হত্যা করে লাশের সঙ্গে ৩ দিন একই ঘরে ‘বাস’

চতুর্থ স্ত্রী সামিরা আক্তারকে (২৬) নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন আবদুর রহমান (৫২)। এক রাতে ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করেন সামিরা। পরে মুখমণ্লড অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে লাশ তোশকে মুড়িয়ে লুকিয়ে রাখেন খাটের নিচে। হত্যার পর তিন দিন পর্যন্ত স্বামীর মরদেহ নিয়ে একই বাসায় অবস্থান করেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে কয়েক দফা লাশ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

অবশেষে বাবা-মায়ের সহায়তায় ওই বাসা থেকে পালিয়ে যান। অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি সামিরার। ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। গতকাল সামিরার বরাত দিয়ে এমন রোমহর্ষক তথ্য দেন র‌্যাব-১ গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামিরা ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। সামিরা আক্তার বরিশালের উজিরপুর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে। শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামে বাস করতেন আলী হোসেন।

এর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খ- (প্রশিকার মোড়) এলাকায় তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আবদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, ঘটনার পর আবদুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম সামিরাকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন সামিরার বরাত দিয়ে আরও জানান, স্বামীকে হত্যার তিন দিন পর তিনি কালিয়াকৈরের ফুলবাড়ী এলাকায় এক বান্ধবীর বাসায় দুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় মামার বাসায় যান। সেখানে কিছু দিন অবস্থান করে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় চাচার বাসায় আত্মগোপন করেন সামিরা। কিন্তু কেন স্বামীকে খুন করেন তিনি?

র‌্যার জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিরা জানিয়েছেন- আবদুর রহমান ও তার (সামিরা) বাড়ি একই এলাকায়। ২০১৬ সালে রহমান তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করতেন। সামিরা সেই সময় টঙ্গী সরকারি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পূর্বপরিচিতির সুবাদে রহমানের টঙ্গীর বাসায় থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা দিতেন সামিরা।

এই সুযোগে আবদুর রহমান একদিন সামিরাকে কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করেন। এবং এর ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকেন।

১৯১৮ সালে ওই ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় সামিরার প্রথম স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। ফলে প্রায় বাবার বয়সী আবদুর রহমানকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। পরে তাকে নিয়ে কেওয়া পশ্চিমখ- গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই সামিরা নয়নপুর এলাকায় একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।

র‌্যাব জানায়, বিয়ের পর থেকে ঘটনার দিন পর্যন্ত আবদুর রহমান তার ব্যবসায়িক স্বার্থে আবার কখনো টাকার বিনিময়ে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে স্ত্রী সামিরাকে যৌনকাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স চাইলে সামিরাকে ও তার মা-ভাইকে খুন করার হুমকি দিতেন আবদুর রহমান। এসব কারণে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন সামিরা।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্যবসায়িক অংশীদারকে দিয়ে সামিরাকে জোর করে যৌনকাজে লিপ্ত করান স্বামী। পরে ওই রাতেই ভোর ৩টার দিকে আবদুর রহমানকে হত্যা করেন সামিরা।


মোহাম্মদপুরে ৬ করোনা রোগী শনাক্ত,
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছয়জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পর
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে মাছের আড়তে ভীড়, করোনা
মৎস্য ও শয্যভান্ডার খ্যাত ঐতিহাসিক চলনবিল এলাকায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার
বিস্তারিত
রংপুরে ২০ লাখ টাকার সম্পদ
রংপুর মহানগরীর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নাজির দিগর
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে চাল আত্মসাত: নারীসহ তিন
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের
বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ পেয়ে ফেনীর চিকিৎসকরা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ডাক্তারদের প্রশংসা করছেন। মঙ্গলবার (৭
বিস্তারিত
রূপগঞ্জে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফজলুল হক (৮০) নামে
বিস্তারিত