সম্পর্ক আবেগ নয় বিবেক দিয়ে
সৃষ্টিলগ্ন থেকেই পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষিত। এ আকর্ষণের অন্যতম অনুঘটক
বিস্তারিত