বাঁশখালীতে হেফজ বিভাগের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই শেষে থানা পুলিশ হস্তান্তরের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সকালে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে জঙ্গল জলদী ঝারকাটা এলাকার শাহ অলি উল্লাহ হেফজখানা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ হাফেজ জমিরকে স্থানীয়রা উত্তম মাধ্যম দিয়ে বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা পুলিশকে খবর দিলে বাঁশখালী থানা সেকেন্ড অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে  পৌর কার্যালয় থেকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত শিক্ষক বাঁশখালী পৌরসভার ১নং ওর্য়াডের ভাদালিয়া এলাকার মোঃ লেদুর পুত্র। 

শিশুটির মা কাজলী বেগম জানান, ‘আমার মেয়ে শিশুটি স্থানীয় শাহ অলি উল্লাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী। বিগত ৮-১০ দিন যাবৎ আমার মেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে পড়তে যেতে চাইত না, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে বিস্তারিত জানতে পারি। মেয়ে আমাকে জানায়, তাকে পূর্বে আরো ২ বার অভিযুক্ত শিক্ষক তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক করেছে। আমি আমার মেয়ে ছোট বিধায় চুক্ষ লজ্জায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলাম এবং সামনে উক্ত মাদ্রাসার সভা শেষে ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে তার বউ-বাচ্চাদেরকে বিচার দেওয়ার জন্য চেয়েছিলাম, কিন্তু সে গতকাল পুনরায় আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায়। সকালে মেয়েকে হেফজখানায় যেতে বল্লে সে যেতে চাইনি বিধায় তাকে মারধর করলাম, পরবর্তীতে মেয়ে আমাকে বিষয়টি ভেঙে বললে আমি তাৎক্ষণিক মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা তাকে ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পৌর কার্যালয়ে খবর দিলে পৌরসভার চৌকিদাররা তাকে পৌরসভায় নিয়ে যায়। আমি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 

অভিযুক্ত শিক্ষক জমির বলেন, আমি এরকম কোন ঘটনা করিনি। মেয়ে মামা আব্বাছের কাছ থেকে আমি টাকা পাই, টাকা দিতে না চাইলে তার সাথে আমার ঝগড়া বিরোধ সৃষ্টি হয়। তারই আমাকে মিথ্যা অভিযোগে মারধর করেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বৃদ্ধা বাবা মোঃ লেদু জানান, আমার একটি মাত্র ছেলে। তার বেতনের টাকা দিয়ে তার ২ পুত্র, স্ত্রী, তার মা এবং আমি চলি। আমার ছেলের ওই রকম কোন ঘটনা কোন শুনিনি। তবু কান্নাজনিত কন্ঠে তিনি বলেন, এই বৃদ্ধা বয়সে এ কি শুনলাম, ইচ্ছা করছে এক্ষুনি মরে যেতে। আমার ছেলে ওই রকম ঘটনা করতে পারে বলে মনে হয় না। আমার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারা মারধর করেছে বলে তিনি জানান।

বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, ঘটনা শুনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে পৌরসভায় নিয়ে আসি। ভিকটিম এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কথা দুই ধরনের হওয়ায় আমরা তাকে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করি। কারণ ধর্ষণের বিচার করা নিয়ম বহির্ভূত।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার জানান, ‘আমরা ভিকটিম এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হবে । অভিযুক্ত শিক্ষক আটক রয়েছেন।


মোহাম্মদপুরে ৬ করোনা রোগী শনাক্ত,
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছয়জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পর
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে মাছের আড়তে ভীড়, করোনা
মৎস্য ও শয্যভান্ডার খ্যাত ঐতিহাসিক চলনবিল এলাকায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার
বিস্তারিত
রংপুরে ২০ লাখ টাকার সম্পদ
রংপুর মহানগরীর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নাজির দিগর
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে চাল আত্মসাত: নারীসহ তিন
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের
বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ পেয়ে ফেনীর চিকিৎসকরা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ডাক্তারদের প্রশংসা করছেন। মঙ্গলবার (৭
বিস্তারিত
রূপগঞ্জে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফজলুল হক (৮০) নামে
বিস্তারিত