হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!

অশান্তির এই দাবানল থামুক। দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টির এই শয়তানি প্রচেষ্টা রুখে দিক শান্তির আহ্বান। যেখানে দুনিয়ায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ছে, অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তামাম এশিয়াজুড়ে হিন্দুত্ববাদীরা তখন এ কোন সর্বনাশা খেলায় মাতছে!

মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলয়ের’ আওতায় থাকত। অর্থাৎ আইনি বিবেচনায় তারা ছিল ‘ঢ়ৎড়ঃবপঃবফ পষধংং ঁহফবৎ ষধ’ি যেহেতু শাসকগোষ্ঠী মুসলমান, ফলত কোনো অমুসলিম যেন কোনোমতেই অত্যাচারের শিকার না হয়, তাই ছিল এই বন্দোবস্ত। এটাই ইসলামের শিক্ষা। সেজন্য ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিম কোনো দাঙ্গা হয়নি। হিন্দুরা জোরপূর্বক ধর্মান্তর কিংবা জাতিগত নিধনের শিকার হয়নি।
পালদের শাসনামলে যে বাঙলা ও বিহারের কমপক্ষে ষাট শতাংশ মানুষ ছিল বৌদ্ধ, সেই অঞ্চলে মাত্র সোয়া শতকের হিন্দু সেন বংশীয় শাসনামলে জাতিগত নিধনের দরুন বৌদ্ধশূণ্য এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এর চেয়ে ছয়গুণ বেশি সময়কাল ধরে নিরঙ্কুশ শাসন করা মুসলিম শাসকরা যদি সে পথে হাঁটত তবে আজ এই উপমহাদেশ হিন্দু শূন্য হতো। এত দীর্ঘকাল মুসলিম শাসনের পরও সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র আট থেকে ১০ শতাংশ।
হিন্দুত্ববাদীদের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক মিথ্যাচারের শিকার যে মহান বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগীর, সেই তিনি ১৬৫৪ সালে এক বাদশাহি ফরমান জারি করে মেবারের রাজপুত শাসক রানা রাজ সিংকে নির্দেশ দেন, ‘যেহেতু ন্যায়পরায়ণ শাসক দুনিয়ায় ¯্রষ্টার ছায়াস্বরূপÑ সুতরাং তার কর্তব্য হচ্ছে ভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এটা নিশ্চিত করা আবশ্যক যে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষই যেন সমৃদ্ধির পথে এগোয় এবং একজনের ওপর যেন অন্যজন হস্তক্ষেপ করতে না পারে।’
একই ফরমানে আওরঙ্গজেব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কেউ বা কোনো শাসক/প্রশাসক এ জাতীয় (সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী) ‘অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় বা পৃষ্ঠপোষকতা করে’ তবে তা হবে ‘দুনিয়ায় খোদায়ী বিধানের বিরুদ্ধাচারণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নামান্তর।’ অর্থাৎ এই অপরাধ বিবেচিত হবে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে।
বাদশাহ আওরঙ্গজেব ফেব্রুয়ারি ১৬৫৯ সালে জারিকৃত এক ফরমানে মন্দিরগুলোকে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দেন, যা ঐতিহাসিকভাবে বেনারস ফরমান নামে পরিচিত। সেই আদেশে তিনি মন্দিরের ব্যাপারে মুঘল কর্মকর্তাদের সর্ববিধ হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদেশ দেন। তিনি ১৬৬১ সালে চিত্রকূটের বালাজি মন্দিরের জন্য আটটি বিশাল গ্রাম এবং আরও বহু করমুক্ত ফসলি জমি বরাদ্দ দেন। একইভাবে বিহার, বৃন্দাবন, নদীয়া, খান্দেশ প্রভৃতি অঞ্চলে তিনি মন্দিরের জন্য বিরাট অনুদান প্রদান করেন।
সেই ভারত রাষ্ট্রটি আজ নিজেকে সেক্যুলার দাবি করেও মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারটুকুনও কেড়ে নিচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রযন্ত্র শাহীনবাগের শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনকারীদের ওপর সর্বোচ্চ জুলুম নিয়ে হাজির হয়েছে। 
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লির অশোক নগরের একটা মসজিদে জয় শ্রী রাম বলতে বলতে একদল লোক আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। মসজিদের মিনারায় হনুমান দেবের ছবিওয়ালা গেরুয়া পতাকা টাঙিয়ে দিচ্ছে। হেন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেখে আন্দাজ হচ্ছে, এ আগুন তারা আরও ছড়িয়ে দিতে চায়। ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে উল্টো সাবধান করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মুসলিমদের ওপর এই গেরুয়া সন্ত্রাসীদের একতরফা আক্রমণ সম্ভবত পুরো উপমহাদেশের স্থিতিশীলতাই হুমকির মুখে ফেলতে যাচ্ছে।
অশান্তির এই দাবানল থামুক। দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টির এই শয়তানি প্রচেষ্টা রুখে দিক শান্তির আহ্বান। যেখানে দুনিয়ায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ছে, অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তামাম এশিয়াজুড়ে হিন্দুত্ববাদীরা তখন এ কোন সর্বনাশা খেলায় মাতছে!


বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতের সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম
বিস্তারিত
জুমাতুল বিদা আজ
আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২৮ তারিখ। আজ জুমাবার। এটাই এ
বিস্তারিত
চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে
চলছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম-সাধনার এ মাস জুড়েই রয়েছে রহমত,
বিস্তারিত
কাল পবিত্র লাইলাতুল কদর
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র 'লাইলাতুল কদর'। মহিমান্বিত এ
বিস্তারিত
১০ বার কোরআন খতমের সওয়াব
একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দিনগুলো।
বিস্তারিত
মাগফিরাতের ১০দিন শুরু এবং আমাদের
আজ থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের ১০ দিন। দুনিয়ার সকল গোনাহগার
বিস্তারিত