ইউএনও’র দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে তালতলী

একজন দায়িত্বশীল সরকারী কর্মকর্তাই পারে তার শ্রম, মেধা ও দক্ষতার সাথে উপজেলার পরিবর্তন আনতে। যার বাস্তব উদারণ হচ্ছে বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান। যার দায়িত্বশীল নেতৃত্বে এ উপজেলার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বদলে যেতে শুরু করেছে সব স্তরের দৃশ্যপট।

জানা যায়, মো: আসাদুজ্জামান ৩৩তম বিসিএস (প্রশাসন)-এর একজন কর্মকর্তা। ২০১৪ সালে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে টাঙ্গাইল প্রশাসনে তার কর্ম জীবন শুরু করেন। সেখানে এনডিসি হিসেবে দেড় বছর সুনামের সাথে কর্ম, বিভিন্ন স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন, বালুমহল, ড্রেজার, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজালের, মোটরযান এর উপর ব্যাপক প্রসারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

এরপর ২০১৮ সালে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে পদায়ন হয় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। সেখানেও ভূমি ব্যাবস্থাপনা, ই মিউটেশন বাস্তবায়ন, কৃষি খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সেখানেই ২০১৮ সংসদ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করেন। একই সালে বদলী হন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রায় ১০ মাস দ্বায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে বরগুনায় পদায়ন হয়। ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে বর্তমানের করোনা পরিস্থিতি তে তিনি দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২০২০সালের ২১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। এর পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বরগুনার তালতলী উপজেলায় পদায়ন করা হয়।

২৩ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে তিনি যোগদান করেন। তাঁর যোগদানে পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন কর্মকান্ড নব রুপে রুপান্তরিত হতে শুরু করেছে। যা এই ২৫ দিনেই তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দেখে উপজেলাবাসী সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তার প্রশাংসায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক।

উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ হতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধক ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহন করেছে ইউএনও। দিন-রাত মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। আবার কখনো করোন ভাইরাসের কারনে সাধারন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বাজার মনিটরিং করছেন। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ কাজ করছেন।

একটি শিশু দীর্ঘদিন একটি হুইল চেয়ার না থাকায় লোহার রড ও কাঠ দিয়ে কোনো মতে কষ্টে থাকতো এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে পোস্ট দেখে এক প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইল চেয়ার দিয়ে আসেন তিনি নিজেই। করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন একটি পরিবার দীর্ঘদিন অর্ধাহারে থাকায় একটি নিউজ প্রকাশ হলে তা দেখে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে রাতের আধারে পৌছে যায় সেই পরিবারটির বাড়িতে।
এছাড়াও ৩৩৩ কল পেয়ে ৩৬জন শিক্ষার্থীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উপহার খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন তিনি। এদিকে সরকারি নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে ৩মাসের সাজা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানাও করা হয় । এমন অনেক কে সতর্ক করেছেন । এছাড়াও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে তার রাত-দিন তৎপরতায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

করোনার কারণে কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও আসাদুজ্জামান নিজে উপস্থিত থেকে এই কাজ পরিচালনা করছেন। খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের দুয়ারে। রাতে আধাঁরে অসহায় মানুষের দুয়ারে খাবার নিয়ে উপস্তিত হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক হাফিজ আল মামুন বলেন, দেশের এমন দুর্যোগময় মুহূর্তে সত্যিই তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। মাত্র ২৫ দিনেই তালতলী উপজেলা দৃশ্যপট পাল্টে দিচ্ছেন তিনি। দেশের জন্য-দশের জন্য এ ধরনের নিবেদিতপ্রাণ ইউএনও সব উপজেলায় থাকলে দেশের মানুষ উপকৃত হতে পারতো।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শ ক্রমে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ স্যারের নির্দেশানা মোতাবেক আমরা উপজেলা প্রশাসন কার্যকরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তালতলী পুলিশ, নৌবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে কাজ করছি। মহান আল্লাহর রহমতে তালতলী উপজেলা এখনো করোনা মুক্ত আছে।

লেখক- খাইরুল ইসলাম আকাশ, গণমাধ্যমকর্মী।


করোনায় গৃহবন্দীর জবানবন্দি ও মুক্তির
কারাগারের বন্দীরাও মনে হয় সীমিত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। কিন্তু
বিস্তারিত
সোশ্যাল স্টিগ্মা যখন কোভিড ১৯
যুগে যুগে বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ কনসেপ্টটি ‘ঈশ্বর প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়’
বিস্তারিত
জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু
১৯৭৩ সালের ২৩ মে বাংলাদেশ জাতীয়  সংসদের উত্তর প্লাজায় উন্মুক্ত
বিস্তারিত
ওকে ভালোবাসি বলেই হয়তো বেঁচে
ছাত্র জীবনে একটা বড়সড় বন্ধু মহল ছিলো, প্রেম, আড্ডা, গল্প,
বিস্তারিত
করোনা যুদ্ধে ক্লান্তিহীন যোদ্ধা সেলিম
দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যে আকার ধারণ করছে এতে বাদ
বিস্তারিত
করোনাকালে স্বাভাবিক মৃত্যুও বিড়ম্বনাময়
করোনার ছোবলে সমগ্র পৃথিবী থমকে গেছে। খবর এখন একটাই তা
বিস্তারিত