logo
প্রকাশ: ০৯:৫৯:০৫ PM, সোমবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৬
পূর্ণ বিশ্রামে সৈয়দ শামসুল হক
অনলাইন রিপোর্ট

দেশে ফিরেছেন গেল শুক্রবার। মৃত্যুর দিনক্ষণ মাথায় নিয়েই তার দেশে ফেরা। যে ক’দিন বাঁচবেন, প্রিয় মাতৃভূমির পরম মমতা নিয়েই বাঁচবেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে বন্ধুবর নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে এমন আকুতিই জানিয়েছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

অসুস্থ কবি গুলশানের বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। চলাফেরা সীমিত। আত্মীয়-স্বজন, ঘনিষ্টজন ছাড়া কেউ সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। টেলিফোন, মোবাইল ফোনেও কথা কমিয়ে দিয়েছেন কবি। তবে লেখার কাজ অব্যহত রেখেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

লন্ডন থেকে গত বৃহস্পতিবার যাত্রা করে শুক্রবার সকালে ঢাকা পৌঁছান সৈয়দ হক। সৈয়দ শামসুল হকের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন নাট্যকার নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। লন্ডন থেকে তাকে বিদায় জানানোর পর নাসির উদ্দীন ইউসুফ ফেসবুকে লেখেন, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক লন্ডন এসেছিলেন ফুসফুসে কর্কট রোগের চিকিৎসার জন্য। প্রায় তিন মাস অসফল চিকিৎসার পর ফিরে যাচ্ছেন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে।

ডাক্তারদের মন খারাপ করা ঘোষণা মাত্র ছয় মাস কবির জীবন। জীবনের এ অন্তিমকাল কবি কাটাতে চান নিজ বাসভূমে। জল-কাদায় নিমগ্ন বাংলাদেশে, বন্ধু-স্বজনদের সান্নিধ্যে।

বিষাদে ভরা বিদায়ের মুহূর্ত স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, বাংলা শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রধানতম এ কবি-নাট্যকার বিজয়ীর মতো ফিরে গেলেন মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে। চোখে অশ্রু, মুখে নতুন নাটক লেখার প্রত্যয় নিয়ে ধীরে অপেক্ষমাণ বিমানে আরোহণের লক্ষ্যে অদৃশ্য হলেন প্রিয় হক ভাই। পেছনে আমরা মন খারাপ করে হিথ্রো বিমানবন্দরে পড়ে থাকলাম।
 
ফুসফুসে কর্কট রোগের ছোবল বসেছে অনেক দিন আগেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য সৈয়দ শামসুল হক গত ১৫ এপ্রিল স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হককে নিয়ে লন্ডন যাত্রা করেন। সেখানে রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু লাভ হয়নি খুব একটা। সেখানেও চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, আর কিছু করার নেই।

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে এক স্মরণসভায় অংশ নেন এই লেখক।
 
কবিতা, নাটক, গল্প-উপন্যাসসহ সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণকারী সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া এই সাহিত্যিকের হাত দিয়ে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ বহু পাঠকপ্রিয় বই এসেছে। তার লেখা নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরুল দীনের সারাজীবন’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]