অপ্রকাশিত উপসর্গের করোনা রোগীদের দ্বারা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশি হচ্ছে

ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ

ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমানে প্রেষণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  সংক্রামক অনুজীব নিয়ে গবেষণা তাঁর মূল ক্ষেত্র। কোভিড-১৯ যা করোনা নামে সমধিক পরিচিত, এ অনুজীব নিয়ে তিনি বর্তমানে গবেষণা করছেন।

আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ ভাইরাসের উত্থান, বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার এবং মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল, করোনা সংকটজনিত বৈশি^ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। আলাপ করেছেন আহমেদ সুমন।

করোনার উত্থান, লক্ষণ ও বিস্তার
আমরা সকলেই জানি যে, গত বছরের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে অজ্ঞাত জীবাণুর কারণে আশঙ্কাজনক হারে নিউমোনিয়া রোগী পাওয়া যেতে থাকে। পরীক্ষায় এসব রোগীদের দেহে যে জীবাণু পাওয়া যায় তা জিনোম সিকোয়েন্সিং এর মাধ্যমে  সার্স-কোভ-২ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে এই মহামারি রোগকে কোভিড-১৯ নামে অভিহিত করে। এই ভাইরাসটি পরবর্তী সময়ে বিশ্বের ২১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১১ মে ২০২০ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ২২৮জন এবং সারাবিশে^ ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। চীনের পর ইউরোপ এবং আমেরিকায় এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এরপর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। তবে চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তুলনামূলক কম প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষত বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব পরে শুরু হওয়ায় প্রস্তুতিতে খানিকটা সময়ও পাওয়া যায়। করোনার লক্ষণ সার্স- কোভ-২ দ্বারা সংক্রমিত  রোগীদের বেশির ভাগই জ্বর, শুষ্ক কাশি, গলাব্যথা হয়ে থাকে। কিছুক্ষেত্রে এটি গুরুতর নিউমোনিয়া, সেপটিক শক, পালমোনারি ওডাইমা, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার সিন্ড্রোম, রক্ত জমাটবাধা এবং অঙ্গ বিকলসহ মারাত্মক অবস্থারও সৃষ্টি করতে পারে। হতে পারে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, অঙ্গ ব্যথা, টাইফয়েড, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এন্ডোক্রাইন এবং হজমের সমস্যাও। কোন  কোন ক্ষেত্রে  পেটেব্যথা, মাথা ঘোরা, অ্যানোফিলিসের বহি:প্রকাশও ঘটতে পারে। প্রধানত সংক্রমন হাঁচি, কাশি (শ্বাসযন্ত্রের মাইক্রোফোঁটা) এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে ঘটে। ভারতের বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে শনাক্তকৃত ৮০ ভাগ কোভিড-১৯ রোগীর কোনো ধরনের উপসর্গ নেই। এ সংখ্যাটা বাংলাদেশে কতো, তা এখনো নির্ণয় সম্ভব হয়নি। এ ভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দেয় না। আবার  দেখা দিলেও তা স্বল্প মাত্রায়, যা অনেক সময় মানুষ অগ্রাহ্য করে। এরফলে যেটা হচ্ছে তা হলো আক্রান্ত ব্যক্তির কোন লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় আক্রান্ত বুঝে- না বুঝে সচরাচর যা করার সবই করছে। এদিক-সেদিক যাচ্ছে, লোকজনের সঙ্গে মিশছে। এবং তার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়াও ফিকাল-ওরাল ট্রান্সমিশন সংক্রামিত রোগীদের প্রস্রাব এবং মল দ্বারাও অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশ একটি অন্যতম জনঘনত্বের দেশ
বাংলাদেশের জনসংখ্যা সতের কোটিরও বেশি। জনসংখ্যার দিক  থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল দেশ। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২.১% বাস করে এই ছোট্ট ভূখন্ডে। বাংলাদেশ আয়তনে পৃথিবীর ৯২তম দেশ। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ০.১% ভাগ। বিশ্বের অপরাপর কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা লক্ষ করি রাশিয়া আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বৃহৎ। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের ১১% ভাগ। এই বিশাল রাষ্ট্রটি বাংলাদেশের চেয়ে ১১৫ গুণ বেশি। অথচ রাশিয়ার জনসংখ্যা বাংলাদেশের থেকে কম। প্রথম দশটি জনবহুল দেশের মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বে আমরা অবিসংবাদিতভাবে শীর্ষে। বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১ হাজার ২৬৫জন বসবাস করে, যা চীন, ভারত থেকেও অনেকগুণ বেশি। জনঘনত্বের এই হার রাশিয়া থেকে ১৪০গুণ বেশি। আমরা যদি রূপক অর্থে বলি তাহলে বলতে পারি রাশিয়ায় একটা ঘরে যদি একজন লোক বাস করে, বাংলাদেশে একই সাইজের সেই ঘরে গড়ে ১৪০জন বাস করে। আমরা স্মরণ করতে পারি যে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে ৭ মার্চ ২০২০ তারিখে। আমরা লক্ষ করছি যে, মার্চ মাসের শেষের দিক পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগী কম পাওয়া গেলেও এপ্রিল মাসে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। এর কারণ হলো কোভিড-১৯ এখন সারা দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনঘত্বের দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেলে কোভিড-১৯ এর মহামারি যে পরিমাণে হওয়ার কথা, আমাদের  সৌভাগ্য সেটা এখনো সেই মাত্রায় দেখা যায়নি। তবে এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, এই মহামারি স্বরূপে দেখা দিবে না।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ
কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এখন  বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বলছে, করোনার কারণে চলতি বছরে বাণিজ্য-বিনিময় ১৩ থেকে ২৩ শতাংশ কমে যাবে। ১৯৩০ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে করোনা বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে-পড়ায় মহামারি আরও ভয়াবহ ও ইতিহাসের বৃহত্তম অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। বাংলাদেশের জন্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আরও জরুরি। করোনা ভাইরাসজনিত সংকটে নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। করোনা ভাইরাসটি আমাদের কাছে নতুন এবং আমরা প্রতিনিয়ত এর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানছি। এই ভাইরাস সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

কারণ অনেক আগাম মন্তব্যের প্রতিফলন ঘটছে না। ফলে এর শেষ  কোথায় তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কারোনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, আগামী ছয় মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে আনুমানিক  দেড় কোটি মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তার যোগান দিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বিশেষত শিল্প ও কৃষি খাতে) অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা/সহযোগিতার ঘোষণা করেছেন, যা  ইতিবাচক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণোদনা কাকে, কি পরিমাণে, কোন প্রক্রিয়ায় দেয়া হবে তার সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো অর্থনীতি ।

বাংলাদেশের প্রান্তিক বা নিম্ন আয়ের মানুষজনতো বটেই, এসময়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং কিছু সংখ্যক মধ্যবিত্ত মানুষজনও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়তো হয়েছেন। সরকার, প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবান সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজন। এদের ক্ষুধার কষ্ট দূর করা সবচেয়ে জরুরি। ভূক্তভোগী মাত্রই জানেন যে, শ্বাসকষ্টের তুলনায় ক্ষুধার কষ্ট কম নয়। আশেপাশের গরীব পরিবারটি  কোনো সহযোগিতা পেয়েছে কী না, তারা খেতে পারছে কী না, তা আমাদের খোঁজ নিতে হবে। মধ্যবিত্ত যারা হাত পাততে পারছে না, তাদের সহায়তা সামগ্রি বা ত্রাণ ঘরে পৌঁছানোর নিশ্চিত করা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে খুব সচেতন।

তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন ও জীবিকা দুই বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন।  কোভিড-১৯ এর প্রভাবে অর্থনীতি যাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বাঁচাতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অভিজিত ব্যানার্জি ২৩ এপ্রিল অতিরিক্ত নোট ছাপিয়ে তা মানুষের হাতে দেয়ার যে সুপারিশ করেছেন, করোনা সংকটের চলমান ধারাবাহিকতার কোন এক পর্যায়ে আমাদের তাও করতে হতে পারে। সে পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হবে।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশি ভোগাবে
আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময় প্রেস ব্রিফিং এ কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ভয়াবহতা তুলে ধরে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই আমরা সেই কথা কানে নেইনি এবং খুব একটা সতর্কও হয়নি। ফলে যা সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তাই সংগঠিত হয়েছে। এখন  পেছনে না তাকিয়ে সামনে তাকাতে হবে। এই মুহুর্তে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যেসব দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে, সেসব দেশের ট্রান্সমিশন ডাইনামিক্সের করোনা সঞ্চালন পর্যবেক্ষণ এক্ষেত্রে ফলদায়ক হতে পারে। এটি  দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর হবে বলে মনে করি। উপযুক্ত মডেলিং দ্বারা কোভিড-১৯ এর পূর্বাভাসও জানতে হবে। সংক্রামক সূচকের বৃদ্ধি-কমানো এবং স্থিতিশীল মাত্রা পেতে সর্বাধিক অনুমোদিত দৈনিক বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করতে হবে। আরও মনোযোগ দিতে হবে যারা আপাতদৃষ্টে সুস্থ কিন্তু ইতোমধ্যে  ভেতরে ভেতরে আক্রান্ত, তাদের সনাক্ত করা। অপ্রকাশিত উপসর্গের করোনা রোগীদের দ্বারা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশি হচ্ছে। এটি এখন উদ্বেগের কারণ। করোনা রোগীর যে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার পেছনে এ রোগ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো লোকজনই দায়ী। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হটস্পটগুলোর জনসমাগত ভেঙ্গে দিতে হবে। শুধু রাজধানী ঢাকাতে না, গুরুতর রোগীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপি, মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন এবং আইসিইউ সারাদেশে পর্যাপ্ত পরিমানে রাখা উচিত। সংক্রমণের গ্রাফ আনুভূমিক করার এই সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এরফলে আমরা সময় পাব সারা দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত করার।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমনোর পরিকল্পনা জরুরি
প্রতিদিন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। আমরা লক্ষ করছি যে, আক্রান্তের সংখ্যার সূচক উর্ধ্বগতিতে রয়েছে। বর্তমান এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলো আরও খারাপ ফল বয়ে আনবে। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের। কোভিড-১৯ সনাক্তকরণে অবিরাম পরীক্ষা চালাতে হবে। পরীক্ষা যতো বেশি হবে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ততো কম হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কথা বলছে। আসলে করোনার পরীক্ষা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত উহান থেকে সৃষ্ট ভাইরাসটি এক হাজার ৪০২টি মিউটেশন হয়েছে। যার ফলে এই ভাইরাসের প্রোটিনের মধ্যে ৭২২টি পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের কোন কোন অংশ ভাইরাসটিকে আরও বেশি সংক্রামক এবং ক্ষতিকর করে তুলতে পারে। এত বেশি সংখ্যক মিউটেশনের ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে আগাম মন্তব্য কাজে আসছে না।

সম্প্রতি পিএনএএস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নোভেল করোনা ভাইরাসের তিনটি প্রধান ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে- এ, বি, সি। গবেষকগণ অ্যামিনো অ্যাসিডের পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে এই দাবি করেছেন। টাইপ বি পাওয়া যাচ্ছে পূর্ব-এশিয়ার দেশগুলোতে। এ আর সি মূলত পূর্ব-এশিয়ার বাইরে, ইউরোপে আর আমেরিকাতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কোন ধরনের সার্স-কোভ-২ টাইপ ভাইরাস আছে বা কোন ধরনের মিউটেশনের মাধ্যমে এটি পরিবর্তিত হচ্ছে, তা জানা যায়নি। এখন এটি জানা জরুরি হয়ে পড়ছে।  কারণ এটি আমাদের জনগোষ্ঠির জন্য টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে হয়তো অন্য দেশে থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিন এক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে। বাংলাদেশেও এ নিয়ে গবেষণা শুরু করতে হবে। আমি মনে করি এজন্য বাংলাদেশেই এর ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। সকলেই খুশি হবেন যে, বাংলাদেশে এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করার মতো গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন। সমস্যা অন্য জায়গায়। সেটা হলো এ গবেষণা চালিয়ে নেওয়ার মত মানসম্পন্ন গবেষণাগার বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। গবেষণা বিশেষত বায়োলজিক্যাল গবেষণার ওপর জোর দিয়েই করোনা পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের এখনই রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন
আমরা লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশ সরকার করোনার মহামারি বিস্তার রোধে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ওইসব পদক্ষেপে উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে  যেগুলো অনুপস্থিত সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে। এজন্য আমরা বিশেষায়িত এবং দক্ষ কর্মীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি অণুজীববিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্ট, রোগতত্ত্ববিদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের এই করোনা মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। করোনা জয় করার শক্তি আমাদের হাতেই। এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কমানোর লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, স্ববিচ্ছিন্নতা, সামাজিক দূরত্ব এবং প্রয়োজনে কার্যকর লক-ডাউন নিয়ে আরও ভাবতে হবে। আর এই ভাবনা এবং বাস্তবায়ন ততোদিন অব্যাহত রাখতে হবে, যতো দিন পর্যন্ত এর কার্যকর ঔষধ বা ভ্যাকসিন আবিস্কার না হচ্ছে।


রক্ত জমাট বাঁধা: করোনায় মৃত্যুর
পঞ্চাশ বয়সের একজন ভদ্রলোক হাসপাতালে ভর্তি হন কভিড ১৯ পজিটিভ
বিস্তারিত
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা, দুটি
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা- দুটি কি একই সাথে সম্ভব? যদি
বিস্তারিত
করোনা প্রতিরোধে অন্তরের অসুখ নিরাময়
মানুষের অসুস্থতা প্রধানত দুই প্রকার, শারীরিক ও মানসিক। বিশ্বস্বাস্থ সংস্থা
বিস্তারিত
আমাদের চার পাশে হাজারো দু’পায়ের
আপনি পবিত্র রমজান মাসে কতজন লোককে সাহায্য করেছেন? একজন? দুইজন?
বিস্তারিত
সাংবাদিকতা ছাড়া কিছুতেই আর আনন্দ
বেশিরভাগ প্রতিবেদন প্রচার হবার পরে এক শ্রেণির তীর্যক তীর প্রতিহত
বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমান সংকট
  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছিল
বিস্তারিত