ওকে ভালোবাসি বলেই হয়তো বেঁচে আছি

সাইফ আল মামুন ও তার ছেলে আদভিক আল আরাফ

ছাত্র জীবনে একটা বড়সড় বন্ধু মহল ছিলো, প্রেম, আড্ডা, গল্প, সব মিলিয়ে বেশ একটা ভালো সময় ছিলো। সামান্য ভালোবাসার দেনাপাওনায় সে সম্পর্কটা চুকে যায়, আর এমনিতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তারপরে তিনটি বছর কেটেছে বিভিন্ন শুটিং হাউজে, ওখানে জীবনটা একটা অদ্ভুত রকমের সুন্দর, যদি কেউ তা উপভোগ করতে পারে, প্রতিটা মুহূর্ত একটা সুরেলা অ্যালার্ম ঘড়ির মতো।

হঠাৎ করেই বিয়ে, তারপরে কেমন একটা সংসার সংসার ভাব চলে আসে, আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করলাম দায়িত্ব শব্দটার ফুল মিনিং টা কি। সংসারের মুখ উজ্জ্বল করে ছেলে আসার পর আমি সংসারী হয়ে গেলাম, বাবা-মা, বোন, ছেলে, বউ, ঘরবাড়ি মেরামত, পরিচর্যা করার দায়িত্ব আমার মাথার উপরে, সব ছেড়ে নাড়ির টানে ঘরবন্দি, কেমন যেন মনে হয় আলো আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, মাথার উপরে সারাক্ষণ ফ্যান ঘুরছে ভন ভন করে, কানের কাছে হাজার দায়িত্বের বাঁশি বাজছে, ক্লান্ত হয়ে পরছি আমি। মাথাটা সারাক্ষণ ঝিম ধরে থাকে কতকিছু ভাবি, কিন্তু কোন সীমানা পাইনা। আবেগ-অনুভূতি প্রেম-ভালোবাসা গুলি হারিয়ে যাচ্ছে, আমি কল্পনা করতে, গল্প ভাবতে ভুলে যাচ্ছি, কোন গল্পের বই নিয়ে পড়তে বসলেও তা কেমন যেন মাথার উপর দিয়ে যায়, বুঝতে খুব কষ্ট হয়। সর্বদা একটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি, কেমন জানি প্রত্যেক ক্ষেত্রে মনে হয় আমি ব্যর্থ।

একটা সময় ছিল যখন জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, সেটা আমার বন্ধু বান্ধবের কিংবা পাড়া-প্রতিবেশীর বা পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত  মানুষ যারই হোকনা কেন, অনেক উৎসাহ নিয়ে, অনেক আনন্দ নিয়ে পালন করতাম। এখন আর উৎসবকে আর উৎসব মনে হয়না, সব দায়িত্ব-কর্তব্য। কেউ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে অবাক হই, অদ্ভুত!! আজ আমার জন্মদিন ছিল নাকি।

অনেকদিন হয়ে গেছে মদ খাইনি খুব মদ খেতে ইচ্ছে করছে, খুব ইচ্ছা করছে ক্যামেরার ফ্রেমে গল্প বুনতে, চিত্রনাট্য নিয়ে সারা রাত পার করে দিতে, ইচ্ছে করছে সারারাত রাস্তায় ব্যস্ত থাকি, যেখানে বাসায় যাবার জন্য মোবাইল বেঁজে উঠবেনা। ইচ্ছে করে সারারাত জোসনা দেখি আর সিগারেটের ধোঁয়া উড়াই, কেউ পিছন থেকে ডাকবে না। এমন অনেক ইচ্ছে প্রকাশে আমি এখন ব্যর্থ, আমাকে প্রতিটা কথার আগে ভাবতে হয় আমি ঠিক কি বলছি, আমার কথায় আবার আগুন নেইতো।

তবে সান্তনার বাক্য ভালো আছি, আমার ছেলেটা তার মায়ের থেকে বাবাকে বেশি ভালোবাসে, বাবা ছাড়া রাতে ঘুমোতে কষ্ট হয় ওর, ঘুম থেকে উঠে বাবাকে না দেখলেও মন খারাপ হয়, আমার যখন খুব কষ্ট হয় ওকে বুকে জড়িয়ে ধরি, কষ্টটা অনেকাংশেই কমে যায়, ওকে ভালোবাসি বলেই হয়তো বেঁচে আছি, চোখের কোণে খুশির জল আসে মাঝে মাঝে।

তবে বড্ড একা লাগে আমার, নিজেকে কেবলই একা মনে হয়।

লেখক- সাইফ আল মামুন, সহকারী পরিচালক, সিনেমাস্কোপ।


মোহিত কামালের টুকরো গল্প ‘উপকার’
একা একা ঘাস আর গাছের  কচি কচি লতাপাতা খাচ্ছিল জেব্রা।
বিস্তারিত
তামাক ও নিকোটিন থেকে তরুণদের
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস আজ ৩১
বিস্তারিত
রক্ত জমাট বাঁধা: করোনায় মৃত্যুর
পঞ্চাশ বয়সের একজন ভদ্রলোক হাসপাতালে ভর্তি হন কভিড ১৯ পজিটিভ
বিস্তারিত
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা, দুটি
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা- দুটি কি একই সাথে সম্ভব? যদি
বিস্তারিত
করোনা প্রতিরোধে অন্তরের অসুখ নিরাময়
মানুষের অসুস্থতা প্রধানত দুই প্রকার, শারীরিক ও মানসিক। বিশ্বস্বাস্থ সংস্থা
বিস্তারিত
আমাদের চার পাশে হাজারো দু’পায়ের
আপনি পবিত্র রমজান মাসে কতজন লোককে সাহায্য করেছেন? একজন? দুইজন?
বিস্তারিত