তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে

রংপুরে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে

রংপুরের তারাগঞ্জে তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে দশ গ্রাম প্লাবিত হবার ঘটনা ঘটেছে। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামের রাস্তাঘাটসহ প্রায় ৩০০ হেক্টর আবাদি জমি।

রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে যায়। ক্যানেল ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এতে ৩ নম্বর অনন্তপুর ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, হাজিপাড়া, বড়বাড়ি, আখিরারপাড়সহ দশটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফজালুল হক সরকার বলেন, পাড় ভেঙে যাবার পর থেকে পানির তীব্র স্রোতে গ্রামের গ্রামের পর প্লাবিত হচ্ছে। তার নিজের বাড়িসহ গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট, ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট স্রোতের বেগে ভেঙে যাবার উপক্রম হয়েছে। দুপুর ১২টা পানির স্রোত বন্ধ হয়নি। পাড়ের ৫০ ফিটের মতো অংশ ভেঙে গেছে। এতে করে অন্তত আট থেকে দশটি গ্রামের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেল ৫০টি পুকুরের মাছ । পাঁচকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে ।

এদিকে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দাবি, সেচ ক্যানেলের পাড়ের নিচের দিকে মাটি নরম হওয়ায় পাড় ভেঙে যাবার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই পাড়ের পাশে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মাটি নরম ও গর্ত থেকেই তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে গেছে। এতে অন্তত দশ গ্রামের প্রায় ১০০ হেক্টর আবাদি জমি, দুটি ইটভাটা, মৎস্য খামার ও রাস্তাঘাট সবকিছু এখন পানিতে নিমজ্জিত।

পাড় ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হবার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, তিস্তা সেচ ক্যানেল পাড়ের ৪০ ফিটের মতো অংশ ভেঙে গেছে। এতে নিচু এলাকার জমিসহ অন্তত ৩০০ হেক্টর কৃষি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে সকালের মতো এখন স্রোত নেই। দুই একদিন পর বোঝা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, কুর্শা ইউনিয়নের অন্ততপুর ওয়ার্ডে সেচ ক্যানেলের একাংশের পাড় ভেঙে কয়েকটি পাড়া প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ একর কৃষি জমিতে পানি ঢুকেছে। কৃষক ও মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে সকালের মতো এখন পানির বেগ নেই। সন্ধ্যা নাগাদ পানি মেনে যাবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেচ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ বিকেলে বলেন, পানি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামতের চেষ্টা চলছে।

ভেঙে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই এলাকায় ক্যানেলটি খুবই মজবুত ছিল। বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ক্যানেল ফুটো করে জমিতে চুরি করে পানি নেয়। সে কারণেই হোক আর ইঁদুরের গর্তের কারণেই হোক ক্যানেলটি ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশ মেরামতের পর ভেঙে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হবে।


রংপুর বিভাগে করোনায় ১৬ জনের
রংপুর বিভাগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শনিবার সকাল ৮
বিস্তারিত
বরিশালে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল ও মেহেন্দিগঞ্জে করোনা উপসর্গে
বিস্তারিত
বাউফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
পটুয়াখালীর বাউফল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত
বিস্তারিত
করোনায় তিন শতাধিক মৃতকে দাফন
কোভিড-১৯ আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সারাদেশে এমন তিন শতাধিক মরদেহ দাফন
বিস্তারিত
তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে আইনের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে দুই মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাদ্রাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ২ মাদক
বিস্তারিত